পুরানো স্মার্টফোন নতুনের মতো ফাস্ট করার গোপন টিপস

বর্তমান যুগে স্মার্টফোন আমাদের জীবনের অবিচ্ছেদ্য অংশ। কিন্তু সমস্যা হয় তখন, যখন শখের ফোনটি ব্যবহারের কয়েক বছর পর স্লো হয়ে যায় বা ল্যাগ করতে শুরু করে। হ্যাং হওয়া বা অ্যাপ ওপেন হতে দেরি হওয়া বিরক্তির কারণ হয়ে দাড়ায়। অনেকে ভাবেন নতুন ফোন কেনা ছাড়া উপায় নেই, কিন্তু কিছু টেকনিক্যাল কৌশল অবলম্বন করলে আপনার পুরানো ফোনটিকেই নতুনের মতো দ্রুতগতির করে তোলা সম্ভব। নিচে ফোন ফাস্ট করার সেরা উপায়গুলো আলোচনা করা হলো।

১. ইন্টারনাল স্টোরেজ খালি রাখা

স্মার্টফোন স্লো হওয়ার প্রধান কারণ হলো স্টোরেজ পূর্ণ হয়ে যাওয়া। ফোনের মেমোরি যদি ৮০-৯০% পূর্ণ থাকে, তবে অপারেটিং সিস্টেম কাজ করার জন্য পর্যাপ্ত জায়গা পায় না।
​অপ্রয়োজনীয় ফাইল ডিলিট: হোয়াটসঅ্যাপ বা টেলিগ্রামের অপ্রয়োজনীয় ভিডিও এবং ডুপ্লিকেট ছবি ডিলিট করুন।
​ক্লাউড স্টোরেজ ব্যবহার: ফোনের জায়গা বাঁচাতে Google Photos বা Drive ব্যবহার করে ফাইল অনলাইনে ব্যাকআপ রাখুন।

২. ক্যাশ ডেটা ( Cache Data) পরিষ্কার করা

আমরা যখন কোনো অ্যাপ ব্যবহার করি, তখন সেটি কিছু অস্থায়ী ফাইল জমা করে রাখে যাকে ক্যাশ বলা হয়। সময়ের সাথে সাথে এই ফাইলগুলো মেমোরি দখল করে ফোনকে স্লো করে দেয়। সেটিংস থেকে ‘Storage’ বা ‘Apps’ সেকশনে গিয়ে নিয়মিত ‘Clear Cache’ করুন। এটি আপনার ফোনের গতি তাৎক্ষণিকভাবে বাড়িয়ে দেবে।

​৩. ডেভেলপার অপশন ও অ্যানিমেশন স্কেল (গোপন ট্রিক)

​এটি স্মার্টফোন ফাস্ট করার সবচেয়ে কার্যকরী গোপন টিপস। ফোনের সিস্টেম অ্যানিমেশনগুলো দেখতে সুন্দর হলেও তা প্রসেসরের ওপর চাপ সৃষ্টি করে।
​ফোনের Settings > About Phone-এ গিয়ে Build Number-এর ওপর ৭ বার ক্লিক করে ‘Developer Options’ চালু করুন।
​এবার সেটিংসের ভেতর ‘Developer Options’-এ গিয়ে Window animation scale, Transition animation scale, এবং Animator duration scale খুঁজে বের করুন।
​এগুলো সাধারণত ‘1x’ থাকে। এগুলোকে কমিয়ে ‘0.5x’ করে দিন। দেখবেন আপনার ফোন আগের চেয়ে অনেক বেশি রেসপন্সিভ এবং ফাস্ট হয়ে গেছে।

​৪. লাইট (Lite) ভার্সন অ্যাপের ব্যবহার

​ফেসবুক, মেসেঞ্জার, ইনস্টাগ্রাম বা টিকটকের মতো অ্যাপগুলো প্রচুর র‍্যাম (RAM) এবং প্রসেসর ক্ষমতা ব্যবহার করে। আপনার ফোনটি যদি বাজেট ফোন বা পুরানো মডেলের হয়, তবে এই অ্যাপগুলোর ‘Lite’ ভার্সন ব্যবহার করা বুদ্ধিমানের কাজ। এগুলো অনেক কম জায়গা নেয় এবং দুর্বল নেটওয়ার্কেও দ্রুত কাজ করে।

​৫. ব্যাকগ্রাউন্ড প্রসেস লিমিট করা

​আমাদের অজান্তেই অনেক অ্যাপ ফোনের ব্যাকগ্রাউন্ডে চালু থাকে, যা র‍্যাম দখল করে রাখে। ডেভেলপার অপশনে গিয়ে ‘Background process limit’ অপশনটি খুঁজে বের করুন। সেখানে ‘Standard Limit’-এর পরিবর্তে ‘At most 2 processes’ সিলেক্ট করে দিন। এতে আপনার ফোন মাল্টিটাস্কিংয়ের সময় ল্যাগ করবে না।

​৬. অপ্রয়োজনীয় ব্লোটওয়্যার (Bloatware) রিমুভ

​অনেক সময় ফোন কেনার সময় অনেক ফালতু অ্যাপ প্রি-ইনস্টল করা থাকে। এগুলো ডিলিট করা না গেলে সেটিংস থেকে ‘Disable’ বা ‘Force Stop’ করে রাখুন। এতে সেগুলো আর প্রসেসরের ক্ষতি করতে পারবে না। এছাড়া অপ্রয়োজনীয় উইজেট এবং লাইভ ওয়ালপেপার ব্যবহার করা বন্ধ করুন।

​৭. সিস্টেম আপডেট এবং ফ্যাক্টরি রিসেট

​সব সময় ফোনের সফটওয়্যার লেটেস্ট ভার্সনে আপডেট রাখুন। আর যদি ফোন অত্যধিক স্লো হয়ে যায়, তবে সব ডেটা ব্যাকআপ নিয়ে একবার ‘Factory Data Reset’ দিন। এটি ফোনকে সফটওয়্যারের দিক থেকে একদম নতুন অবস্থায় ফিরিয়ে আনবে।

৮. মেমোরি কার্ড ব্যবহারের ক্ষেত্রে সতর্কতা

​আপনি যদি মেমোরি কার্ড ব্যবহার করেন, তবে খেয়াল রাখবেন সেটি যেন ভালো মানের (Class 10 বা তার বেশি) হয়। স্লো মেমোরি কার্ড ফোনের সামগ্রিক পারফরম্যান্স কমিয়ে দেয়। সম্ভব হলে ইন্টারনাল স্টোরেজ ব্যবহার করার চেষ্টা করুন।

স্মার্টফোন ফাস্ট রাখা মূলত সঠিক রক্ষণাবেক্ষণের ওপর নির্ভর করে। উপরের টিপসগুলো অনুসরণ করলে আপনার কয়েক বছরের পুরানো ফোনটিও নতুনের মতো স্মুথ পারফরম্যান্স দেবে। বিশেষ করে অ্যানিমেশন স্কেল কমানো এবং ক্যাশ পরিষ্কার করার বিষয়টি নিয়মিত করলে আপনি অভাবনীয় ফলাফল পাবেন। অপ্রয়োজনীয় অ্যাপ এড়িয়ে চলুন এবং স্মার্টফোনকে রাখুন জঞ্জালমুক্ত।

Leave a Comment