বর্তমান স্মার্টফোন ব্যবহারকারীদের একটি বড় দুশ্চিন্তা হলো দ্রুত ডাটা বা এমবি শেষ হয়ে যাওয়া। অনেক সময় দেখা যায় কোনো বড় কিছু ডাউনলোড না করলেও ব্যালেন্স থেকে ডাটা উধাও হয়ে যাচ্ছে। এই সমস্যা থেকে মুক্তি পেতে এবং ইন্টারনেটের সঠিক সাশ্রয় করতে নিচের সিস্টেমগুলো অনুসরণ করুন:
১. সিস্টেম -ওয়াইড ডাটা সেভার চালু করা
আপনার ফোনের সেটিংসেই ডাটা সাশ্রয় করার মূল চাবিকাঠি রয়েছে। অ্যান্ড্রয়েড বা আইফোনের ‘Settings’ এ গিয়ে ‘Data Saver’ অপশনটি সার্চ করুন এবং এটি অন করে দিন। এটি চালু থাকলে ব্যাকগ্রাউন্ডে কোনো অ্যাপ আপনার অনুমতি ছাড়া ডাটা খরচ করতে পারবে না।
২. ফেসবুক ও ইউটিউবে ডাটা সাশ্রয়
সবচেয়ে বেশি এমবি খরচ হয় ভিডিও দেখার মাধ্যমে।
ফেসবুক: সেটিংস থেকে ‘Media’ অপশনে যান এবং ‘Data Saver’ মোড অন করুন। সাথে ‘Autoplay Off’ করে দিন।
ইউটিউব: ভিডিওর সেটিংসে গিয়ে ‘Data Saving Mode’ চালু করুন। এতে ভিডিওর কোয়ালিটি অটোমেটিক অ্যাডজাস্ট হবে এবং এমবি কম কাটবে।
৩. অ্যাপের ব্যাকগ্রাউন্ড রিফ্রেশ বন্ধ রাখা
আমরা যখন কোনো অ্যাপ ব্যবহার করি না, তখনও সেগুলো ইন্টারনেটের সাথে যুক্ত থেকে আপডেট নেয় বা নোটিফিকেশন পাঠায়। একে বলা হয় ‘Background Data’। ফোনের Settings > Apps এ গিয়ে যেসব অ্যাপ আপনি কম ব্যবহার করেন, সেগুলোর ‘Restrict Background Data’ চালু করে দিন।
৪. গুগল প্লে-স্টোরের অটো-আপডেট বন্ধ করা
ফোনের অ্যাপগুলো প্রায়ই আপডেট চায়। অনেক সময় প্লে-স্টোর নিজ থেকেই ডাটা ব্যবহার করে অ্যাপ আপডেট শুরু করে দেয়। এটি বন্ধ করতে প্লে-স্টোর সেটিংস থেকে ‘Auto-update apps’ অপশনটি ‘Over Wi-Fi only’ সিলেক্ট করে রাখুন।
৫. ডাটা লিমিট বা সীমা নির্ধারণ
আপনার দৈনিক বা মাসিক বাজেট অনুযায়ী ফোনে ডাটা লিমিট সেট করে নিন। ধরুন, আপনি ১ জিবি ডাটা কিনেছেন। আপনি যদি লিমিট সেট করে রাখেন, তবে ৮০০ বা ৯০০ এমবি খরচ হওয়ার পর ফোন আপনাকে সতর্ক করবে। এতে হুট করে ডাটা শেষ হয়ে টাকা কাটার ভয় থাকে না।
৬. লাইট (Lite) অ্যাপ ব্যবহার করা
আপনার ফোনের র্যাম ও ডাটা দুটোই বাঁচাতে ফেসবুক, মেসেঞ্জার বা টুইটারের মতো ভারী অ্যাপের পরিবর্তে সেগুলোর ‘Lite’ ভার্সন ব্যবহার করুন। এই অ্যাপগুলো খুব কম ডাটাতেও দ্রুত কাজ করে।
৭. ব্রাউজারে ডাটা সাশ্রয় (Google Chrome)
যদি আপনি ক্রোম ব্রাউজার ব্যবহার করেন, তবে এর সেটিংসে গিয়ে ‘Lite Mode’ (যদি উপলব্ধ থাকে) বা ডাটা সেভিং এক্সটেনশন ব্যবহার করতে পারেন। এটি ওয়েবপেজ লোড হওয়ার সময় অপ্রয়োজনীয় ইমেজ বা কোড সংকুচিত করে দেয়।
৮. হোয়াটসঅ্যাপ ও ইমোর অটো-ডাউনলোড বন্ধ
হোয়াটসঅ্যাপ বা ইমোতে কেউ ছবি বা ভিডিও পাঠালে তা অটোমেটিক ডাউনলোড হয়ে যায়। এটি বন্ধ করতে অ্যাপের স্টোরেজ সেটিংসে গিয়ে ‘When using mobile data’ অপশনে সব টিক মার্ক তুলে দিন। এতে আপনি ক্লিক না করা পর্যন্ত কিছু ডাউনলোড হবে না।
৯. ক্লাউড সিঙ্কিং ও ব্যাকআপ নিয়ন্ত্রণ
গুগল ফটোস বা ড্রাইভের মতো ক্লাউড অ্যাপগুলো সবসময় আপনার ফোনের ছবি ব্যাকআপ নিতে থাকে। এই সেটিংসে গিয়ে ‘Back up over Wi-Fi only’ অপশনটি চালু রাখুন। এতে মোবাইল ডাটা দিয়ে বড় ফাইল আপলোড হবে না।
১০. অফলাইন ম্যাপ ও মিউজিক
যাঁরা নিয়মিত যাতায়াতের জন্য ম্যাপ বা গান শোনেন, তাঁরা ওয়াই-ফাই থাকা অবস্থায় ম্যাপের নির্দিষ্ট এরিয়া বা পছন্দের গানগুলো Offline এ সেভ করে রাখুন। এতে বাইরে বের হলে আর ইন্টারনেটের প্রয়োজন পড়বে না।
মোবাইল ডাটা সাশ্রয় করা মানে শুধু এমবি বাঁচানো নয়, এটি আপনার ফোনের ব্যাটারি ব্যাকআপও বাড়াতে সাহায্য করে। উপরের এই ডিজিটাল সিস্টেমগুলো আপনার ফোনে সেট করে নিলে আগের চেয়ে অন্তত ৪০-৫০% ডাটা সাশ্রয় করা সম্ভব। আপনার প্রয়োজন অনুযায়ী আজই সেটিংসগুলো পরিবর্তন করে নিন।