অবসর জীবনে নিয়মিত আয়ের ব্যবস্থা না থাকলে দৈনন্দিন খরচ, চিকিৎসা এবং পরিবারের প্রয়োজন মেটানো কঠিন হয়ে যেতে পারে। বিশেষ করে বেসরকারি চাকরিজীবী, স্বকর্মে নিয়োজিত ব্যক্তি, প্রবাসী এবং অনানুষ্ঠানিক খাতের মানুষের জন্য অবসরকালীন নিয়মিত আয়ের ব্যবস্থা তৈরি করতেই বাংলাদেশে সর্বজনীন পেনশন স্কিম চালু করা হয়েছে। তবে এতে যোগ দেওয়ার আগে সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ প্রশ্ন হলো, প্রতি মাসে কত টাকা জমা দিলে ভবিষ্যতে কত টাকা পেনশন পাওয়া যেতে পারে।
জাতীয় পেনশন কর্তৃপক্ষের প্রকাশিত বর্তমান সম্ভাব্য মাসিক পেনশন সারণি অনুযায়ী, মাসিক চাঁদার পরিমাণের পাশাপাশি কত বছর চাঁদা দেওয়া হচ্ছে, সেটিও সম্ভাব্য পেনশনের অঙ্কে বড় পার্থক্য তৈরি করে। যেমন, মাসে ১,০০০ টাকা করে ১০ বছর চাঁদা দিলে সম্ভাব্য মাসিক পেনশন ১,৫৩০ টাকা এবং একই পরিমাণ ৪২ বছর চাঁদা দিলে সম্ভাব্য মাসিক পেনশন ৩৪,৪৬৫ টাকা দেখানো হয়েছে।
তবে শুরুতেই একটি বিষয় পরিষ্কার থাকা প্রয়োজন। জাতীয় পেনশন কর্তৃপক্ষের সারণিতে প্রকাশিত অঙ্কগুলো সম্ভাব্য মাসিক পেনশন। চাঁদার মোট পরিমাণ, চাঁদা দেওয়ার সময়কাল, বিনিয়োগ থেকে প্রাপ্ত প্রকৃত মুনাফা এবং পেনশনযোগ্য বয়সে কর্পাস থেকে এককালীন অর্থ উত্তোলন করা হয়েছে কি না, এসব বিষয়ের ভিত্তিতে প্রকৃত মাসিক পেনশন নির্ধারিত হতে পারে। তাই নিচের অঙ্কগুলোকে পরিকল্পনার জন্য সরকারি সম্ভাব্য হিসাব হিসেবে দেখা উচিত, নিশ্চিত প্রাপ্য অর্থ হিসেবে নয়।
বর্তমানে সর্বজনীন পেনশনের কোন কোন স্কিম চালু আছে?
বর্তমানে প্রবাস, প্রগতি, সুরক্ষা ও সমতা এই চারটি স্কিমে নিবন্ধন কার্যক্রম চলছে। প্রবাসী বাংলাদেশিদের জন্য প্রবাস, বেসরকারি প্রতিষ্ঠানের কর্মী ও মালিকদের জন্য প্রগতি এবং স্বকর্মে নিয়োজিত ও অনানুষ্ঠানিক খাতের মানুষের জন্য সুরক্ষা স্কিম রয়েছে। বর্তমানে বার্ষিক সর্বোচ্চ ৬০,০০০ টাকা আয়সীমার আওতাভুক্ত যোগ্য স্বল্প আয়ের ব্যক্তিদের জন্য সমতা স্কিম রয়েছে। নিয়ম অনুযায়ী পরবর্তী সময়ে স্কিম বা চাঁদার হার পরিবর্তনের সুযোগও রয়েছে।
কোন স্কিমে মাসে কত টাকা জমা দেওয়া যায়?
| স্কিম | বর্তমান মাসিক চাঁদার হার |
|---|---|
| প্রবাস | ১,০০০, ২,০০০, ৫,০০০, ৭,৫০০ ও ১০,০০০ টাকা |
| প্রগতি | ৫০০, ১,০০০, ২,০০০, ৩,০০০, ৫,০০০, ১০,০০০ ও ১৫,০০০ টাকা |
| সুরক্ষা | ১,০০০, ২,০০০, ৩,০০০ ও ৫,০০০ টাকা |
| সমতা | মোট ১,০০০ টাকা; চাঁদাদাতা ৫০০ টাকা এবং সরকারি অংশ ৫০০ টাকা |
প্রগতি স্কিমের ৫০০ টাকার চাঁদার স্তরটি শুধু নির্ধারিত আউটসোর্সিং সেবা কর্মীদের জন্য প্রযোজ্য। অন্যদিকে সমতা স্কিমে যোগ্য ব্যক্তি নিজের পক্ষ থেকে মাসে ৫০০ টাকা দিলে বিধি অনুযায়ী সমপরিমাণ অর্থ সরকারি অংশ হিসেবে যোগ হয়।
কত টাকা জমা দিলে কত টাকা মাসিক পেনশন পাওয়া যেতে পারে?
জাতীয় পেনশন কর্তৃপক্ষের বর্তমান সম্ভাব্য পেনশন সারণি থেকে গুরুত্বপূর্ণ কয়েকটি চাঁদার হার নিচে সহজভাবে দেওয়া হলো। কোনো নির্দিষ্ট স্কিমে সংশ্লিষ্ট চাঁদার হার না থাকলে সেই অঙ্কটি ওই স্কিমে প্রযোজ্য হবে না।
| জমার সময় | মাসে ১,০০০ টাকা | মাসে ২,০০০ টাকা | মাসে ৩,০০০ টাকা | মাসে ৫,০০০ টাকা | মাসে ১০,০০০ টাকা | মাসে ১৫,০০০ টাকা |
|---|---|---|---|---|---|---|
| ১০ বছর | ১,৫৩০ | ৩,০৬০ | ৪,৫৯১ | ৭,৬৫১ | ১৫,৩০২ | ২২,৯৫৪ |
| ১৫ বছর | ২,৮৯৪ | ৫,৭৮৯ | ৮,৬৮৩ | ১৪,৪৭২ | ২৮,৯৪৪ | ৪৩,৪১৬ |
| ২০ বছর | ৪,৯২৭ | ৯,৮৫৪ | ১৪,৭৮০ | ২৪,৬৩৪ | ৪৯,২৬৮ | ৭৩,৯০২ |
| ২৫ বছর | ৭,৯৫৫ | ১৫,৯১০ | ২৩,৮৬৪ | ৩৯,৭৭৪ | ৭৯,৫৪৮ | ১,১৯,৩২১ |
| ৩০ বছর | ১২,৪৬৬ | ২৪,৯৩২ | ৩৭,৩৯৮ | ৬২,৩৩০ | ১,২৪,৬৬০ | ১,৮৬,৯৮৯ |
| ৩৫ বছর | ১৯,১৮৭ | ৩৮,৩৭৪ | ৫৭,৫৬১ | ৯৫,৯৩৫ | ১,৯১,৮৭০ | ২,৮৭,৮০৪ |
| ৪০ বছর | ২৯,২০০ | ৫৮,৪০০ | ৮৭,৬০১ | ১,৪৬,০০১ | ২,৯২,০০২ | ৪,৩৮,০০৩ |
| ৪২ বছর | ৩৪,৪৬৫ | ৬৮,৯৩১ | ১,০৩,৩৯৬ | ১,৭২,৩২৭ | ৩,৪৪,৬৫৫ | ৫,১৬,৯৮২ |
এখানে দীর্ঘ সময় ধরে নিয়মিত চাঁদা দেওয়ার প্রভাব খুব স্পষ্ট। শুধু বেশি মাসিক চাঁদা নির্বাচন করাই নয়, কত বছর ধরে জমা চালিয়ে যাওয়া যাচ্ছে সেটিও সম্ভাব্য পেনশনের ক্ষেত্রে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখে।
বয়স অনুযায়ী সহজভাবে হিসাব বুঝবেন যেভাবে
সাধারণভাবে ৬০ বছর বয়স থেকে পেনশন পাওয়ার বিষয়টি বিবেচনা করলে ৩০ বছর বয়সে শুরু করা একজন ব্যক্তি প্রায় ৩০ বছর চাঁদা দিতে পারবেন। তিনি মাসে ৫,০০০ টাকা করে নিয়মিত জমা দিলে সরকারি বর্তমান সারণিতে সম্ভাব্য মাসিক পেনশন ৬২,৩৩০ টাকা। একইভাবে ৪০ বছর বয়সে শুরু করে মাসে ২,০০০ টাকা ২০ বছর জমা দিলে সম্ভাব্য মাসিক পেনশন ৯,৮৫৪ টাকা। আর ১৮ বছর বয়সে মাসে ১,০০০ টাকা দিয়ে শুরু করে ৪২ বছর চালাতে পারলে সম্ভাব্য অঙ্ক ৩৪,৪৬৫ টাকা।
জাতীয় পেনশন কর্তৃপক্ষের বর্তমান হেল্পডেস্কের তথ্য অনুযায়ী, অংশগ্রহণের ক্ষেত্রে বয়সের কোনো ঊর্ধ্বসীমা নেই। বিশেষ বিবেচনায় ৫০ বছরের বেশি বয়সীরাও স্কিমে যোগ দিতে পারেন। উদাহরণ হিসেবে ৬০ বছর বয়সে কেউ যোগ দিলে নিরবচ্ছিন্নভাবে ১০ বছর চাঁদা দেওয়ার পর ৭০ বছর বয়স থেকে পেনশন পাওয়ার যোগ্য হবেন।
পেনশন নেওয়ার সময় ৩০ শতাংশ এককালীন তুললে কী হবে?
সংশোধিত নিয়ম অনুযায়ী, পেনশনযোগ্য বয়সে পৌঁছানোর পর আগ্রহী চাঁদাদাতা তাঁর কর্পাসে জমাকৃত অর্থের সর্বোচ্চ ৩০ শতাংশ এককালীন ও অফেরতযোগ্যভাবে উত্তোলন করতে পারেন। এ সুবিধা নিলে কর্পাসে অবশিষ্ট অর্থের ভিত্তিতে মাসিক পেনশন নির্ধারিত হবে। ফলে পূর্ণ কর্পাস ধরে প্রকাশিত সম্ভাব্য পেনশন সারণির তুলনায় মাসিক পেনশনের পরিমাণ কম হবে।
প্রয়োজনে জমার টাকা থেকে ঋণ নেওয়া যাবে কি?
নিজের বা পরিবারের সদস্যের চিকিৎসা, গৃহ নির্মাণ বা মেরামত এবং সন্তানের বিবাহের ব্যয়সহ নির্ধারিত প্রয়োজনে চাঁদাদাতা তাঁর নিজের জমাকৃত অর্থের সর্বোচ্চ ৫০ শতাংশ পর্যন্ত ঋণ হিসেবে নিতে পারেন। কর্তৃপক্ষের নির্ধারিত ফিসহ সর্বোচ্চ ২৪ কিস্তিতে এ অর্থ পরিশোধ করতে হয় এবং পরিশোধিত অর্থ আবার চাঁদাদাতার পেনশন হিসাবে জমা হয়। এটি পেনশনযোগ্য বয়সের আগে সম্পূর্ণ হিসাব বন্ধ করে সব টাকা তুলে নেওয়ার সুযোগ নয়।
নিজের জন্য কত টাকার চাঁদা নির্বাচন করা যুক্তিযুক্ত?
সবচেয়ে বড় অঙ্কের চাঁদা বেছে নেওয়াই সবার জন্য সঠিক সিদ্ধান্ত নয়। এমন মাসিক পরিমাণ নির্বাচন করা ভালো, যা আয় কমে গেলেও দীর্ঘ সময় চালিয়ে নেওয়া সম্ভব। আয় অনিয়মিত হলে তুলনামূলক কম চাঁদা দিয়ে শুরু করে আর্থিক সক্ষমতা বাড়ার সঙ্গে পরবর্তী সময়ে চাঁদার হার পরিবর্তন করা যেতে পারে। কারণ দীর্ঘমেয়াদে ধারাবাহিকতা পেনশন পরিকল্পনার অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ বিষয়।
সর্বজনীন পেনশন স্কিম সম্পর্কে ১০টি গুরুত্বপূর্ণ প্রশ্ন ও উত্তর
১. মাসে ১,০০০ টাকা জমা দিলে কত পেনশন পাওয়া যাবে?
এটি সম্পূর্ণভাবে জমার সময়ের ওপর নির্ভর করে। বর্তমান সরকারি সম্ভাব্য সারণি অনুযায়ী ১০ বছর জমা দিলে মাসে ১,৫৩০ টাকা, ২০ বছর দিলে ৪,৯২৭ টাকা, ৩০ বছর দিলে ১২,৪৬৬ টাকা এবং ৪২ বছর নিয়মিত জমা দিলে সম্ভাব্য মাসিক পেনশন ৩৪,৪৬৫ টাকা হতে পারে।
২. মাসে ৫,০০০ টাকা দিলে ২০ বছর পর কত পাওয়া যেতে পারে?
বর্তমান সম্ভাব্য হিসাব অনুযায়ী মাসে ৫,০০০ টাকা করে ২০ বছর চাঁদা দিলে পেনশনযোগ্য বয়সে সম্ভাব্য মাসিক পেনশন ২৪,৬৩৪ টাকা। ৩০ বছর একই চাঁদা চালিয়ে গেলে সম্ভাব্য অঙ্ক বেড়ে ৬২,৩৩০ টাকা হয়।
৩. মাসে ১০,০০০ টাকা জমা দিলে কত পেনশন হতে পারে?
১০ বছর চাঁদা দিলে সম্ভাব্য মাসিক পেনশন ১৫,৩০২ টাকা। ২০ বছরে ৪৯,২৬৮ টাকা, ৩০ বছরে ১,২৪,৬৬০ টাকা এবং ৪০ বছর চাঁদা দিলে সরকারি বর্তমান সারণিতে সম্ভাব্য মাসিক পেনশন ২,৯২,০০২ টাকা দেখানো হয়েছে।
৪. সমতা স্কিমে নিজের কত টাকা দিতে হয়?
সমতা স্কিমের মোট মাসিক চাঁদা ১,০০০ টাকা। এর মধ্যে যোগ্য চাঁদাদাতা ৫০০ টাকা দেন এবং বাকি ৫০০ টাকা সরকারি অংশ হিসেবে জমা হয়। জাতীয় পেনশন কর্তৃপক্ষের বর্তমান তথ্য অনুযায়ী, বার্ষিক সর্বোচ্চ ৬০,০০০ টাকা আয়সীমার আওতাভুক্ত যোগ্য স্বল্প আয়ের ব্যক্তিদের জন্য এই স্কিম প্রযোজ্য।
৫. ৫০ বছরের বেশি বয়স হলে কি সর্বজনীন পেনশনে যোগ দেওয়া যায়?
বর্তমান জাতীয় পেনশন কর্তৃপক্ষের হেল্পডেস্ক অনুযায়ী বয়সের ঊর্ধ্বসীমা নেই। তবে পেনশন পাওয়ার আগে প্রয়োজনীয় চাঁদা প্রদানের সময় পূরণ করতে হবে। উদাহরণ হিসেবে ৬০ বছর বয়সে যোগ দিলে ১০ বছর চাঁদা দিয়ে ৭০ বছর বয়সে পেনশন পাওয়ার সুযোগ থাকবে।
৬. মাঝপথে মাসিক চাঁদার পরিমাণ পরিবর্তন করা যাবে কি?
হ্যাঁ। আর্থিক সক্ষমতা বা কর্মপরিস্থিতি পরিবর্তিত হলে নিয়ম অনুযায়ী চাঁদার হার পরিবর্তনের সুযোগ রয়েছে। প্রয়োজন অনুসারে প্রযোজ্য অন্য স্কিমেও যাওয়া যায়। আগের জমা ও জমার সময়কাল বিবেচনায় রেখেই ভবিষ্যৎ পেনশন নির্ধারিত হবে।
৭. পেনশন পাওয়ার আগেই চাঁদাদাতা মারা গেলে জমার টাকা কী হবে?
পেনশনযোগ্য বয়সে পৌঁছানোর আগে চাঁদাদাতা মারা গেলে নিয়ম অনুযায়ী তাঁর জমাকৃত অর্থ প্রযোজ্য মুনাফাসহ বৈধ নমিনি বা নমিনিদের ফেরত দেওয়া হয়। আর পেনশন গ্রহণরত অবস্থায় ৭৫ বছর বয়স পূর্ণ হওয়ার আগে মৃত্যু হলে, মৃত পেনশনার জীবিত থাকলে যে সময় তাঁর বয়স ৭৫ বছর পূর্ণ হতো, সেই সময় পর্যন্ত নমিনি বা নমিনিরা নির্ধারিত মাসিক পেনশন পেতে পারেন।
৮. পেনশনের টাকা কোথায় পাওয়া যাবে?
পেনশন পাওয়ার জন্য নিয়মিত কোনো অফিসে গিয়ে টাকা সংগ্রহ করার প্রয়োজন নেই। পেনশনযোগ্য বয়সে পৌঁছানোর পর নিবন্ধনের সময় দেওয়া ব্যাংক হিসাব অথবা অনুমোদিত মোবাইল আর্থিক সেবা হিসাবে স্বয়ংক্রিয়ভাবে মাসিক অর্থ পাঠানোর ব্যবস্থা রয়েছে।
৯. পেনশনের সম্ভাব্য অঙ্ক কি ভবিষ্যতে পরিবর্তিত হতে পারে?
হ্যাঁ। সরকারি সারণিতে প্রকাশিত অঙ্ককে সম্ভাব্য পেনশন বলা হয়েছে। চাঁদার অর্থ বিনিয়োগ থেকে পাওয়া প্রকৃত মুনাফা এবং সংশ্লিষ্ট হিসাবের জমার সময়কালসহ বিভিন্ন বিষয়ের ওপর চূড়ান্ত মাসিক পেনশন নির্ধারিত হয়। তাই বর্তমান সারণির অঙ্ক ভবিষ্যতের পরিকল্পনার ভিত্তি হলেও এটিকে অপরিবর্তনীয় নিশ্চয়তা হিসেবে দেখা উচিত নয়।
১০. প্রবাসীরা কি আলাদা সুবিধা পান?
প্রবাসী বাংলাদেশিদের জন্য আলাদা প্রবাস স্কিম রয়েছে। জাতীয় পেনশন কর্তৃপক্ষের বর্তমান তথ্য অনুযায়ী, প্রবাস থেকে বৈদেশিক মুদ্রায় চাঁদা পাঠালে চাঁদার ওপর ২.৫ শতাংশ প্রণোদনা পাওয়া যায় এবং সেই অর্থ পেনশন হিসাবে জমা হয়। দেশে ফিরে দেশীয় মুদ্রায় চাঁদা চালিয়ে যাওয়া এবং প্রয়োজন অনুযায়ী প্রযোজ্য অন্য স্কিমে পরিবর্তনের সুযোগ রয়েছে।
উপসংহার
সর্বজনীন পেনশন স্কিমে সম্ভাব্য মাসিক পেনশনের পরিমাণ শুধু মাসিক চাঁদার অঙ্কের ওপর নির্ভর করে না; কত সময় ধরে চাঁদা দেওয়া হয়েছে সেটিও গুরুত্বপূর্ণ। জাতীয় পেনশন কর্তৃপক্ষের বর্তমান সারণিতে দেখা যায়, একই মাসিক চাঁদার ক্ষেত্রে জমার সময়কাল বাড়লে সম্ভাব্য মাসিক পেনশনের অঙ্কও বাড়ে।
তাই নিজের বয়স, নিয়মিত আয় এবং দীর্ঘমেয়াদি আর্থিক সক্ষমতা বিবেচনা করে টেকসই চাঁদার স্তর নির্বাচন করাই সবচেয়ে বাস্তবসম্মত পদ্ধতি। নিবন্ধনের আগে জাতীয় পেনশন কর্তৃপক্ষের সর্বশেষ নিয়ম ও সম্ভাব্য পেনশন সারণি যাচাই করা উচিত, কারণ ভবিষ্যতে নিয়ম বা চাঁদার কাঠামো পরিবর্তিত হতে পারে।