বর্তমানে ইন্টারনেটের যুগে কম্পিউটার ব্যবহার করতে গিয়ে আমরা সবসময় ভাইরাস বা ম্যালওয়্যারের আসষ্তে থাকি। অনেকেই মনে করেন, দামী অ্যান্টি- ভাইরাস সফটওয়্যার না কিনলে কম্পিউটার নিরাপদ রাখা অসম্ভব। কিন্তু ধারণাটি সম্পূর্ণ সঠিক নয়। সত্যি বলতে, আপনার সচেতনতা এবং উইন্ডোজের বিল্ট-ইন ফিচারগুলো সঠিকভাবে ব্যবহার করলে আলাদা কোনো থার্ড-পাটি অ্যান্টি-ভাইরাস ছাড়াই আপনি আপনার পিসিকে ১০০% সুরক্ষিত রাখতে পারেন।
১. উইন্ডোজ সিকিউরিটি বা ডিফেন্ডার এর সঠিক ব্যবহার
উইন্ডোজ ১০ এবং ১১ এর সাথে ‘Windows Security’ (আগে যা Windows Defender নামে পরিচিত ছিল) বিল্ট-ইন থাকে। এটি বর্তমানে বিশ্বের অন্যতম সেরা অ্যান্টি-ভাইরাস প্রোগ্রাম হিসেবে স্বীকৃত।
Real-time Protection: সবসময় নিশ্চিত করুন যে এটি চালু আছে। এটি ব্যাকগ্রাউন্ডে থেকে আপনার প্রতিটি ফাইল স্ক্যান করে।
Cloud-delivered Protection: এই অপশনটি চালু রাখলে নতুন কোনো ভাইরাস বাজারে আসার সাথে সাথেই তার ডাটাবেস আপডেট হয়ে যায়।
২. অপারেটিং সিস্টেম ও সফটওয়্যার আপডেট
ভাইরাস মূলত সিস্টেমের দুর্বলতা (Vulnerabilities) দিয়ে প্রবেশ করে। মাইক্রোসফট প্রতিনিয়ত ‘Security Patch’ আপডেট দেয় যাতে হ্যাকাররা কোনো ছিদ্র খুঁজে না পায়।
নিয়মিত উইন্ডোজ আপডেট চেক করুন।
শুধুমাত্র অপারেটিং সিস্টেম নয়, ব্রাউজার (Chrome/Edge) এবং ব্যবহৃত প্রতিটি সফটওয়্যার সবসময় লেটেস্ট ভার্সনে রাখুন।
৩. পাইরেটেড ও ক্র্যাক সফটওয়্যার বর্জন
ইন্টারনেটে আমরা অনেক দামী সফটওয়্যার ‘ফ্রি’ বা ‘ক্র্যাক’ হিসেবে পাই। মনে রাখবেন, হ্যাকাররা কখনোই দয়া করে আপনাকে কিছু ফ্রিতে দেয় না। এই ক্র্যাক ফাইলগুলোর ভেতরেই লুকিয়ে থাকে Trojan বা Ransomware।
ক্র্যাক ফাইল ব্যবহার করা মানে হলো আপনার ঘরের চাবি চোরের হাতে তুলে দেওয়া।
বিকল্প হিসেবে ‘Open Source’ সফটওয়্যার ব্যবহার করুন (যেমন: MS Office এর বদলে LibreOffice)।
৪. ব্রাউজিং ও ডাউনলোড করার সময় সতর্কতা
অধিকাংশ ভাইরাস আসে অনিরাপদ ওয়েবসাইট থেকে।
Ad-blocker ব্যবহার: ব্রাউজারে একটি ভালো অ্যাড-ব্লকার (যেমন: uBlock Origin) ব্যবহার করুন। অনেক সময় পপ-আপ অ্যাডে ক্লিক না করলেও ম্যালওয়্যার ডাউনলোড হয়ে যেতে পারে (Drive-by Download)।
URL চেক করা: কোনো ফাইল ডাউনলোড করার আগে ওয়েবসাইটের ঠিকানা বা URL দেখে নিন সেটি আসল কি না।
৫. ইমেইল অ্যাটাচমেন্টের ক্ষেত্রে সাবধানতা
ইমেইলের মাধ্যমে ভাইরাস ছড়ানো হ্যাকারদের সবচেয়ে পুরনো এবং কার্যকর কৌশল।
অপরিচিত কোনো মেইল থেকে আসা .zip, .exe বা .scr ফাইল ওপেন করবেন না।
এমনকি পরিচিত কেউ মেইল পাঠালেও যদি সেটি অস্বাভাবিক মনে হয়, তবে ক্লিক করার আগে তাকে নিশ্চিত করুন।
৬. ইউএসবি বা পেনড্রাইভ ব্যবহারের নিয়ম
অন্যের পেনড্রাইভ আপনার কম্পিউটারে লাগানোর সাথে সাথেই ‘Double Click’ করে ওপেন করবেন না।
প্রথমে রাইট ক্লিক করে ‘Scan with Windows Security’ দিয়ে স্ক্যান করে নিন।
অটো-রান (Auto-run) অপশনটি সেটিংস থেকে বন্ধ করে রাখা সবচেয়ে বুদ্ধিমানের কাজ।
৭. অ্যাডমিনিস্ট্রেটর অ্যাকাউন্ট ব্যবহার না করা
দৈনন্দিন ব্যবহারের জন্য ‘Standard User’ অ্যাকাউন্ট ব্যবহার করা নিরাপদ। কারণ কোনো ভাইরাস যদি সিস্টেমে ঢুকেও পড়ে, তবে অ্যাডমিন পারমিশন ছাড়া সেটি পুরো উইন্ডোজে ছড়িয়ে পড়তে পারবে না। গুরুত্বপূর্ণ কোনো সফটওয়্যার ইন্সটল করার সময়ই কেবল অ্যাডমিন পাসওয়ার্ড ব্যবহার করুন।
৮. ফায়ারওয়াল (Firewall) সক্রিয় রাখা
ফায়ারওয়াল আপনার কম্পিউটার এবং ইন্টারনেটের মাঝে একটি অদৃশ্য দেয়াল হিসেবে কাজ করে। এটি অনাকাঙ্ক্ষিত ট্রাফিক ব্লক করে দেয়। সবসময় নিশ্চিত করুন যে Windows Firewall সক্রিয় আছে।
একটি কম্পিউটার কতটা নিরাপদ থাকবে তা নির্ভর করে ব্যবহারকারীর অভ্যাসের ওপর। আপনি যদি নিয়ম মেনে আপডেট রাখেন, আজেবাজে সাইট থেকে ফাইল ডাউনলোড না করেন এবং উইন্ডোজের নিজস্ব নিরাপত্তা ব্যবস্থা সচল রাখেন, তবে আপনার পিসিতে কোনো ভাইরাস আক্রমণ করতে পারবে না। অ্যান্টি-ভাইরাস কেবল একটি টুল, কিন্তু আসল নিরাপত্তা হলো আপনার প্রযুক্তিগত সচেতনতা।