নিয়মিত অল্প অল্প টাকা জমিয়ে ভবিষ্যতের জন্য একটি তহবিল গড়ে তোলার পরিচিত উপায় হলো ডিপিএস। ডিপিএস খোলার আগে অনেকেরই প্রশ্ন থাকে, কোন ব্যাংকে তুলনামূলকভাবে বেশি সুদ বা মুনাফার হার পাওয়া যাচ্ছে। শুধু একটি ব্যাংকের প্রকাশিত হার দেখে সিদ্ধান্ত নেওয়া যথেষ্ট নয়। কারণ ব্যাংকভেদে মেয়াদ, মাসিক কিস্তি, সুদ বা মুনাফা হিসাবের পদ্ধতি, আগাম হিসাব বন্ধ করার নিয়ম এবং মেয়াদপূর্তির অঙ্ক আলাদা হতে পারে।
এই লেখায় ২০২৬ সালের ১৪ সেপ্টেম্বর পর্যন্ত যেসব ব্যাংকের প্রকাশিত তথ্য যাচাই করা হয়েছে, সেগুলোর মধ্যে এসবিএসি ব্যাংকের একটি মাসিক সঞ্চয় স্কিমে তুলনামূলকভাবে বেশি বার্ষিক হার দেখা গেছে। তবে বেশি ঘোষিত হার মানেই সব সময় বেশি মেয়াদপূর্তির অর্থ পাওয়া যাবে এমন নয়। তাই ডিপিএস বেছে নেওয়ার সময় হারের পাশাপাশি একই কিস্তি ও মেয়াদে ব্যাংকের প্রকাশিত মেয়াদপূর্তির অঙ্কও তুলনা করা উচিত।
২০২৬ সালে যাচাই করা ব্যাংকগুলোর মধ্যে কোন ডিপিএসে বেশি হার রয়েছে?
এই লেখায় যেসব ব্যাংকের প্রকাশিত তথ্য যাচাই করা হয়েছে, সেগুলোর মধ্যে এসবিএসি ব্যাংকের মাসিক সঞ্চয় স্কিম–পারুয়ায় ৮ ও ১০ বছরের জন্য ১২.২৫% বার্ষিক হার রয়েছে। ব্যাংকের প্রকাশিত রেট তালিকা অনুযায়ী এই হার ১ এপ্রিল ২০২৬ থেকে কার্যকর। একই ব্যাংকের সাধারণ মাসিক সঞ্চয় স্কিমে ১০ বছরের জন্য প্রকাশিত হার ১১.৭৫%।
সিটিজেন্স ব্যাংকের ১ জুলাই ২০২৬ থেকে কার্যকর ডিপিএস তালিকায় ৩ বছরে ১১.২৫%, ৫ বছরে ১১.৫০%, ৭ বছরে ১১.৭৫% এবং ১০ বছরে ১২% বার্ষিক হার উল্লেখ রয়েছে। ব্যাংকটি একই তালিকায় বিভিন্ন মাসিক কিস্তির বিপরীতে মেয়াদপূর্তির অঙ্কও প্রকাশ করেছে, ফলে একই কিস্তিতে সম্ভাব্য মেয়াদপূর্তির অর্থ তুলনা করা সহজ হয়।
২০২৬ সালের কয়েকটি ব্যাংকের ডিপিএস হার তুলনা
| ব্যাংক | স্কিম বা মেয়াদ | প্রকাশিত হার | তথ্যের কার্যকর বা প্রকাশিত সময় |
|---|---|---|---|
| এসবিএসি ব্যাংক | মাসিক সঞ্চয় স্কিম–পারুয়া, ৮ ও ১০ বছর | ১২.২৫% | ১ এপ্রিল ২০২৬ |
| সিটিজেন্স ব্যাংক | ডিপিএস, ১০ বছর | ১২.০০% | ১ জুলাই ২০২৬ |
| এনআরবি ব্যাংক | বিভিন্ন ডিপিএস, ৫ থেকে ১০ বছর | সর্বোচ্চ ১১.৫০% | ৮ জানুয়ারি ২০২৬ |
| এবি ব্যাংক | কোটিপতি ডিপোজিট স্কিম, ৫ থেকে ২০ বছর | ১১.০০% | ব্যাংকের প্রকাশিত পণ্য তথ্য |
| প্রাইম ব্যাংক | এডু ডিপিএস | ৯.২৫% | ব্যাংকের প্রকাশিত পণ্য তথ্য |
| মিউচুয়াল ট্রাস্ট ব্যাংক | অঙ্গনা ডিপিএস | ৮.১০% থেকে ৮.৬০% | ১ সেপ্টেম্বর ২০২৬ |
এই লেখায় তুলনা করা স্কিমগুলোর প্রকাশিত বার্ষিক হারের মধ্যে এসবিএসি ব্যাংকের ১২.২৫% হারটি সর্বোচ্চ। তবে আমানতের হার ও শর্ত পরিবর্তিত হতে পারে। তাই ডিপিএস খোলার আগে সংশ্লিষ্ট ব্যাংকের সর্বশেষ রেট তালিকা ও স্কিমের শর্ত আবার যাচাই করা উচিত।
সবচেয়ে বেশি হার আর সবচেয়ে বেশি টাকা পাওয়া এক বিষয় নয়
উদাহরণ হিসেবে এসবিএসি ব্যাংকের মাসিক সঞ্চয় স্কিম–পারুয়ায় ১০ বছরের প্রকাশিত হার ১২.২৫%। প্রতি মাসে ৫০০ টাকা জমা করলে ব্যাংকের প্রকাশিত মেয়াদপূর্তির অঙ্ক ১,১৩,৬৪৫ টাকা। অন্যদিকে সিটিজেন্স ব্যাংকের ১০ বছরের ডিপিএসে প্রকাশিত হার ১২% হলেও একই ৫০০ টাকা মাসিক কিস্তিতে মেয়াদপূর্তির অঙ্ক ১,১৬,১৭০ টাকা। দুটি অঙ্কই প্রযোজ্য কর ও আবগারি শুল্ক কাটার আগের।
এই উদাহরণে কম ঘোষিত হার থাকা সত্ত্বেও সিটিজেন্স ব্যাংকের প্রকাশিত মেয়াদপূর্তির অঙ্ক বেশি। ব্যাংকভেদে কিস্তি জমার সময়, সুদ গণনার নিয়ম এবং চক্রবৃদ্ধি হিসাবের পদ্ধতিতে পার্থক্য থাকতে পারে। তাই শুধু ঘোষিত হার না দেখে একই কিস্তি ও মেয়াদে ব্যাংকের প্রকাশিত মেয়াদপূর্তির অঙ্ক তুলনা করা উচিত।
এসবিএসি ব্যাংকের ডিপিএসে কী সুবিধা রয়েছে?
এসবিএসি ব্যাংকের ১ এপ্রিল ২০২৬ থেকে কার্যকর রেট তালিকা অনুযায়ী সাধারণ মাসিক সঞ্চয় স্কিমে ১ ও ২ বছরে ১১%, ৩ বছরে ১১.২৫%, ৫ বছরে ১১.৫০% এবং ৮ ও ১০ বছরে ১১.৭৫% হার রয়েছে। মাসিক সঞ্চয় স্কিম–পারুয়ায় ৫ বছরে ১২% এবং ৮ ও ১০ বছরে ১২.২৫% হার উল্লেখ রয়েছে। সাধারণ মাসিক সঞ্চয় স্কিমে কিস্তি ৫০০ টাকা বা এর গুণিতকে রাখা যায়। স্কিমের কিস্তির সীমা ও অন্যান্য শর্ত হিসাব খোলার আগে ব্যাংকের সর্বশেষ তথ্য থেকে দেখে নেওয়া উচিত।
সিটিজেন্স ব্যাংকের ডিপিএসে কী তথ্য প্রকাশ করা হয়েছে?
সিটিজেন্স ব্যাংকের ১ জুলাই ২০২৬ থেকে কার্যকর রেট তালিকা অনুযায়ী ১০ বছরের ডিপিএসে বার্ষিক হার ১২%। ব্যাংকটি বিভিন্ন মাসিক কিস্তির বিপরীতে মেয়াদপূর্তির অঙ্কও প্রকাশ করেছে। উদাহরণ হিসেবে মাসে ৫,০০০ টাকা করে ১০ বছর জমালে প্রকাশিত মেয়াদপূর্তির অঙ্ক ১১,৬১,৭০০ টাকা, যা প্রযোজ্য কর ও আবগারি শুল্ক কাটার আগের পরিমাণ।
এনআরবি ব্যাংকের ডিপিএসে কত হার রয়েছে?
এনআরবি ব্যাংকের ৮ জানুয়ারি ২০২৬ থেকে কার্যকর রেট তালিকা অনুযায়ী মাই ফিউচার ডিপিএসে ৩ বছরে ১১%, ৫ বছরে ১১.২৫% এবং ১০ বছরে ১১.৫০% হার রয়েছে। মাই ডিপিএসে ৭ ও ১০ বছরের জন্যও ১১.৫০% হার উল্লেখ রয়েছে। ফলে একই মেয়াদের অন্য ব্যাংকের ডিপিএসের সঙ্গে তুলনা করার সময় এনআরবি ব্যাংকের এসব প্রকাশিত হারও বিবেচনায় রাখা যেতে পারে।
শুধু বেশি লাভ দেখে ডিপিএস খোলা উচিত নয়
একটি ডিপিএস কয়েক বছরের নিয়মিত সঞ্চয়ের পরিকল্পনা। তাই প্রকাশিত হার গুরুত্বপূর্ণ হলেও সেটিই একমাত্র বিবেচ্য হওয়া উচিত নয়। কিস্তি মিস করলে কী নিয়ম প্রযোজ্য হবে, আগাম হিসাব বন্ধ করলে কত অর্থ পাওয়া যাবে, কিস্তি দেওয়ার সুবিধা কেমন এবং জমার বিপরীতে ঋণ বা অন্যান্য সুবিধা আছে কি না—এসব শর্তও আগে দেখে নেওয়া উচিত।
বাংলাদেশ ব্যাংকের প্রকাশিত তথ্য অনুযায়ী, আমানত সুরক্ষা আইন ২০২৬-এর আওতায় সুরক্ষিত আমানতের সীমা ১ লাখ টাকা থেকে বাড়িয়ে ২ লাখ টাকা করা হয়েছে। তাই বড় অঙ্কের দীর্ঘমেয়াদি সঞ্চয়ের ক্ষেত্রে শুধু ঘোষিত হার নয়, ব্যাংকের শর্ত, সেবা এবং নিজের আর্থিক পরিকল্পনাও বিবেচনা করা উচিত।
কর ও আবগারি শুল্কের পর প্রকৃত লাভ কমে যেতে পারে
ব্যাংকের প্রকাশিত মেয়াদপূর্তির অঙ্ক অনেক ক্ষেত্রে প্রযোজ্য কর ও আবগারি শুল্ক কাটার আগের হিসাব হতে পারে। আমানত থেকে অর্জিত সুদ বা মুনাফার ওপর প্রযোজ্য নিয়ম অনুযায়ী উৎসে কর কাটা হতে পারে। পাশাপাশি ব্যাংক হিসাবের নির্ধারিত স্থিতির ওপর আবগারি শুল্ক প্রযোজ্য হতে পারে। ১ জুলাই ২০২৬ থেকে ব্যাংক হিসাবে আবগারি শুল্কমুক্ত সীমা ৩ লাখ টাকা থেকে বাড়িয়ে ৪ লাখ টাকা করা হয়েছে।
ডিপিএস খোলার আগে যে হিসাবটি অবশ্যই করবেন
প্রথমে আপনার মাসিক সঞ্চয়ক্ষমতা নির্ধারণ করুন। এরপর একই মাসিক কিস্তি ও একই মেয়াদের জন্য অন্তত তিনটি ব্যাংকের প্রকাশিত মেয়াদপূর্তির অঙ্ক লিখে তুলনা করুন। তারপর সম্ভাব্য কর, আবগারি শুল্ক, কিস্তি মিস করার জরিমানা এবং আগাম হিসাব বন্ধ করার নিয়ম দেখুন। এসব বিবেচনার পর যে স্কিমটির কিস্তি আপনি নিয়মিত চালিয়ে যেতে পারবেন এবং যার শর্ত আপনার সঞ্চয় পরিকল্পনার সঙ্গে মানানসই, সেটি বেছে নেওয়া তুলনামূলকভাবে বাস্তবসম্মত।
ডিপিএস নিয়ে ১০টি গুরুত্বপূর্ণ প্রশ্ন ও উত্তর
১. এই লেখায় তুলনা করা ব্যাংকগুলোর মধ্যে কোন ডিপিএসে বেশি হার রয়েছে?
এই লেখায় ২০২৬ সালের ১৪ সেপ্টেম্বর পর্যন্ত যাচাই করা ব্যাংকগুলোর মধ্যে এসবিএসি ব্যাংকের মাসিক সঞ্চয় স্কিম–পারুয়ায় ৮ ও ১০ বছরের জন্য ১২.২৫% বার্ষিক হার রয়েছে। তবে এটি বাংলাদেশের সব ব্যাংকের সব ডিপিএসের স্থায়ী র্যাঙ্কিং নয়। কোনো ব্যাংক নতুন হার ঘোষণা করলে তুলনার ফল পরিবর্তিত হতে পারে।
২. সাধারণ ডিপিএস বাছাইয়ের সময় কী দেখব?
শুধু সর্বোচ্চ হার না দেখে মাসিক কিস্তি, মেয়াদ, প্রকাশিত মেয়াদপূর্তির অঙ্ক, আগাম হিসাব বন্ধ করার নিয়ম এবং অন্যান্য শর্ত তুলনা করা উচিত। একই কিস্তি ও একই মেয়াদের তথ্য পাশাপাশি রাখলে কোন স্কিমটি আপনার পরিকল্পনার সঙ্গে বেশি মানানসই তা বোঝা সহজ হয়।
৩. ১০ বছরের ডিপিএস কি ৫ বছরের চেয়ে বেশি লাভজনক?
একই বা কাছাকাছি হারের ক্ষেত্রে দীর্ঘ মেয়াদে নিয়মিত কিস্তি জমা হলে মোট মেয়াদপূর্তির অঙ্ক সাধারণত বেশি হতে পারে। তবে ১০ বছর কিস্তি চালিয়ে যাওয়ার সক্ষমতা থাকা গুরুত্বপূর্ণ। মাঝপথে হিসাব বন্ধ করলে সংশ্লিষ্ট ব্যাংকের আগাম বন্ধের নিয়ম অনুযায়ী ঘোষিত সুবিধার পুরোটা নাও পাওয়া যেতে পারে। তাই নিজের সঞ্চয়ক্ষমতার সঙ্গে মিলিয়ে মেয়াদ নির্বাচন করা উচিত।
৪. প্রতি মাসে ৫,০০০ টাকা ডিপিএস করলে কত টাকা পাওয়া যেতে পারে?
এটি সম্পূর্ণভাবে ব্যাংক, হার ও মেয়াদের ওপর নির্ভর করে। উদাহরণ হিসেবে সিটিজেন্স ব্যাংকের প্রকাশিত তালিকায় মাসে ৫,০০০ টাকা করে ১০ বছর জমালে কর ও আবগারি শুল্কের আগে ১১,৬১,৭০০ টাকা মেয়াদপূর্তির অঙ্ক দেখানো হয়েছে। অন্য ব্যাংকে একই কিস্তিতে অঙ্ক কম বা বেশি হতে পারে।
৫. ডিপিএসের সুদের হার কি হিসাব খোলার পর পরিবর্তন হতে পারে?
এটি সংশ্লিষ্ট ব্যাংকের স্কিমের শর্তের ওপর নির্ভর করে। কোনো স্কিমে হিসাব খোলার সময় নির্ধারিত হার বা মেয়াদপূর্তির অঙ্ক প্রযোজ্য থাকতে পারে, আবার অন্য স্কিমে ভিন্ন নিয়ম থাকতে পারে। তাই হিসাব খোলার আগে আবেদনপত্র ও শর্তাবলিতে হার, মেয়াদপূর্তির অঙ্ক এবং পরিবর্তনের নিয়ম দেখে নেওয়া উচিত।
৬. কিস্তি দিতে দেরি হলে কী হয়?
ব্যাংকভেদে নিয়ম আলাদা। বিলম্বিত কিস্তির জন্য জরিমানা বা অতিরিক্ত ফি থাকতে পারে এবং নির্দিষ্ট সময় কিস্তি জমা না হলে কিছু স্কিম বন্ধও হয়ে যেতে পারে। তাই হিসাব খোলার আগে বিলম্বিত কিস্তি ও হিসাব বন্ধ হওয়ার নিয়ম দেখে নেওয়া উচিত।
৭. মেয়াদের আগে ডিপিএস ভাঙলে পুরো লাভ পাওয়া যায় কি?
সব ক্ষেত্রে পুরো সুদ বা মুনাফা পাওয়া যায় না। আগাম হিসাব বন্ধ করার নিয়ম ব্যাংক ও স্কিমভেদে আলাদা। কোনো স্কিমে নির্দিষ্ট সময়ের আগে হিসাব বন্ধ করলে সুদ বা মুনাফা নাও পাওয়া যেতে পারে, আবার কোনো ক্ষেত্রে সাধারণ সঞ্চয় হিসাবের হার বা নির্ধারিত কম হার প্রযোজ্য হতে পারে। তাই হিসাব খোলার আগে আগাম বন্ধের শর্ত পড়ে নেওয়া জরুরি।
৮. ইসলামী ব্যাংকিংয়ের ডিপিএস আর প্রচলিত ডিপিএসের মধ্যে পার্থক্য কী?
প্রচলিত ব্যাংকিংয়ের ডিপিএসে সাধারণত নির্ধারিত সুদের হার উল্লেখ করা হয়। ইসলামী ব্যাংকিংয়ে মুদারাবাভিত্তিক স্কিমে সাধারণত সম্ভাব্য বা অস্থায়ী মুনাফার হার প্রকাশ করা হয় এবং প্রকৃত মুনাফা সংশ্লিষ্ট নীতির ভিত্তিতে নির্ধারিত হতে পারে। তাই দুই ধরনের স্কিমের শতাংশ সরাসরি তুলনা করার আগে শর্ত বুঝে নেওয়া গুরুত্বপূর্ণ।
৯. সর্বোচ্চ হারের ব্যাংকেই কি ডিপিএস করা উচিত?
না। বেশি প্রকাশিত হার একটি বিবেচ্য বিষয় হলেও সেটিই একমাত্র বিষয় নয়। মেয়াদপূর্তির অঙ্ক, কিস্তির নিয়ম, আগাম হিসাব বন্ধ করার শর্ত, সেবা এবং অন্যান্য প্রযোজ্য শর্তও তুলনা করা উচিত। দীর্ঘমেয়াদি সঞ্চয়ের ক্ষেত্রে সব শর্ত বুঝে তারপর সিদ্ধান্ত নেওয়া ভালো।
১০. ডিপিএস খোলার আগে সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ কোন তিনটি বিষয় যাচাই করব?
প্রথমে একই কিস্তি ও একই মেয়াদে প্রকাশিত মেয়াদপূর্তির অঙ্ক তুলনা করুন। দ্বিতীয়ত, আগাম হিসাব বন্ধ এবং কিস্তি মিস করার নিয়ম দেখুন। তৃতীয়ত, হিসাব খোলার দিনের সর্বশেষ হার ও প্রযোজ্য শর্ত নিশ্চিত করুন। এই তিনটি বিষয় যাচাই করলে শুধু ঘোষিত হার দেখে সিদ্ধান্ত নেওয়ার ঝুঁকি কমে।
উপসংহার
এই লেখায় ১৪ সেপ্টেম্বর ২০২৬ পর্যন্ত যাচাই করা ব্যাংকগুলোর মধ্যে এসবিএসি ব্যাংকের মাসিক সঞ্চয় স্কিম–পারুয়ায় ৮ ও ১০ বছরের জন্য ১২.২৫% বার্ষিক হার রয়েছে। সিটিজেন্স ব্যাংকের ১০ বছরের ডিপিএসে ১২% এবং এনআরবি ব্যাংকের কয়েকটি দীর্ঘমেয়াদি ডিপিএসে ১১.৫০% পর্যন্ত হার প্রকাশিত রয়েছে। তবে ডিপিএস তুলনার সময় শুধু হার নয়, একই কিস্তিতে মেয়াদপূর্তির অঙ্ক, প্রযোজ্য কর ও আবগারি শুল্ক, আগাম হিসাব বন্ধ করার নিয়ম এবং অন্যান্য শর্ত একসঙ্গে দেখা উচিত। হিসাব খোলার আগে সংশ্লিষ্ট ব্যাংকের সর্বশেষ রেট ও শর্ত নিশ্চিত করুন।