স্মার্টফোনের ব্যাটারি লাইফ বাড়ানোর ১০টি কার্যকরী উপায়

১. ডিসপ্লের ব্রাইটনপসও উজ্জ্বলতা নিয়ন্ত্রণ করা

স্মার্টফোনের ব্যাটারি সবচেয়ে বেশি খরচ করে এর ডিসপ্লে। সবসময় ফুল ব্রাইটনেস দিয়ে রাখলপ চার্জ দ্রুত শেষ হয়। তাই Auto Brightness মুড অন করে রাখতে পারেন অথবা প্রয়োজন অনুযায়ী ম্যানুয়ালী ব্রাইটনেস কমিয়ে রাখুন। এছাড়া স্ক্রিনটাইপ যদি Amoled হয়, তবে ডার্ক মুড ব্যবহার করলে প্রচুর চার্জ সাশ্রয় হয়।

​২. অপ্রয়োজনীয় কানেক্টিভিটি বন্ধ রাখা

​আমাদের অনেকেরই ফোনে সবসময় Wi-Fi, Bluetooth, GPS (Location) এবং NFC চালু থাকে। আপনি যখন এগুলো ব্যবহার করছেন না, তখন এই সেন্সরগুলো ব্যাকগ্রাউন্ডে ক্রমাগত সিগন্যাল খুঁজতে থাকে, যা ব্যাটারির ওপর চাপ সৃষ্টি করে। প্রয়োজন শেষ হওয়া মাত্রই এগুলো বন্ধ করার অভ্যাস করুন।

​৩. ব্যাকগ্রাউন্ড অ্যাপ রিফ্রেশ সীমাবদ্ধ করা

​অনেক অ্যাপ আছে যা আপনি ব্যবহার না করলেও ফোনের ব্যাকগ্রাউন্ডে সচল থাকে এবং ডেটা ও ব্যাটারি খরচ করে। ফোনের সেটিংস থেকে ‘Background App Refresh’ অপশনটি বন্ধ করে দিন অথবা নির্দিষ্ট কিছু প্রয়োজনীয় অ্যাপ ছাড়া বাকিগুলোর ব্যাকগ্রাউন্ড অ্যাক্টিভিটি রিফ্রিক্ট করে দিন।

​৪. সঠিক চার্জিং পদ্ধতি অনুসরণ করা (২০-৮০ নিয়ম)

​ব্যাটারির স্বাস্থ্য ভালো রাখতে কখনোই চার্জ ০% এ নামিয়ে আনবেন না এবং ১০০% পূর্ণ করবেন না। লিথিয়াম-আয়ন ব্যাটারির জন্য সবচেয়ে আদর্শ হলো চার্জ ২০% থেকে ৮০% এর মধ্যে রাখা। মাসে একবার ফুল চার্জ দেওয়া যেতে পারে, তবে নিয়মিত ৮০-৯০% এর মধ্যে চার্জ রাখা ব্যাটারির আয়ু বাড়াতে সাহায্য করে।

​৫. অরিজিনাল চার্জার ও ক্যাবল ব্যবহার করা

​সবসময় ফোনের সাথে আসা অরিজিনাল চার্জার বা নির্দিষ্ট ব্র্যান্ডের সার্টিফাইড চার্জার ব্যবহার করুন। সস্তা বা নন-ব্র্যান্ডের চার্জার ফোনের ব্যাটারিকে অতিরিক্ত গরম করে ফেলে এবং স্থায়ীভাবে ড্যামেজ করে দিতে পারে।

​৬. পুশ নোটিফিকেশন কমিয়ে আনা

​আপনার ফোনে থাকা প্রতিটি অ্যাপ যদি সারাদিন নোটিফিকেশন পাঠাতে থাকে, তবে বারবার স্ক্রিন জ্বলে ওঠে এবং প্রসেসর কাজ শুরু করে। ফেসবুক, ইনস্টাগ্রাম বা গেমসের অপ্রয়োজনীয় নোটিফিকেশন বন্ধ রাখলে ব্যাটারি অনেকক্ষণ ব্যাকআপ দেবে।

​৭. ভাইব্রেশন এবং কি-বোর্ড সাউন্ড বন্ধ রাখা

​ফোনের রিঙটোন বাজার চেয়ে ভাইব্রেশন হতে বেশি শক্তির প্রয়োজন হয়। তাই খুব বেশি প্রয়োজন না হলে ফোনের Haptic Feedback বা ভাইব্রেশন বন্ধ রাখুন। টাইপিংয়ের সময় কি-বোর্ড সাউন্ড বা ভাইব্রেশন বন্ধ রাখলেও বেশ খানিকটা চার্জ বাঁচে।

​৮. অ্যাপ আপডেট এবং অপারেটিং সিস্টেম আপডেট

​সফটওয়্যার ডেভেলপাররা প্রায়ই নতুন আপডেটের মাধ্যমে ব্যাটারি অপ্টিমাইজেশন করে থাকেন। পুরনো ভার্সনে অনেক সময় ‘বাগ’ (Bug) থাকতে পারে যা ব্যাটারি দ্রুত ড্রেইন করে। তাই নিয়মিত আপনার অ্যাপ এবং ফোনের ওএস (OS) আপডেট রাখুন।

​৯. ফোন অতিরিক্ত গরম হওয়া থেকে বাঁচানো

​অতিরিক্ত তাপ ব্যাটারির প্রধান শত্রু। চার্জে দিয়ে গেম খেলা বা সরাসরি রোদে ফোন রাখা এড়িয়ে চলুন। ফোন যদি খুব বেশি গরম হয়ে যায়, তবে কিছুক্ষণ ব্যবহার বন্ধ রাখুন এবং কভার খুলে ঠান্ডা হতে দিন।

​১০. ব্যাটারি সেভার মুড ব্যবহার করা

​আপনার ফোনের চার্জ যখন কমে আসবে (যেমন ৩০% বা ২০%), তখন ‘Battery Saver’ বা ‘Low Power Mode’ চালু করুন। এটি স্বয়ংক্রিয়ভাবে ব্যাকগ্রাউন্ড প্রসেস কমিয়ে দেয় এবং ডিসপ্লের পারফরম্যান্স অ্যাডজাস্ট করে ব্যাটারিকে দীর্ঘক্ষণ টিকিয়ে রাখে।

​বোনাস টিপস: আপনি যদি এমন কোথাও থাকেন যেখানে নেটওয়ার্ক খুব দুর্বল, তবে ফোনটি Airplane Mode-এ রাখুন। কারণ দুর্বল নেটওয়ার্কে সিগন্যাল পাওয়ার জন্য ফোন দ্বিগুণ শক্তি খরচ করে।

Leave a Comment