নতুন ফোনের তুলনায় কম খরচে ভালো মানের ডিভাইস পাওয়ার সুযোগ থাকায় সেকেন্ড হ্যান্ড ফোনের প্রতি অনেকের আগ্রহ রয়েছে। বিশেষ করে কোনো ভালো মডেলের নতুন ফোন বাজেটের বাইরে হলে একই মডেলের ব্যবহৃত ফোন তুলনামূলক কম দামে পাওয়া যেতে পারে। কিন্তু শুধু বাহ্যিক অবস্থা সুন্দর বা দাম আকর্ষণীয় দেখেই ফোন কিনে ফেললে পরে ব্যাটারি, ডিসপ্লে, নেটওয়ার্ক, আইএমইআই কিংবা আগের মালিকের অ্যাকাউন্টসংক্রান্ত সমস্যায় পড়তে হতে পারে।
ব্যবহৃত ফোন যাচাইয়ের একটি সহজ উপায় হলো বিষয়টিকে তিনটি ধাপে দেখা: ফোনটির পরিচয় বৈধ কি না, আগের মালিকের অ্যাকাউন্ট সরানো হয়েছে কি না এবং হার্ডওয়্যার বর্তমানে কেমন কাজ করছে। শুধু ক্যামেরা চালু করে বা কয়েক মিনিট ফোন ব্যবহার করে সব সমস্যা বোঝা সম্ভব নয়। তাই মূল্য পরিশোধের আগে সম্ভব হলে ১৫ থেকে ২০ মিনিট সময় নিয়ে নিচের পরীক্ষাগুলো ধারাবাহিকভাবে করুন।
বাংলাদেশে ব্যবহৃত ফোন কেনার ক্ষেত্রে আইএমইআই যাচাই গুরুত্বপূর্ণ একটি ধাপ। পাশাপাশি আইফোন হলে অ্যাক্টিভেশন লক ও পরিবর্তিত যন্ত্রাংশের তথ্য এবং অ্যান্ড্রয়েড হলে আগের গুগল অ্যাকাউন্টের অবস্থা ও প্লে প্রোটেক্ট সার্টিফিকেশন দেখা প্রয়োজন। নিচের ধাপগুলো দোকান কিংবা ব্যক্তিগত বিক্রেতা উভয়ের কাছ থেকে ফোন কেনার সময় অনুসরণ করা যেতে পারে।
- তথ্য যাচাই: এই নির্দেশিকায় আইএমইআই সংক্রান্ত তথ্য বাংলাদেশ টেলিযোগাযোগ নিয়ন্ত্রণ কমিশনের এনইআইআর নির্দেশনার সঙ্গে এবং আইফোন, অ্যান্ড্রয়েড ও স্যামসাং ফোনের সংশ্লিষ্ট তথ্য নির্মাতা ও সেবাদাতার প্রকাশিত সহায়তা নির্দেশিকার সঙ্গে মিলিয়ে উপস্থাপন করা হয়েছে। ফোনের মডেল ও সফটওয়্যার সংস্করণভেদে কিছু মেনু বা সুবিধার অবস্থান ভিন্ন হতে পারে।
প্রথমে ফোনের আইএমইআই নম্বর যাচাই করুন
সেকেন্ড হ্যান্ড ফোনের ক্ষেত্রে প্রথম দিকের গুরুত্বপূর্ণ পরীক্ষাগুলোর একটি হলো আইএমইআই যাচাই। আইএমইআই সাধারণত ১৫ সংখ্যার একটি পরিচিতি নম্বর। ডুয়াল সিমসহ কিছু ফোনে একাধিক আইএমইআই থাকতে পারে। ফোনে *#06# ডায়াল করে নম্বরটি দেখা যায়। সেটিংসের ফোন-সম্পর্কিত তথ্য অংশেও এটি পাওয়া যেতে পারে। ফোনের বাক্স বা কেনার রসিদ থাকলে সেখানে থাকা আইএমইআইয়ের সঙ্গে ফোনে দেখানো নম্বর মিলিয়ে দেখুন।
বাংলাদেশের এনইআইআর ব্যবস্থায় আইএমইআই যাচাই করা যায়। মেসেজ অপশনে KYD লিখে একটি স্পেস দিয়ে ১৫ সংখ্যার আইএমইআই লিখে 16002 নম্বরে পাঠালে ডিভাইসটির বৈধতার অবস্থা সম্পর্কে ফিরতি বার্তা পাওয়া যায়। ডুয়াল সিম ফোনে সাধারণত একাধিক আইএমইআই থাকতে পারে, তাই প্রতিটি সিম স্লটের আইএমইআই আলাদাভাবে যাচাই করা গুরুত্বপূর্ণ।
আইএমইআই যাচাইয়ের ফলাফলে ফোনটি চুরি বা হারানো হিসেবে নিবন্ধিত, ব্লক করা অথবা বৈধভাবে নিবন্ধিত নয় এমন তথ্য পাওয়া গেলে বিষয়টি পরিষ্কার না হওয়া পর্যন্ত ফোনটি কেনা থেকে বিরত থাকুন। আইএমইআইয়ের সঙ্গে দেখানো ফোনের মডেল বা ডিভাইসের তথ্য না মিললেও সতর্ক হওয়া উচিত, কারণ এনইআইআরের তথ্য অনুযায়ী এমন অসামঞ্জস্য ক্লোন করা আইএমইআইয়ের সম্ভাবনার ইঙ্গিত হতে পারে।
ফোনটি আগের মালিকের অ্যাকাউন্ট থেকে মুক্ত কি না দেখুন
শুধু ফোন আনলক করে ব্যবহার করতে পারা মানেই মালিকানা সম্পূর্ণভাবে হস্তান্তর হয়েছে, এমন নয়। আইফোনে আগের মালিকের অ্যাপল অ্যাকাউন্ট যুক্ত থাকলে অ্যাক্টিভেশন লকের কারণে রিসেট করার পর নতুন মালিক ফোনটি চালু করতে নাও পারেন। তাই বিক্রেতাকে নিজের অ্যাকাউন্ট সরিয়ে ফোন রিসেট করতে বলুন এবং সেটআপের শুরুতে আগের মালিকের অ্যাকাউন্ট বা পাসওয়ার্ড চাওয়া হচ্ছে কি না পরীক্ষা করুন।
অ্যান্ড্রয়েড ফোনেও একই ধরনের সুরক্ষা রয়েছে। আগের গুগল অ্যাকাউন্ট না সরিয়ে নির্দিষ্ট পদ্ধতিতে ফোন রিসেট করা হলে পুনরায় চালুর সময় আগের অ্যাকাউন্টের তথ্য প্রয়োজন হতে পারে। তাই টাকা দেওয়ার আগে বিক্রেতার উপস্থিতিতেই পুরোনো অ্যাকাউন্ট সরানো এবং প্রয়োজন হলে রিসেটের পর প্রাথমিক সেটআপ পর্যন্ত পরীক্ষা করা সবচেয়ে নিরাপদ।
ডিসপ্লে শুধু দেখে নয়, স্পর্শ করে পরীক্ষা করুন
ব্যবহৃত ফোনে মেরামত ব্যয় বাড়াতে পারে এমন গুরুত্বপূর্ণ যন্ত্রাংশগুলোর একটি হলো ডিসপ্লে। সাদা, কালো, লাল, সবুজ ও নীল রঙের পূর্ণ পর্দার ছবি খুলে ডেড পিক্সেল, দাগ, অস্বাভাবিক ছায়া বা রঙের পার্থক্য আছে কি না দেখুন। পর্দার বিভিন্ন অংশে আঙুল চালিয়ে স্পর্শ ঠিকভাবে কাজ করছে কি না পরীক্ষা করুন। কিবোর্ড খুলে পর্দার বিভিন্ন স্থানের অক্ষর চাপ দিয়েও স্পর্শের কার্যকারিতা পরীক্ষা করা যায়।
পর্দায় হালকা দাগ থাকলেও তা ব্যবহারযোগ্য হতে পারে, কিন্তু নিজে থেকে স্পর্শ কাজ করা, কোনো অংশে টাচ না নেওয়া, ঝিলমিল করা বা আলো খুব কমে যাওয়া ভবিষ্যতে বড় খরচের কারণ হতে পারে।
ব্যাটারির অবস্থা বাস্তব ব্যবহারে পরীক্ষা করুন
সেকেন্ড হ্যান্ড ফোনের দাম নির্ধারণে ব্যাটারির অবস্থা গুরুত্বপূর্ণ। শুধু চার্জের শতাংশ দেখে সিদ্ধান্ত নেবেন না। কয়েক মিনিট ক্যামেরা চালানো, ভিডিও দেখা এবং ইন্টারনেট ব্যবহারের সময় চার্জ অস্বাভাবিক দ্রুত কমছে কি না লক্ষ্য করুন। হঠাৎ ফোন বন্ধ হয়ে যাওয়া বা চার্জের শতাংশ দ্রুত পরিবর্তন হওয়াও দুর্বল ব্যাটারির লক্ষণ হতে পারে।
আইফোনে সেটিংস থেকে ব্যাটারির সর্বোচ্চ ধারণক্ষমতা দেখা যায়। আইফোন ১৫ ও পরবর্তী কিছু মডেলে চার্জ সাইকেল, ব্যাটারি তৈরির তারিখ এবং প্রথম ব্যবহারের তারিখও দেখা যায়। অ্যাপলের তথ্য অনুযায়ী, আইফোন ১৪ ও তার আগের মডেলের ব্যাটারি আদর্শ পরিস্থিতিতে ৫০০টি পূর্ণ চার্জ সাইকেলের পর মূল ধারণক্ষমতার প্রায় ৮০ শতাংশ ধরে রাখার জন্য তৈরি করা হয়েছে। আইফোন ১৫ ও পরবর্তী মডেলের ক্ষেত্রে এই সংখ্যা ১,০০০ পূর্ণ চার্জ সাইকেল। তবে ব্যাটারির প্রকৃত ধারণক্ষমতা ফোন ব্যবহারের ধরন, তাপমাত্রা এবং চার্জ দেওয়ার অভ্যাসের ওপর নির্ভর করে।
সামঞ্জস্যপূর্ণ স্যামসাং গ্যালাক্সি ফোনে স্যামসাং মেম্বার্স অ্যাপের ফোন ডায়াগনস্টিকস সুবিধা ব্যবহার করে ব্যাটারিসহ বিভিন্ন যন্ত্রাংশ পরীক্ষা করা যায়। তবে ফোনের মডেল, অঞ্চল ও সফটওয়্যার সংস্করণভেদে পরীক্ষার সুবিধা বা প্রদর্শিত তথ্য ভিন্ন হতে পারে।
ক্যামেরা পরীক্ষা করতে কয়েকটি ছবি তুলুন
সামনের ও পেছনের প্রতিটি ক্যামেরা আলাদাভাবে চালু করুন। কাছের লেখা, দূরের বস্তু এবং আলো কম এমন জায়গায় ছবি তুলুন। অটো ফোকাস দ্রুত কাজ করছে কি না এবং ছবিতে স্থায়ী দাগ বা অস্বাভাবিক ঝাপসাভাব রয়েছে কি না দেখুন। ভিডিও ধারণ করে শব্দও পরীক্ষা করুন। একাধিক লেন্স থাকলে ওয়াইড, আল্ট্রা ওয়াইড ও জুমসহ সব উপলভ্য ক্যামেরা মোড পরীক্ষা করা ভালো।
কল, মাইক্রোফোন ও স্পিকার পরীক্ষা করুন
নিজের সিম ব্যবহার করে অন্তত একটি কল করুন। অপর প্রান্তের কথা পরিষ্কার শোনা যাচ্ছে কি না এবং আপনার কণ্ঠ ঠিকমতো যাচ্ছে কি না নিশ্চিত করুন। ভয়েস রেকর্ডারে কিছু কথা রেকর্ড করে শুনুন। ওপরের ইয়ারপিস ও নিচের স্পিকার দুটিই পরীক্ষা করুন। শব্দ ফেটে যাওয়া বা খুব কম শোনা গেলে স্পিকার বা ভেতরের যন্ত্রাংশে সমস্যা থাকতে পারে।
সিম, মোবাইল নেটওয়ার্ক, ওয়াই-ফাই ও ব্লুটুথ দেখুন
নিজের সিম ঢুকিয়ে কল এবং মোবাইল ডেটা চালিয়ে দেখুন। সিগন্যাল অস্বাভাবিক দুর্বল কি না লক্ষ্য করুন। ওয়াই-ফাই নেটওয়ার্কে যুক্ত হয়ে কিছুক্ষণ ইন্টারনেট চালান এবং ব্লুটুথ দিয়ে অন্য একটি ডিভাইস খুঁজে দেখুন। যে ফোনে এনএফসি রয়েছে সেখানে প্রয়োজন হলে সেই সুবিধাও পরীক্ষা করতে পারেন।
চার্জিং পোর্ট এবং সব বোতাম পরীক্ষা করুন
চার্জার লাগিয়ে ফোন স্বাভাবিকভাবে চার্জ নিচ্ছে কি না দেখুন। তার বা সংযোগস্থল সামান্য নড়াচড়া করলে বারবার চার্জ বন্ধ হয়ে যাচ্ছে কি না লক্ষ্য করুন। পাওয়ার, ভলিউম এবং অন্যান্য শারীরিক বোতাম কয়েকবার চাপুন। কম্পন, অটো রোটেশন, প্রক্সিমিটি সেন্সর এবং ফ্ল্যাশও পরীক্ষা করুন। সামঞ্জস্যপূর্ণ স্যামসাং গ্যালাক্সি ফোনে স্যামসাং মেম্বার্সের ফোন ডায়াগনস্টিকস ব্যবহার করে একাধিক যন্ত্রাংশ ও সুবিধা পরীক্ষা করা যায়।
ফিঙ্গারপ্রিন্ট ও মুখ শনাক্তকরণ নতুন করে সেট করুন
ফোনে ফিঙ্গারপ্রিন্ট অথবা মুখ শনাক্তকরণ সুবিধা থাকলে বিক্রেতার সংরক্ষিত তথ্য মুছে নতুন করে একটি নমুনা যোগ করে পরীক্ষা করুন। শুধু আগে থেকে সংরক্ষিত তথ্য দিয়ে ফোন খুলছে দেখে সিদ্ধান্ত নেওয়া যথেষ্ট নয়। নতুন ফিঙ্গারপ্রিন্ট বা মুখের তথ্য যোগ করা না গেলে সংশ্লিষ্ট সেন্সর, সফটওয়্যার সেটিংস বা যন্ত্রাংশে কোনো সমস্যা আছে কি না আরও পরীক্ষা করুন।
ফোন আগে খোলা বা যন্ত্রাংশ পরিবর্তন করা হয়েছে কি না দেখুন
ফ্রেম এবং ব্যাক প্যানেলের সংযোগস্থল ভালোভাবে দেখুন। অসমান ফাঁক, অতিরিক্ত আঠা, স্ক্রুর ক্ষত বা ক্যামেরা অংশে অস্বাভাবিক অবস্থান থাকলে ফোনটি আগে খোলা হয়ে থাকতে পারে। ফোন খোলা মানেই সেটি খারাপ নয়, তবে কোন যন্ত্রাংশ পরিবর্তন করা হয়েছে তা জানা জরুরি।
সামঞ্জস্যপূর্ণ আইফোনে সেটিংসের সাধারণ তথ্য অংশে পার্টস অ্যান্ড সার্ভিস হিস্ট্রি দেখা যেতে পারে। এখানে মেরামত বা পরিবর্তন করা কিছু যন্ত্রাংশ সম্পর্কে তথ্য পাওয়া যায়। কোনো যন্ত্রাংশ সম্পর্কে অজানা বা যাচাই করা যায়নি এমন বার্তা দেখালে তার কারণ সম্পর্কে নিশ্চিত হওয়ার চেষ্টা করুন। ব্যবহৃত যন্ত্রাংশের ধরন এবং ফোনের বর্তমান কার্যকারিতা বুঝে তারপর ক্রয়ের সিদ্ধান্ত নিন।
অ্যান্ড্রয়েড ফোনে সফটওয়্যারের স্বাভাবিকতা যাচাই করুন
অ্যান্ড্রয়েড ফোনে গুগল প্লে স্টোরের সেটিংস থেকে প্লে প্রোটেক্ট সার্টিফিকেশনের অবস্থা দেখা যায়। গুগলের তথ্য অনুযায়ী, প্লে প্রোটেক্ট সার্টিফায়েড ডিভাইস অ্যান্ড্রয়েড সামঞ্জস্য পরীক্ষার মধ্য দিয়ে যায়। আনলক করা বুটলোডার, পরিবর্তিত অ্যান্ড্রয়েড ব্যবস্থা বা রুট করা ফোনসহ কয়েকটি কারণে সার্টিফিকেশন পরীক্ষায় সমস্যা দেখা দিতে পারে। তাই ব্যবহৃত ফোনে “ডিভাইস সার্টিফায়েড নয়” বার্তা দেখা গেলে কারণ সম্পর্কে নিশ্চিত না হয়ে ক্রয়ের সিদ্ধান্ত নেওয়া উচিত নয়।
রসিদ, বাক্স ও বিক্রেতার তথ্য মিলিয়ে নিন
সম্ভব হলে মূল কেনার রসিদ, বাক্স এবং ওয়ারেন্টি-সংক্রান্ত কাগজপত্র দেখুন। বাক্সের মডেল, রঙ, ধারণক্ষমতা এবং আইএমইআই ফোনের সঙ্গে মিলছে কি না যাচাই করুন। ব্যক্তিগত বিক্রেতার কাছ থেকে কিনলে বিক্রেতার সম্মতিতে প্রয়োজনীয় যোগাযোগের তথ্য এবং লেনদেনের একটি লিখিত বা ডিজিটাল প্রমাণ সংরক্ষণ করতে পারেন। দোকান থেকে কিনলে পরিবর্তন বা ফেরতের নিয়ম এবং সময়সীমা আগেই জেনে নিন।
দাম নয়, ভবিষ্যৎ খরচ হিসাব করে সিদ্ধান্ত নিন
একটি ফোন বাজারদরের তুলনায় কম দামে পাওয়া গেলেই সেটি ভালো কেনাকাটা হবে, এমন নয়। অল্প সময়ের মধ্যে ব্যাটারি, ডিসপ্লে বা চার্জিং পোর্ট মেরামত বা পরিবর্তন করতে হলে মোট খরচ বেড়ে যেতে পারে। তাই সিদ্ধান্ত নেওয়ার সময় ফোনের বয়স, ব্যাটারির অবস্থা, পরিবর্তিত যন্ত্রাংশ, বাহ্যিক ক্ষতি, ভবিষ্যতে সফটওয়্যার হালনাগাদ পাওয়ার সম্ভাবনা এবং সম্ভাব্য মেরামত খরচ একসঙ্গে বিবেচনা করুন।
সেকেন্ড হ্যান্ড ফোন কেনা নিয়ে ১০টি গুরুত্বপূর্ণ প্রশ্ন ও উত্তর
১. সেকেন্ড হ্যান্ড ফোন কেনার ক্ষেত্রে সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ পরীক্ষা কোনটি?
একটি মাত্র পরীক্ষা যথেষ্ট নয়, তবে শুরুতে আইএমইআই ও মালিকানা যাচাই সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ। হার্ডওয়্যার পরে মেরামত করা সম্ভব হলেও চুরি, ব্লক বা আগের মালিকের অ্যাকাউন্টে লক থাকা ফোন বড় সমস্যায় ফেলতে পারে। তাই প্রথমে ডিভাইসের পরিচয় ও মালিকানা নিশ্চিত করে তারপর হার্ডওয়্যার পরীক্ষা করুন।
২. আইএমইআই ঠিক থাকলেই কি ফোন নিরাপদে কেনা যায়?
না। বৈধ আইএমইআই একটি গুরুত্বপূর্ণ ইতিবাচক সংকেত, কিন্তু এটি ব্যাটারি, ডিসপ্লে, ক্যামেরা বা পরিবর্তিত যন্ত্রাংশের অবস্থা বলে না। আইএমইআই যাচাইয়ের পাশাপাশি ফোনের অ্যাকাউন্ট লক, হার্ডওয়্যার এবং সফটওয়্যারও পরীক্ষা করতে হবে।
৩. ডুয়াল সিম ফোনে কি একটি আইএমইআই পরীক্ষা করলেই হবে?
সাধারণত উচিত নয়। ডুয়াল সিম ডিভাইসে একাধিক আইএমইআই থাকতে পারে এবং এনইআইআরও প্রতিটি আইএমইআই আলাদাভাবে যাচাই করার পরামর্শ দেয়। তাই *#06# ডায়াল করে প্রদর্শিত প্রতিটি আইএমইআই আলাদা করে পরীক্ষা করুন।
৪. আইফোনে ব্যাটারি হেলথ কত হলে কেনা ভালো?
শুধু একটি শতাংশ ধরে সিদ্ধান্ত নেওয়া ঠিক নয়। তুলনামূলক বেশি সর্বোচ্চ ধারণক্ষমতা সুবিধাজনক হলেও ফোনের বয়স, চার্জ সাইকেল, ব্যাটারি পরিবর্তন হয়েছে কি না এবং বাস্তবে চার্জ কতক্ষণ থাকে সেটিও গুরুত্বপূর্ণ। ধারণক্ষমতা অনেক কমে গেলে সম্ভাব্য ব্যাটারি পরিবর্তনের খরচ দাম থেকে বিবেচনা করা উচিত।
৫. ফোন রিসেট না করেই কি সেকেন্ড হ্যান্ড ফোন কেনা নিরাপদ?
ঝুঁকি থেকে যায়। বিশেষ করে আইফোন বা অ্যান্ড্রয়েডে আগের মালিকের অ্যাকাউন্ট যুক্ত থাকলে ভবিষ্যতে রিসেটের পর ফোন চালু করতে সমস্যা হতে পারে। সবচেয়ে ভালো পদ্ধতি হলো বিক্রেতার উপস্থিতিতে পুরোনো অ্যাকাউন্ট সরিয়ে প্রয়োজনীয় রিসেট ও প্রাথমিক সেটআপ পরীক্ষা করা।
৬. ডিসপ্লে পরিবর্তন করা ফোন কি কেনা উচিত নয়?
সব পরিবর্তিত ডিসপ্লে খারাপ নয়। মূল বিষয় হলো ডিসপ্লের মান, স্পর্শের স্বাভাবিকতা, রঙ, উজ্জ্বলতা এবং সংশ্লিষ্ট সুবিধাগুলো ঠিকভাবে কাজ করছে কি না। ডিসপ্লের মান বা উৎস সম্পর্কে নিশ্চিত হওয়া না গেলে ভবিষ্যৎ স্থায়িত্ব এবং সম্ভাব্য মেরামত খরচ বিবেচনা করে ক্রয়ের সিদ্ধান্ত নিন।
৭. ব্যবহৃত ফোন কতক্ষণ পরীক্ষা করা উচিত?
দুই বা তিন মিনিটে নির্ভরযোগ্য সিদ্ধান্ত নেওয়া কঠিন। অন্তত ১৫ থেকে ২০ মিনিট সময় নিয়ে কল, মোবাইল ডেটা, ক্যামেরা, চার্জিং, টাচ, স্পিকার, মাইক্রোফোন, ওয়াই-ফাই, ব্লুটুথ এবং বায়োমেট্রিক পরীক্ষা করলে অনেক সাধারণ সমস্যা ধরা পড়ে।
৮. বাক্স না থাকলে কি ফোন কেনা উচিত নয়?
বাক্স না থাকা মানেই ফোন অবৈধ নয়, কারণ দীর্ঘদিন ব্যবহারের পর অনেক মালিক বাক্স হারিয়ে ফেলেন। তবে বাক্স ও মূল রসিদ থাকলে ডিভাইসের ইতিহাস যাচাই সহজ হয়। বাক্স না থাকলে আইএমইআই, মালিকানা এবং বিক্রেতার পরিচয় যাচাইয়ে আরও সতর্ক হওয়া উচিত।
৯. অনলাইন থেকে সেকেন্ড হ্যান্ড ফোন কিনলে কী বিষয়ে সতর্ক থাকব?
ফোন হাতে পাওয়ার পর পরীক্ষা করার সুযোগ এবং ফেরত দেওয়ার নিয়ম আগে জেনে নিন। শুধু ছবি বা বিক্রেতার বর্ণনার ওপর নির্ভর করবেন না। সম্ভব হলে মূল্য পরিশোধ চূড়ান্ত করার আগে আইএমইআই, আগের মালিকের অ্যাকাউন্টের অবস্থা, ব্যাটারি এবং প্রধান যন্ত্রাংশ পরীক্ষা করার সুযোগ রাখুন।
১০. খুব কম দামে ভালো ফোন পাওয়া গেলে কি নেওয়া উচিত?
বাজারদরের তুলনায় অস্বাভাবিক কম দাম হলে কারণ খুঁজুন। জরুরি বিক্রির মতো স্বাভাবিক কারণ থাকতে পারে, আবার লুকানো হার্ডওয়্যার সমস্যা, অ্যাকাউন্ট লক বা ডিভাইসের ইতিহাসসংক্রান্ত সমস্যাও থাকতে পারে। দামকে সিদ্ধান্তের প্রথম কারণ না বানিয়ে যাচাই সম্পন্ন হওয়ার পরই লেনদেন করা নিরাপদ।
উপসংহার
সঠিকভাবে যাচাই করে কিনলে সেকেন্ড হ্যান্ড ফোন নতুন ফোনের তুলনায় কম খরচে প্রয়োজন মেটানোর একটি বিকল্প হতে পারে। তবে শুধু বাহ্যিক অবস্থা বা কম দাম দেখে সিদ্ধান্ত না নিয়ে প্রথমে আইএমইআই ও আগের মালিকের অ্যাকাউন্টের অবস্থা যাচাই করুন। এরপর ব্যাটারি, ডিসপ্লে, ক্যামেরা, নেটওয়ার্ক, চার্জিং, বায়োমেট্রিক এবং সফটওয়্যারের বর্তমান অবস্থা পরীক্ষা করুন। কেনার আগে ফোনটির বর্তমান অবস্থা এবং সম্ভাব্য ভবিষ্যৎ মেরামত খরচ সম্পর্কে যতটা সম্ভব পরিষ্কার ধারণা নেওয়াই ভালো।