কর্মজীবনে নিয়মিত আয় থাকলেও অবসরের পর সেই আয় একইভাবে থাকবে, এমন নিশ্চয়তা সবার নেই। বিশেষ করে বেসরকারি চাকরিজীবী, ক্ষুদ্র ব্যবসায়ী, কৃষক, স্বনিয়োজিত ব্যক্তি এবং প্রবাসীদের বড় একটি অংশের জন্য অবসরকালীন নিয়মিত আয়ের ব্যবস্থা আগে তুলনামূলক সীমিত ছিল। বাংলাদেশের সর্বজনীন পেনশন ব্যবস্থা এই জায়গায় দীর্ঘমেয়াদি সঞ্চয়কে মাসিক পেনশনে রূপ দেওয়ার একটি কাঠামো তৈরি করেছে।
তবে শুধু পেনশন স্কিমে যোগ দিলেই হবে না। আপনার পেশা, বর্তমান আয়, মাসে কত টাকা নিয়মিত জমা দিতে পারবেন এবং কত বছর চাঁদা দেওয়ার সুযোগ রয়েছে, এসব বিবেচনা করে নিজের জন্য প্রযোজ্য স্কিম ও চাঁদার স্তর নির্বাচন করা প্রয়োজন। সবচেয়ে বেশি চাঁদার স্তর সবার আর্থিক অবস্থার সঙ্গে মানানসই নাও হতে পারে। তাই দীর্ঘ সময় নিয়মিত চালিয়ে নেওয়া সম্ভব এমন পরিমাণ নির্বাচন করাই বাস্তবসম্মত।
২৬ সেপ্টেম্বর ২০২৬ পর্যন্ত জাতীয় পেনশন কর্তৃপক্ষের তথ্য অনুযায়ী, বর্তমানে প্রবাস, প্রগতি, সুরক্ষা ও সমতা এই চারটি স্কিমে নিবন্ধন কার্যক্রম চালু রয়েছে। ২৩ সেপ্টেম্বর ২০২৬ পর্যন্ত মোট নিবন্ধনকারীর সংখ্যা ছিল ৩ লাখ ৭৯ হাজার ৭২৮ জন। সরকারি ট্রেজারি বন্ডে মোট বিনিয়োগের পরিমাণও ৩২২ কোটির বেশি হয়েছে।
সর্বজনীন পেনশন ব্যবস্থা কীভাবে কাজ করে?
সাধারণভাবে ১৮ থেকে ৫০ বছর বয়সী বাংলাদেশি নাগরিক সর্বজনীন পেনশন ব্যবস্থায় অংশ নিতে পারেন। ৫০ বছরের বেশি বয়সীদের জন্যও বিশেষ সুযোগ রয়েছে। সে ক্ষেত্রে কমপক্ষে ১০ বছর নিরবচ্ছিন্নভাবে চাঁদা দেওয়ার পর আজীবন মাসিক পেনশন পাওয়ার সুযোগ তৈরি হয়। অর্থাৎ ৫৫ বছর বয়সে কেউ যোগ দিলে তাকে সাধারণত অন্তত ১০ বছর চাঁদা দেওয়ার বিষয়টি বিবেচনায় রাখতে হবে।
প্রতিটি নিবন্ধিত ব্যক্তির জন্য আলাদা পেনশন হিসাব থাকে। জমা হওয়া অর্থ প্রযোজ্য বিনিয়োগ বিধিমালার অধীনে বিনিয়োগ করা হয় এবং নির্ধারিত মুনাফা সংশ্লিষ্ট হিসাবে যুক্ত হয়। ১৭ সেপ্টেম্বর ২০২৬ জাতীয় পেনশন কর্তৃপক্ষের পরিচালনা পর্ষদ ২০২৫-২৬ অর্থবছরের বিনিয়োগের বিপরীতে চাঁদাদাতাদের মুনাফার হার ১১.৭২ শতাংশ অনুমোদন করেছে। এই হার নির্দিষ্ট অর্থবছরের জন্য প্রযোজ্য; ভবিষ্যতের অর্থবছরে বিনিয়োগের ফল ও কর্তৃপক্ষের সিদ্ধান্ত অনুযায়ী মুনাফার হার পরিবর্তিত হতে পারে।
বর্তমানে কোন কোন পেনশন স্কিম রয়েছে?
| স্কিম | কার জন্য | বর্তমান মাসিক জমার স্তর |
|---|---|---|
| প্রবাস | বিদেশে কর্মরত বা অবস্থানরত বাংলাদেশি | ১,০০০, ২,০০০, ৫,০০০, ৭,৫০০ ও ১০,০০০ টাকা |
| প্রগতি | বেসরকারি প্রতিষ্ঠানের কর্মচারী ও মালিক | ১,০০০, ২,০০০, ৩,০০০, ৫,০০০, ১০,০০০ ও ১৫,০০০ টাকা। আউটসোর্সিং সেবা কর্মীদের জন্য ৫০০ টাকার স্তর রয়েছে |
| সুরক্ষা | স্বকর্মে নিয়োজিত ও অপ্রাতিষ্ঠানিক খাতের কর্মী | ১,০০০, ২,০০০, ৩,০০০ ও ৫,০০০ টাকা |
| সমতা | নির্ধারিত সীমার স্বল্প আয়ের নাগরিক | মোট ১,০০০ টাকা, যার ৫০০ টাকা চাঁদাদাতা এবং ৫০০ টাকা সরকার দেয় |
জাতীয় পেনশন কর্তৃপক্ষের বর্তমান প্যাকেজ তালিকায় এই হারগুলো দেখানো হচ্ছে। ফলে পুরোনো কোনো নিবন্ধ, ভিডিও বা সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমের তথ্যের পরিবর্তে আবেদন করার সময় বর্তমান সরকারি হার যাচাই করা গুরুত্বপূর্ণ।
আপনি প্রবাসী হলে প্রবাস স্কিম
বিদেশে কর্মরত বা অবস্থানরত বাংলাদেশি নাগরিকদের জন্য প্রবাস স্কিম তৈরি করা হয়েছে। বর্তমানে মাসে ১,০০০ টাকা সমমূল্য থেকে শুরু করে ১০,০০০ টাকা পর্যন্ত বিভিন্ন স্তর রয়েছে। বৈদেশিক মুদ্রায় পাঠানো যোগ্য চাঁদার ক্ষেত্রে ২.৫ শতাংশ প্রণোদনার সুবিধাও রয়েছে, যা চাঁদার সঙ্গে যুক্ত হতে পারে। দেশে স্থায়ীভাবে ফিরে এলে দেশীয় মুদ্রায় চাঁদা চালিয়ে যাওয়া অথবা প্রয়োজন অনুযায়ী স্কিম পরিবর্তনের সুযোগ রয়েছে।
এখানে বাছাইয়ের মূল প্রশ্ন হওয়া উচিত বিদেশে আপনার বর্তমান বেতন কত, সেটি নয়। বরং দেশে ফিরে আসার পরও একই চাঁদার স্তর চালিয়ে যেতে পারবেন কি না। বিদেশের বেশি আয়ের ভিত্তিতে অতিরিক্ত বড় মাসিক চাঁদা নির্বাচন করে পরে তা চালাতে সমস্যায় পড়ার চেয়ে টেকসই পরিমাণ নির্বাচন করা বেশি বাস্তবসম্মত।
বেসরকারি চাকরিজীবীর জন্য প্রগতি স্কিম
বেসরকারি প্রতিষ্ঠানের কর্মী এবং প্রতিষ্ঠানের মালিকদের জন্য প্রগতি স্কিম প্রযোজ্য। কোনো প্রতিষ্ঠান প্রাতিষ্ঠানিকভাবে যুক্ত হলে নির্ধারিত চাঁদার ৫০ শতাংশ কর্মী এবং বাকি ৫০ শতাংশ প্রতিষ্ঠান দিতে পারে। প্রতিষ্ঠান যুক্ত না হলেও একজন যোগ্য বেসরকারি কর্মী নিজ উদ্যোগে প্রগতি স্কিমে নিবন্ধন করতে পারেন।
প্রগতি স্কিমে বর্তমানে একাধিক মাসিক চাঁদার স্তর রয়েছে এবং সর্বোচ্চ স্তর ১৫,০০০ টাকা। নিয়মিত বেতন পাওয়া ব্যক্তি নিজের প্রয়োজনীয় খরচ, জরুরি সঞ্চয় এবং অন্যান্য আর্থিক দায় বিবেচনা করে সামর্থ্যের সঙ্গে মানানসই স্তর নির্বাচন করতে পারেন। কোনো প্রতিষ্ঠান প্রাতিষ্ঠানিকভাবে যুক্ত হলে নির্ধারিত চাঁদার কর্মীর অংশের পাশাপাশি প্রতিষ্ঠানের অংশও সংশ্লিষ্ট পেনশন হিসাবে জমা হয়।
ব্যবসায়ী, কৃষক বা স্বনিয়োজিত ব্যক্তির জন্য সুরক্ষা স্কিম
ক্ষুদ্র ব্যবসায়ী, কৃষক, শ্রমিক, রিকশাচালক, জেলে, তাঁতি এবং অন্যান্য স্বকর্মে নিয়োজিত বা অপ্রাতিষ্ঠানিক খাতের মানুষের জন্য সুরক্ষা স্কিম তৈরি করা হয়েছে। মাসিক জমার স্তর ১,০০০, ২,০০০, ৩,০০০ এবং ৫,০০০ টাকা।
অনিয়মিত আয়ের মানুষের ক্ষেত্রে এখানে একটি বিষয় বিশেষভাবে গুরুত্বপূর্ণ। ভালো মাসে কত টাকা জমা দেওয়া সম্ভব, সেটি দিয়ে পরিকল্পনা না করে তুলনামূলক দুর্বল মাসেও যে চাঁদা দেওয়া সম্ভব, সেই পরিমাণ ধরে শুরু করা বেশি বাস্তবসম্মত। পরে আয় বাড়লে চাঁদার হার পরিবর্তনের সুযোগ রয়েছে। ফলে শুরুতেই সর্বোচ্চ স্তর নেওয়ার প্রয়োজন নেই।
স্বল্প আয়ের মানুষের জন্য সমতা স্কিম
বর্তমান নিয়ম অনুযায়ী বছরে সর্বোচ্চ ৬০ হাজার টাকা আয়ের সীমার মধ্যে থাকা যোগ্য স্বল্প আয়ের নাগরিকদের জন্য সমতা স্কিম রয়েছে। এতে মোট মাসিক চাঁদা ১,০০০ টাকা হলেও নিবন্ধিত ব্যক্তি দেন ৫০০ টাকা এবং সমপরিমাণ ৫০০ টাকা সরকার দেয়।
যোগ্য ব্যক্তির জন্য এটিই চারটি স্কিমের মধ্যে আলাদা বৈশিষ্ট্যের ব্যবস্থা, কারণ ব্যক্তির নিজের জমার সঙ্গে সরকারি অংশ যুক্ত হয়। তাই আয়ের শর্ত পূরণ করলে অন্য স্কিমের সঙ্গে শুধু মাসিক চাঁদার অঙ্ক তুলনা না করে সমতা স্কিমের যোগ্যতা আগে যাচাই করা উচিত।
কত টাকা মাসিক জমা নির্বাচন করবেন?
পেনশন পরিকল্পনায় সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ বিষয় হলো ধারাবাহিকতা। জাতীয় পেনশন কর্তৃপক্ষের বর্তমান হিসাব অনুযায়ী, উদাহরণ হিসেবে মাসে ১,০০০ টাকা করে ৩০ বছর জমা দিলে সম্ভাব্য মাসিক পেনশন প্রায় ১২,৪৬৬ টাকা দেখানো হয়েছে। একই সময় মাসে ৫,০০০ টাকার স্তরে সম্ভাব্য মাসিক পেনশন প্রায় ৬২,৩৩০ টাকা। এগুলো বর্তমান হিসাবায়নভিত্তিক সম্ভাব্য পরিমাণ, ভবিষ্যতের নিশ্চয়তাপ্রাপ্ত নির্দিষ্ট অঙ্ক হিসেবে দেখা ঠিক হবে না।
চাঁদার স্তর বেছে নেওয়ার আগে মাসিক প্রয়োজনীয় খরচ, ঋণের কিস্তি, জরুরি তহবিল এবং নিয়মিত অন্যান্য আর্থিক দায় বিবেচনা করা যেতে পারে। এরপর দীর্ঘ সময় ধরে নিয়মিত জমা দেওয়া সম্ভব এমন পরিমাণ নির্বাচন করা যায়। বয়স কম থাকলে তুলনামূলক ছোট অঙ্কও দীর্ঘ সময় জমা হওয়ার সুযোগ পায়। তাই শুধু মাসিক চাঁদার অঙ্ক নয়, কত বছর চাঁদা দেওয়া হবে সেটিও গুরুত্বপূর্ণ।
প্রয়োজনে জমা অর্থ ব্যবহার করা যাবে কি?
পেনশন হিসাবকে সাধারণ সঞ্চয় হিসাবের মতো মেয়াদ পূর্তির আগে সম্পূর্ণ নগদায়ন করার সুযোগ নেই। তবে প্রযোজ্য নিয়ম ও কর্তৃপক্ষের অনুমোদন সাপেক্ষে নিজের জমাকৃত অর্থের সর্বোচ্চ ৫০ শতাংশ নির্ধারিত প্রয়োজনে ঋণ হিসেবে নেওয়া যায়। এই অর্থ কর্তৃপক্ষের নির্ধারিত ফিসহ সর্বোচ্চ ২৪ কিস্তিতে পরিশোধ করতে হয়।
এ ছাড়া ২০২৫ সালে একটি গুরুত্বপূর্ণ পরিবর্তন আনা হয়। পেনশনযোগ্য বয়সে পৌঁছানোর পর আগ্রহী ব্যক্তি তার কর্পাসের সর্বোচ্চ ৩০ শতাংশ এককালীন নিতে পারেন। সে ক্ষেত্রে অবশিষ্ট অর্থের ভিত্তিতে মাসিক পেনশন নির্ধারিত হবে। অর্থাৎ এককালীন বেশি অর্থ নেওয়ার সিদ্ধান্ত ভবিষ্যতের মাসিক পেনশনের পরিমাণে প্রভাব ফেলতে পারে।
কর, নমিনি ও পেনশন পাওয়ার গুরুত্বপূর্ণ সুবিধা
সর্বজনীন পেনশন স্কিমে নির্ধারিত চাঁদা কর রেয়াতের জন্য বিবেচিত হয় এবং মাসিক পেনশন বাবদ পাওয়া অর্থ আয়করমুক্ত। ১৭ সেপ্টেম্বর ২০২৬ জাতীয় পেনশন কর্তৃপক্ষের পরিচালনা পর্ষদ পেনশনভোগীর মৃত্যুর পর সংশ্লিষ্ট পেনশন সুবিধার বয়সসীমা ৭৫ বছর থেকে বাড়িয়ে ৮০ বছর করার সিদ্ধান্ত অনুমোদন করেছে। পেনশন পাওয়ার যোগ্য হওয়ার আগে চাঁদাদাতার মৃত্যু হলে প্রযোজ্য নিয়ম অনুযায়ী জমাকৃত অর্থ মুনাফাসহ নমিনিকে ফেরত দেওয়ার ব্যবস্থা রয়েছে। সর্বশেষ কার্যকর বিধি ও নির্দেশনা নিবন্ধনের সময় জাতীয় পেনশন কর্তৃপক্ষের কাছ থেকে যাচাই করা উচিত।
তাহলে কোন পেনশন স্কিমটি আপনার জন্য উপযুক্ত?
স্কিম বাছাইয়ের সবচেয়ে সহজ উপায় হলো প্রথমে নিজের পেশাগত অবস্থান নির্ধারণ করা। বিদেশে কর্মরত হলে প্রবাস, বেসরকারি চাকরিতে থাকলে প্রগতি, স্বকর্মে নিয়োজিত বা অপ্রাতিষ্ঠানিক পেশায় থাকলে সুরক্ষা এবং নির্ধারিত স্বল্প আয়ের সীমার মধ্যে থাকলে সমতা স্কিম বিবেচনা করুন। এরপর দ্বিতীয় সিদ্ধান্ত হবে মাসিক জমার পরিমাণ। এখানে সর্বোচ্চ অঙ্ক বেছে নেওয়ার পরিবর্তে এমন অঙ্ক নেওয়া উচিত যা আয় কমলেও চালিয়ে যাওয়া সম্ভব।
বর্তমান নিবন্ধন প্রক্রিয়ায় এনআইডি বা প্রবাস স্কিমের ক্ষেত্রে প্রযোজ্য পাসপোর্ট তথ্য, জন্মতারিখ, মোবাইল নম্বর, ব্যাংক বা মোবাইল আর্থিক সেবা হিসাব এবং নমিনির তথ্য প্রয়োজন হয়। অনলাইনে নিবন্ধনের সময় সরকারি বা সংশ্লিষ্ট রাষ্ট্রীয় চাকরি, অন্য রাষ্ট্রীয় পেনশন এবং সামাজিক নিরাপত্তা ভাতা সম্পর্কেও প্রত্যয়ন দিতে হয়। তাই আবেদন করার আগে নিজের যোগ্যতা যাচাই করা প্রয়োজন।
শরিয়াহভিত্তিক আলাদা পেনশন স্কিম কি চালু হয়েছে?
সেপ্টেম্বর ২০২৬-এ জাতীয় পেনশন কর্তৃপক্ষের পরিচালনা পর্ষদ শরিয়াহভিত্তিক সর্বজনীন পেনশন ব্যবস্থা চালুর প্রস্তাব অনুমোদন করেছে। তবে এর কার্যপদ্ধতি, বিনিয়োগ কাঠামো এবং অন্যান্য বাস্তবায়নসংক্রান্ত বিষয় চূড়ান্ত করার কাজ এখনো চলছে। ২৬ সেপ্টেম্বর ২০২৬ পর্যন্ত এটি বর্তমান প্রবাস, প্রগতি, সুরক্ষা ও সমতা স্কিমের মতো সাধারণ নিবন্ধনের জন্য চালু হয়নি। তাই আগ্রহীদের জাতীয় পেনশন কর্তৃপক্ষের আনুষ্ঠানিক ঘোষণা ও নিবন্ধন নির্দেশনা অনুসরণ করা উচিত।
পেনশন স্কিম নিয়ে ১০টি গুরুত্বপূর্ণ প্রশ্ন ও উত্তর
১. ৫০ বছরের বেশি বয়স হলে কি সর্বজনীন পেনশনে যোগ দেওয়া যায়?
হ্যাঁ। সাধারণ অংশগ্রহণের কাঠামো ১৮ থেকে ৫০ বছর বয়সীদের কেন্দ্র করে হলেও ৫০ বছরের বেশি বয়সীরাও বিশেষ ব্যবস্থায় যোগ দিতে পারেন। তাদের কমপক্ষে ১০ বছর চাঁদা দিতে হবে। যেমন ৬০ বছর বয়সে যোগ দিলে নিয়ম অনুযায়ী ১০ বছর চাঁদা দেওয়ার পর পেনশন পাওয়ার যোগ্যতা তৈরি হতে পারে।
২. বেসরকারি চাকরি করলে কোন স্কিমটি প্রযোজ্য?
বেসরকারি প্রতিষ্ঠানের কর্মচারীদের জন্য প্রগতি স্কিম তৈরি করা হয়েছে। প্রতিষ্ঠান অংশ নিলে কর্মী ও প্রতিষ্ঠান উভয়েই চাঁদার অংশ দিতে পারে। প্রতিষ্ঠান অংশগ্রহণ না করলেও যোগ্য কর্মী নিজের উদ্যোগে নিবন্ধনের সুযোগ পান।
৩. ছোট ব্যবসা করলে কোন স্কিম নির্বাচন করা উচিত?
নিজে ব্যবসা পরিচালনা করেন এবং বেসরকারি প্রতিষ্ঠানের নিয়মিত কর্মচারী না হলে সাধারণভাবে সুরক্ষা স্কিম প্রাসঙ্গিক হতে পারে। এই স্কিম স্বকর্মে নিয়োজিত ও অপ্রাতিষ্ঠানিক খাতের মানুষের জন্য তৈরি। নিবন্ধনের সময় নিজের প্রকৃত কর্মসংস্থানের অবস্থার সঙ্গে সরকারি যোগ্যতার শর্ত মিলিয়ে নেওয়া উচিত।
৪. মাসে ১,০০০ টাকা দিয়ে কি শুরু করা যায়?
প্রবাস, প্রগতি ও সুরক্ষা স্কিমে বর্তমানে ১,০০০ টাকার মাসিক স্তর রয়েছে। সমতা স্কিমে মোট মাসিক জমা ১,০০০ টাকা হলেও যোগ্য ব্যক্তিকে নিজের পক্ষ থেকে ৫০০ টাকা দিতে হয় এবং বাকি ৫০০ টাকা সরকারি অংশ হিসেবে যুক্ত হয়।
৫. পরে কি মাসিক চাঁদার পরিমাণ পরিবর্তন করা যায়?
হ্যাঁ। সর্বজনীন পেনশন ব্যবস্থায় প্রয়োজন অনুযায়ী চাঁদার হার পরিবর্তনের সুযোগ রয়েছে। আয় বাড়লে বেশি স্তরে যাওয়া অথবা আর্থিক সামর্থ্য অনুযায়ী অনুমোদিত অন্য স্তর বেছে নেওয়ার সুযোগ থাকার কারণে শুরুতে বাস্তবসম্মত অঙ্ক নির্বাচন করা সহজ হয়।
৬. একটি স্কিম থেকে অন্য স্কিমে পরিবর্তন করা সম্ভব?
প্রযোজ্য পরিস্থিতিতে স্কিম পরিবর্তনের সুযোগ রয়েছে এবং পেনশনার পরিচিতি অপরিবর্তিত থাকে। উদাহরণ হিসেবে একজন প্রবাসী দেশে ফিরে কর্মসংস্থানের ধরন অনুযায়ী উপযুক্ত স্কিমে পরিবর্তনের বিষয় বিবেচনা করতে পারেন। তবে পরিবর্তনের সময় বর্তমান নিয়ম যাচাই করা প্রয়োজন।
৭. জমা টাকা জরুরি প্রয়োজনে সম্পূর্ণ তুলে নেওয়া যাবে?
পেনশনযোগ্য বয়সের আগে সাধারণ সঞ্চয়ের মতো পুরো অর্থ তুলে নিয়ে হিসাব বন্ধ করার সুযোগ নেই। তবে প্রযোজ্য শর্তে নিজের জমার সর্বোচ্চ ৫০ শতাংশ ঋণ হিসেবে নেওয়া যায়। পেনশনযোগ্য বয়সে পৌঁছানোর পর বর্তমানে কর্পাসের সর্বোচ্চ ৩০ শতাংশ এককালীন নেওয়ার সুযোগ রয়েছে।
৮. চাঁদাদাতা মারা গেলে জমা অর্থের কী হবে?
পেনশন পাওয়ার যোগ্য হওয়ার আগে চাঁদাদাতার মৃত্যু হলে প্রযোজ্য নিয়ম অনুযায়ী জমাকৃত অর্থ মুনাফাসহ নমিনিকে দেওয়ার ব্যবস্থা রয়েছে। সেপ্টেম্বর ২০২৬-এ জাতীয় পেনশন কর্তৃপক্ষের পরিচালনা পর্ষদ পেনশনভোগীর মৃত্যুর পর সংশ্লিষ্ট পেনশন সুবিধার বয়সসীমা ৭৫ বছর থেকে বাড়িয়ে ৮০ বছর করার সিদ্ধান্ত অনুমোদন করেছে। কার্যকর সুবিধা গ্রহণের ক্ষেত্রে সর্বশেষ বিধি ও জাতীয় পেনশন কর্তৃপক্ষের নির্দেশনা যাচাই করা উচিত। bssnews.net
৯. ব্যাংক হিসাব না থাকলে কি নিবন্ধন সম্ভব?
জাতীয় পেনশন কর্তৃপক্ষের বর্তমান তথ্য অনুযায়ী, ব্যাংক হিসাব না থাকলেও নির্ধারিত মোবাইল আর্থিক সেবা হিসাব ব্যবহার করে নিবন্ধনের সুযোগ রয়েছে। পেনশনের অর্থও ব্যাংক হিসাব বা অনুমোদিত মোবাইল আর্থিক সেবা হিসাবের মাধ্যমে স্বয়ংক্রিয়ভাবে পাওয়ার ব্যবস্থা রাখা হয়েছে।
১০. বেশি চাঁদার স্তর নির্বাচন করাই কি সবসময় ভালো?
না। দীর্ঘমেয়াদি পেনশন পরিকল্পনায় ধারাবাহিকভাবে চাঁদা দিতে পারা বেশি গুরুত্বপূর্ণ। মাসে বড় অঙ্ক নির্বাচন করে কয়েক মাস পর আর চালাতে না পারার চেয়ে আয় ও খরচের সঙ্গে সামঞ্জস্যপূর্ণ অঙ্ক বেছে নেওয়া কার্যকর হতে পারে। আয় বাড়লে পরবর্তী সময়ে অনুমোদিত নিয়মে চাঁদার স্তর বাড়ানো যায়।
উপসংহার
নিজের জন্য প্রযোজ্য পেনশন স্কিম নির্ধারণের প্রথম ধাপ হলো পেশার ধরন ও যোগ্যতা যাচাই করা। এরপর দীর্ঘ সময় নিয়মিত দেওয়া সম্ভব এমন মাসিক চাঁদার স্তর নির্বাচন করা প্রয়োজন। প্রবাসীদের জন্য প্রবাস, বেসরকারি চাকরিজীবীদের জন্য প্রগতি, স্বকর্মে নিয়োজিত ও অপ্রাতিষ্ঠানিক খাতের মানুষের জন্য সুরক্ষা এবং যোগ্য স্বল্প আয়ের নাগরিকদের জন্য সমতা স্কিম রয়েছে। দীর্ঘ সময় চাঁদা দেওয়ার সুযোগ থাকলে পেনশন হিসাবে অর্থ ও প্রযোজ্য মুনাফা জমা হওয়ার সময়ও বেশি হয়। নিবন্ধনের আগে জাতীয় পেনশন কর্তৃপক্ষের সর্বশেষ চাঁদার হার, যোগ্যতার শর্ত ও কার্যকর নিয়ম যাচাই করুন, কারণ এসব তথ্য পরবর্তী সময়ে পরিবর্তিত হতে পারে।