আপনার স্মার্টফোনটি কি আসল নাকি নকল চেনার সহজ পদ্ধতি

বর্তমানে প্রযুক্তির এই যুগে স্মার্টফোন আমাদের জীবনের অবিচ্ছেদ্য অংশ হয়ে দাঁড়িয়েছে। তবে এই সুযোগে বাজারে ছেয়ে গেচে ক্লোন বা মাস্টার কপি স্মার্টফোনে। অনেক সময় দেখা যায়, একদম নামি ব্র্যান্ডের লেটেস্ট মডেলের মতো দেখতে ফোনটি আসলে একটি সস্তা নকল ফোনগুলো নিরাপত্তার জন্য চরম ঝুঁকিপূর্ণ।

১. আই এমআই ( IMEI) নম্বর যাচাই করা

একটি ফোন আসল কি না তা বোঝার সবচেয়ে নির্ভরযোগ্য উপায় হলো এর IMEI (International Mobile Equipment Identity) নম্বর। প্রতিটি আসল ফোনের একটি ইউনিক ১৫ ডিজিটের নম্বর থাকে।
​পদ্ধতি: আপনার ফোনের ডায়াল প্যাডে গিয়ে *#06# টাইপ করুন। সাথে সাথে স্ক্রিনে ১৫ ডিজিটের একটি নম্বর ভেসে উঠবে।
​ভেরিফিকেশন: এবার IMEI.info ওয়েবসাইটটিতে যান এবং আপনার ফোনের নম্বরটি প্রবেশ করান। যদি ফোনটি আসল হয়, তবে ফোনের মডেল, ব্র্যান্ড এবং স্পেসিফিকেশন সব দেখাবে। যদি কোনো তথ্য না আসে, তবে বুঝবেন ফোনটি নকল।

২. হার্ডওয়্যার ও বডি ফিনিশিং লক্ষ্য করুন

ব্র্যান্ডেড কোম্পানিগুলো তাদের ফোনের ফিনিশিংয়ের দিকে অনেক নজর দেয়। কিন্তু নকল ফোন তৈরিতে সস্তা প্লাস্টিক বা নিম্নমানের কাঁচ ব্যবহার করা হয়।
​লোগো চেক: আসল ফোনের লোগো খুব মসৃণ এবং নিখুঁতভাবে বসানো থাকে। নকল ফোনের লোগো অনেক সময় আঙুল দিয়ে ঘষলে উঠে যায় বা বাঁকা দেখায়।
​বাটন ও পোর্ট: চার্জিং পোর্ট, হেডফোন জ্যাক এবং পাওয়ার বাটনগুলো আসল ফোনে খুব সুন্দরভাবে ফিট থাকে। নকল ফোনে এগুলো কিছুটা ঢিলেঢালা বা খসখসে মনে হতে পারে।

৩. ক্যামেরা পারফরম্যান্স পরীক্ষা

নকল ফোনের সবচেয়ে দুর্বল জায়গা হলো এর ক্যামেরা। বাইরে থেকে হয়তো বড় লেন্স বা বেশি মেগাপিক্সেল লেখা থাকে, কিন্তু ছবি তুললেই পার্থক্য বোঝা যায়।
​আসল ফোনের ক্যামেরায় অটোফোকাস দ্রুত কাজ করে এবং ছবির ডিটেইলস ভালো থাকে।
​নকল ফোনে তোলা ছবি জুম করলে ফেটে যায় এবং রঙগুলো অস্বাভাবিক দেখায়। অনেক সময় নকল ফোনে একাধিক ক্যামেরা লেন্স থাকলেও তার মধ্যে মাত্র একটি কাজ করে, বাকিগুলো ডামি হিসেবে বসানো থাকে।

​৪. অপারেটিং সিস্টেম ও সফটওয়্যার

​নকল বা ক্লোন ফোনগুলোতে সাধারণত অ্যান্ড্রয়েড অপারেটিং সিস্টেমের একটি মডিফাইড বা সস্তা ভার্সন ব্যবহার করা হয়।
​সেটিংস চেক: ফোনের Settings > About Phone-এ গিয়ে হার্ডওয়্যার তথ্য দেখুন। নকল ফোনে র‍্যাম বা স্টোরেজ বেশি দেখালেও কাজে তা অনেক ধীরগতির হয়।

​ইউজার ইন্টারফেস: স্যামসাং বা শাওমির মতো ব্র্যান্ডের নিজস্ব ইন্টারফেস (One UI বা MIUI) থাকে। নকল ফোনে এগুলো নকল করার চেষ্টা করলেও আইকন বা মেনুর ডিজাইনগুলো খুব একটা মসৃণ হয় না।

​৫. ওয়ারেন্টি কার্ড ও প্যাকেজিং

​একটি দামী স্মার্টফোন কেনার সময় তার বক্স এবং ভেতরের কাগজপত্রের দিকে খেয়াল করুন।
​আসল ফোনের বক্সে ম্যানুয়াল বুকলেট, নিখুঁত ছাপানো ওয়ারেন্টি কার্ড থাকে।
​নকল ফোনের বক্সের লেখাগুলো অনেক সময় অস্পষ্ট হয় বা বানানে ভুল থাকে। এছাড়া বক্সে দেওয়া বারকোড স্ক্যান করলেও আসল ফোনের তথ্য পাওয়া যায়।

​৬. প্রসেসর ও র‍্যাম পরীক্ষা (অ্যাপ ব্যবহার করে)

​ফোনটি যদি চালু থাকে, তবে গুগল প্লে-স্টোর থেকে ‘CPU-Z’ বা ‘Device Info HW’ নামক অ্যাপ ডাউনলোড করুন। এই অ্যাপটি আপনার ফোনের ভেতরের আসল হার্ডওয়্যার তথ্য বের করে দেবে। যদি প্যাকেটে লেখা থাকে ৮ জিবি র‍্যাম কিন্তু অ্যাপে দেখায় ২ জিবি, তবে নিশ্চিতভাবেই আপনি প্রতারিত হয়েছেন।

​৭. বিটিআরসি (BTRC) ডাটাবেস চেক (বাংলাদেশি ব্যবহারকারীদের জন্য)

​বাংলাদেশে বর্তমানে অফিশিয়াল ফোন চেনার সহজ উপায় হলো বিটিআরসি-র ডাটাবেস।
​আপনার ফোনের মেসেজ অপশনে গিয়ে লিখুন: KYD <space> ১৫ ডিজিটের IMEI নম্বর
​এরপর এটি পাঠিয়ে দিন 16001 নম্বরে।
​ফিরতি মেসেজে ফোনটি বিটিআরসি-র ডাটাবেসে নিবন্ধিত কি না তা জানিয়ে দেওয়া হবে।

স্মার্টফোন কেনার সময় সবসময় বিশ্বস্ত শোরুম বা অথরাইজড ডিলার থেকে কেনা বুদ্ধিমানের কাজ। রাস্তার ধারের দোকান বা অতি অল্প দামে “অরিজিনাল ফোন” অফার দেখলে সতর্ক হোন। মনে রাখবেন, সস্তায় দামী জিনিস পাওয়ার লোভই প্রতারণার মূল কারণ হয়ে দাঁড়ায়। উপরে উল্লেখিত পদ্ধতিগুলো মেনে চললে আপনি অনায়াসেই ক্লোন বা মাস্টার কপি ফোন শনাক্ত করতে পারবেন এবং আপনার কষ্টার্জিত টাকা সাশ্রয় করতে পারবেন।

Leave a Comment