সর্বজনীন পেনশনে রেজিস্ট্রেশন করবেন যেভাবে

বাংলাদেশের সর্বজনীন পেনশন ব্যবস্থা মূলত প্রচলিত সরকারি পেনশন কাঠামোর বাইরে থাকা নাগরিকদের দীর্ঘমেয়াদি আর্থিক নিরাপত্তার জন্য। জাতীয় পেনশন কর্তৃপক্ষের বর্তমান তথ্য অনুযায়ী প্রবাস, প্রগতি, সুরক্ষা ও সমতা এই চারটি স্কিমে নিবন্ধন চলছে। ২৩ সেপ্টেম্বর ২০২৬ পর্যন্ত মোট নিবন্ধনকারীর সংখ্যা ৩ লাখ ৭৯ হাজার ৭২৮ জন। রেজিস্ট্রেশনের আগে নিজের পেশা, উপযুক্ত স্কিম, চাঁদার সামর্থ্য এবং নমিনির তথ্য ঠিক করে রাখা তাই গুরুত্বপূর্ণ।

বর্তমান নিবন্ধন ব্যবস্থা মূলত অনলাইনভিত্তিক এবং সাধারণ নিবন্ধনের জন্য প্রয়োজনীয় কাগজপত্রের হার্ডকপি জমা দিতে হয় না। ব্যাংক হিসাব না থাকলেও মোবাইল আর্থিক সেবার হিসাব ব্যবহার করে নিবন্ধনের সুযোগ রয়েছে। তবে স্কিম নির্বাচন, ব্যাংক বা মোবাইল আর্থিক সেবার হিসাব নম্বর এবং নমিনির তথ্য জমা দেওয়ার আগে ভালোভাবে যাচাই করা উচিত, যাতে পরে তথ্য সংশোধন বা সুবিধা গ্রহণের সময় অপ্রয়োজনীয় জটিলতা না হয়।

এই নির্দেশিকায় রেজিস্ট্রেশনের আগে কী যাচাই করবেন, কোন স্কিম কার জন্য, কী তথ্য লাগবে, কীভাবে চাঁদা দেবেন এবং নিবন্ধনের পর হিসাব দেখবেন এসব ধাপে ধাপে ব্যাখ্যা করা হয়েছে। তথ্যগুলো জাতীয় পেনশন কর্তৃপক্ষের বর্তমান নিবন্ধন ফরম, প্যাকেজ ও হেল্পডেস্কের নির্দেশনার সঙ্গে মিলিয়ে সাজানো।

তথ্য সর্বশেষ যাচাই: স্কিমের যোগ্যতা, চাঁদার হার, আয়সীমা বা অন্যান্য বিধান সময়ের সঙ্গে পরিবর্তিত হতে পারে। তাই নিবন্ধনের আগে জাতীয় পেনশন কর্তৃপক্ষের সরকারি ওয়েবসাইটে সর্বশেষ তথ্য মিলিয়ে নেওয়া উচিত।

Table of Contents

সর্বজনীন পেনশনে কারা নিবন্ধন করতে পারবেন

সাধারণভাবে ১৮ থেকে ৫০ বছর বয়সী বাংলাদেশি নাগরিক নিজের পেশা ও অবস্থার সঙ্গে সামঞ্জস্যপূর্ণ স্কিমে অংশ নিতে পারেন। বিশেষ বিবেচনায় ৫০ বছরের বেশি বয়সীরাও নিবন্ধন করতে পারেন; তাদের নিবন্ধনের পর নিরবচ্ছিন্নভাবে অন্তত ১০ বছর চাঁদা দেওয়ার শর্ত রয়েছে। বর্তমান নিবন্ধন ফরমে আবেদনকারীকে প্রত্যয়ন করতে হয় যে তিনি সরকারি, আধা সরকারি, স্বায়ত্তশাসিত বা সংবিধিবদ্ধ রাষ্ট্রায়ত্ত প্রতিষ্ঠানে কর্মরত নন, সর্বজনীন পেনশন স্কিমের বাইরে কোনো রাষ্ট্রায়ত্ত প্রতিষ্ঠান থেকে পেনশন সুবিধা গ্রহণ করেন না এবং সামাজিক নিরাপত্তা কর্মসূচির আওতায় কোনো ভাতা গ্রহণ করেন না। তাই আবেদন করার আগে নিজের চাকরি ও বিদ্যমান সরকারি সুবিধার অবস্থা যাচাই করা জরুরি।

বর্তমানে চালু চারটি স্কিম কোনটি কার জন্য

প্রবাস স্কিম বিদেশে কর্মরত বা অবস্থানকারী বাংলাদেশি নাগরিকদের জন্য। জাতীয় পেনশন কর্তৃপক্ষের বর্তমান প্যাকেজ পাতায় মাসিক ১,০০০, ২,০০০, ৫,০০০, ৭,৫০০ ও ১০,০০০ টাকার চাঁদার বিকল্প রয়েছে। প্রগতি স্কিম বেসরকারি প্রতিষ্ঠানের মালিক ও কর্মচারীদের জন্য; এতে মাসিক ১,০০০, ২,০০০, ৩,০০০, ৫,০০০, ১০,০০০ ও ১৫,০০০ টাকার স্তর রয়েছে এবং আউটসোর্সিং সেবা কর্মীদের জন্য ৫০০ টাকার বিশেষ স্তর রাখা হয়েছে।

সুরক্ষা স্কিম স্বকর্মে নিয়োজিত ও অপ্রাতিষ্ঠানিক খাতের কর্মীদের জন্য; এতে ১,০০০, ২,০০০, ৩,০০০ ও ৫,০০০ টাকার মাসিক চাঁদার স্তর রয়েছে। সমতা স্কিম বর্তমানে বার্ষিক অনূর্ধ্ব ৬০,০০০ টাকা আয়সীমার যোগ্য স্বল্প আয়ের ব্যক্তিদের জন্য; এর মোট মাসিক চাঁদা ১,০০০ টাকা, যার ৫০০ টাকা চাঁদাদাতা দেন এবং সমপরিমাণ ৫০০ টাকা সরকারি অংশ হিসেবে জমা হয়।

রেজিস্ট্রেশনের আগে যেসব তথ্য প্রস্তুত রাখবেন

আবেদন শুরুর আগে জাতীয় পরিচয়পত্রের নম্বর, জন্মতারিখ, সচল মোবাইল নম্বর, ব্যাংক বা মোবাইল আর্থিক সেবার হিসাব এবং নমিনির তথ্য প্রস্তুত রাখুন। প্রবাস স্কিমে জাতীয় পরিচয়পত্র না থাকলে পাসপোর্ট দিয়ে নিবন্ধনের সুযোগ আছে। নমিনির পরিচয়পত্র বা জন্ম নিবন্ধন নম্বর, জন্মতারিখ, সম্পর্ক ও প্রাপ্যতার অংশও সঠিকভাবে দিতে হবে।

সর্বজনীন পেনশনে রেজিস্ট্রেশন করার ধাপ

  • সরকারি ওয়েবসাইটে প্রবেশ করুন: জাতীয় পেনশন কর্তৃপক্ষের সরকারি সর্বজনীন পেনশন ওয়েবসাইটে গিয়ে রেজিস্ট্রেশন অপশন নির্বাচন করুন।
  • যোগ্যতার প্রত্যয়ন পড়ুন: চাকরি, সরকারি পেনশন সুবিধা ও সামাজিক নিরাপত্তা কর্মসূচি সম্পর্কিত শর্তগুলো ভালোভাবে পড়ে সম্মতি দিন।
  • সঠিক স্কিম নির্বাচন করুন: প্রবাস, প্রগতি, সুরক্ষা বা সমতার মধ্যে নিজের অবস্থার সঙ্গে মিল আছে এমন স্কিম বেছে নিন।
  • প্রাথমিক পরিচয় দিন: এনআইডি নম্বর অথবা প্রবাস স্কিমের ক্ষেত্রে প্রযোজ্য হলে পাসপোর্ট নম্বর, জন্মতারিখ, মোবাইল নম্বর এবং ক্যাপচা পূরণ করুন। ইমেইল ঠিকানা দেওয়ার ঘর রয়েছে, তবে বর্তমান নিবন্ধন ফরমে এটি আবশ্যিক নয়।
  • ব্যক্তিগত তথ্য পূরণ করুন: পেশা, বার্ষিক আয়, স্থায়ী ঠিকানা এবং ফরমে চাওয়া অন্যান্য তথ্য যাচাই করে লিখুন।
  • হিসাবের তথ্য দিন: ব্যাংক বা মোবাইল আর্থিক সেবার যে হিসাবে ভবিষ্যতে পেনশনের অর্থ নিতে চান, সেই হিসাবের তথ্য দিন।
  • নমিনি যুক্ত করুন: নমিনির পরিচয়, সম্পর্ক এবং প্রাপ্যতার শতাংশ লিখুন। একাধিক নমিনি হলে মোট শতাংশ যেন সঠিক হয়।
  • ফরম যাচাই করে জমা দিন: নাম, জন্মতারিখ, হিসাব নম্বর ও নমিনির তথ্য আবার মিলিয়ে তারপর আবেদন সাবমিট করুন।
  • চাঁদা পরিশোধ করুন: উপলব্ধ পেমেন্ট পদ্ধতি থেকে উপযুক্ত মাধ্যম বেছে প্রথম চাঁদা দিন এবং পেমেন্ট স্লিপ সংরক্ষণ করুন।
  • পেনশনার আইডি সংরক্ষণ করুন: নিবন্ধন সম্পন্ন হলে পাওয়া পেনশনার আইডি ও পাসওয়ার্ড নিরাপদে রাখুন। এগুলো দিয়ে পরে হিসাবের জমা, মুনাফা ও অন্যান্য তথ্য দেখা যাবে।

চাঁদা কীভাবে পরিশোধ করা যায়

সাধারণভাবে ব্যাংক, অনলাইন ব্যাংকিং, ডেবিট বা ক্রেডিট কার্ড এবং মোবাইল আর্থিক সেবার মাধ্যমে চাঁদা পরিশোধের সুযোগ রয়েছে। তবে প্রবাস স্কিমে বিদেশ থেকে চাঁদা দেওয়ার ক্ষেত্রে জাতীয় পেনশন কর্তৃপক্ষের প্রযোজ্য বৈদেশিক মুদ্রা পরিশোধের নিয়ম অনুসরণ করতে হবে। অনলাইনে নিবন্ধনে অসুবিধা হলে সোনালী ও অগ্রণী ব্যাংকের শাখা অথবা ইউনিয়ন ডিজিটাল সেন্টার থেকে সহায়তা নেওয়া যায়। কোনো ব্যক্তির হাতে নগদ চাঁদার টাকা দেওয়া উচিত নয়। কার্ড বা মোবাইল আর্থিক সেবা ব্যবহারের ক্ষেত্রে সংশ্লিষ্ট সেবাদাতা প্রতিষ্ঠানের নির্ধারিত সেবা মাশুল প্রযোজ্য হতে পারে।

চাঁদার পরিমাণ বাছাইয়ে বাস্তবসম্মত সিদ্ধান্ত নিন

নিবন্ধনের সময় এমন মাসিক চাঁদার স্তর নির্বাচন করা ভালো, যা দীর্ঘ সময় নিয়মিতভাবে পরিশোধ করা সম্ভব। জাতীয় পেনশন কর্তৃপক্ষের বর্তমান তথ্য অনুযায়ী নিবন্ধনের পর স্কিম ও চাঁদার হার পরিবর্তনের সুযোগ রয়েছে এবং পেনশনার আইডি অপরিবর্তিত থাকে। নির্ধারিত সময়ের মধ্যে চাঁদা না দিলে পরবর্তী এক মাস পর্যন্ত জরিমানা ছাড়া বকেয়া পরিশোধ করা যায়। ওই সময়ের পর সরকারি হেল্পডেস্কের বর্তমান নির্দেশনা অনুযায়ী বিলম্ব ফি প্রযোজ্য হয় এবং পরপর তিন কিস্তি না দিলে পেনশন হিসাব স্থগিত হতে পারে। তাই চাঁদার অঙ্ক নির্ধারণের সময় নিজের নিয়মিত আয়ের সক্ষমতা বিবেচনা করা উচিত।

নিবন্ধনের পর নিজের হিসাব কীভাবে দেখবেন

নিবন্ধন সম্পন্ন হলে একটি ইউনিক পেনশন আইডি ও পাসওয়ার্ড পাওয়া যায়। এগুলো ব্যবহার করে পেনশনার হিসাবে লগইন করে জমাকৃত চাঁদা এবং প্রাপ্ত মুনাফাসহ হিসাবের তথ্য দেখা যায়। জাতীয় পেনশন কর্তৃপক্ষের সর্বশেষ প্রকাশিত তথ্য অনুযায়ী ২০২৪–২০২৫ অর্থবছরে জমার বিনিয়োগকাল বিবেচনায় সর্বোচ্চ মুনাফার হার ছিল ১১.৬১ শতাংশ এবং ৩০ জুন ২০২৫ পর্যন্ত জমাকৃত অর্থের ওপর সংশ্লিষ্ট মুনাফা প্রদান করা হয়েছে। এই হার অতীতের একটি অর্থবছরের ফলাফল; ভবিষ্যতে একই মুনাফা পাওয়ার নিশ্চয়তা হিসেবে এটি বিবেচনা করা উচিত নয়।

পেনশন পাওয়ার সময় কী হবে

প্রযোজ্য শর্ত পূরণ করে পেনশনযোগ্য বয়সে পৌঁছালে ব্যাংক হিসাব বা মোবাইল আর্থিক সেবার মাধ্যমে মাসিক পেনশন পাওয়ার ব্যবস্থা রয়েছে। পেনশনে থাকা অবস্থায় ৭৫ বছর বয়সের আগে মৃত্যু হলে নিয়ম অনুযায়ী নমিনি অবশিষ্ট সময়ের জন্য পেনশন পেতে পারেন। আর প্রয়োজনীয় সময় পূরণের আগে চাঁদাদাতা মারা গেলে জমাকৃত অর্থ মুনাফাসহ নমিনিকে ফেরত দেওয়ার বিধান রয়েছে।

রেজিস্ট্রেশনের সময় যে ভুলগুলো এড়াবেন

নিবন্ধনের সময় মোবাইল নম্বর, ব্যাংক বা মোবাইল আর্থিক সেবার হিসাব নম্বর, জন্মতারিখ এবং নমিনির তথ্য ভালোভাবে মিলিয়ে নিন। নিজের পেশা বা অবস্থার সঙ্গে মিল নেই এমন স্কিম নির্বাচন করা থেকেও বিরত থাকুন। আবেদন জমা দেওয়ার আগে জাতীয় পরিচয়পত্র বা প্রযোজ্য ক্ষেত্রে পাসপোর্টের তথ্যের সঙ্গে ফরমে দেওয়া তথ্য যাচাই করুন এবং চাঁদা পরিশোধের প্রমাণ সংরক্ষণ করুন। কোনো ব্যক্তির হাতে নগদ চাঁদা দেবেন না। নিজে অনলাইনে নিবন্ধন করতে অসুবিধা হলে সোনালী বা অগ্রণী ব্যাংকের শাখা অথবা ইউনিয়ন ডিজিটাল সেন্টারের সহায়তা নেওয়া যায়।

সর্বজনীন পেনশন নিয়ে ১০টি গুরুত্বপূর্ণ প্রশ্ন ও উত্তর

১. ব্যাংক হিসাব ছাড়া কি সর্বজনীন পেনশনে নিবন্ধন করা যায়?

হ্যাঁ। বর্তমান সরকারি নিবন্ধন পাতায় ব্যাংক অথবা মোবাইল আর্থিক সেবার হিসাব নম্বর দেওয়ার সুযোগ রয়েছে। অর্থাৎ কেবল ব্যাংক হিসাব না থাকার কারণে নিবন্ধন থেকে বাদ পড়তে হবে না। তবে যে হিসাবটি দেবেন সেটি সচল এবং নিজের পরিচয়ের সঙ্গে সঠিকভাবে যুক্ত আছে কি না, তা আগে নিশ্চিত করা ভালো।

২. সর্বজনীন পেনশনে নিবন্ধনের জন্য কি কাগজপত্র অফিসে জমা দিতে হয়?

সাধারণ অনলাইন নিবন্ধনের ক্ষেত্রে প্রয়োজনীয় কাগজপত্রের হার্ডকপি জমা দেওয়ার বাধ্যবাধকতা নেই বলে জাতীয় পেনশন কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে। ফরমে প্রয়োজনীয় তথ্য অনলাইনে দিতে হয়। তবু নিজের এনআইডি, পাসপোর্ট, ব্যাংক বা মোবাইল হিসাব এবং নমিনির পরিচয়পত্রের তথ্য কাছে রাখলে ভুল কম হয়।

৩. ৫০ বছরের বেশি বয়স হলে কি নিবন্ধন করা যাবে?

হ্যাঁ, ৫০ বছরের বেশি বয়সীরাও অংশ নিতে পারেন। তবে তাদের ক্ষেত্রে সাধারণ ৬০ বছর বয়সের নিয়মের বদলে অন্তত ১০ বছর চাঁদা প্রদানের শর্ত গুরুত্বপূর্ণ। যেমন ৬০ বছর বয়সে যোগ দিলে নিয়ম অনুযায়ী ১০ বছর চাঁদা দেওয়ার পর পেনশন পাওয়ার যোগ্যতা তৈরি হবে।

৪. বেসরকারি চাকরিজীবীর জন্য কোন স্কিম প্রযোজ্য?

বেসরকারি প্রতিষ্ঠানের মালিক ও কর্মচারীদের জন্য প্রগতি স্কিম প্রযোজ্য। প্রতিষ্ঠান চাইলে কর্মীদের নিয়ে প্রাতিষ্ঠানিকভাবে যুক্ত হতে পারে, আবার প্রতিষ্ঠান যুক্ত না হলেও কর্মচারী নিজ উদ্যোগে অংশ নিতে পারেন। প্রতিষ্ঠানভিত্তিক অংশগ্রহণে চাঁদার অংশ কর্মী ও প্রতিষ্ঠান ভাগ করে দেওয়ার বিধান রয়েছে।

৫. স্বনিযুক্ত বা অনানুষ্ঠানিক কর্মীর জন্য কোন স্কিম?

কৃষক, রিকশাচালক, শ্রমিক, ক্ষুদ্র ব্যবসায়ী, গৃহিণী, জেলে, তাঁতি এবং অন্যান্য স্বকর্মে নিয়োজিত বা অপ্রাতিষ্ঠানিক খাতের নাগরিকদের জন্য সুরক্ষা স্কিম প্রযোজ্য। বর্তমানে এ স্কিমে ১,০০০, ২,০০০, ৩,০০০ ও ৫,০০০ টাকার মাসিক চাঁদার স্তর রয়েছে। নিজের নিয়মিত আয়ের সক্ষমতা বিবেচনা করে উপযুক্ত স্তর নির্বাচন করা উচিত।

৬. সমতা স্কিমে সরকার কত টাকা দেয়?

বর্তমান তথ্য অনুযায়ী সমতা স্কিমের মোট মাসিক চাঁদা ১,০০০ টাকা। এর মধ্যে চাঁদাদাতা ৫০০ টাকা দেন এবং সমপরিমাণ ৫০০ টাকা সরকারি অংশ হিসেবে জমা হয়। জাতীয় পেনশন কর্তৃপক্ষের বর্তমান প্যাকেজ অনুযায়ী বার্ষিক অনূর্ধ্ব ৬০,০০০ টাকা আয়সীমার যোগ্য স্বল্প আয়ের ব্যক্তিরা এই স্কিমে অংশ নিতে পারেন। নিয়ম বা আয়সীমা পরিবর্তিত হতে পারে বলে আবেদন করার সময় সরকারি ওয়েবসাইটে বর্তমান যোগ্যতা আবার যাচাই করা উচিত।

৭. নির্ধারিত সময়ে চাঁদা দিতে না পারলে কী হবে?

নির্ধারিত সময়ের মধ্যে চাঁদা দিতে না পারলে পরবর্তী এক মাস পর্যন্ত জরিমানা ছাড়া বকেয়া পরিশোধের সুযোগ রয়েছে। এক মাস পার হলে জাতীয় পেনশন কর্তৃপক্ষের বর্তমান নিয়ম অনুযায়ী বিলম্ব ফি প্রযোজ্য হতে পারে। পরপর তিন কিস্তি জমা না হলে পেনশন হিসাব স্থগিত হয় এবং বকেয়া কিস্তি ও প্রযোজ্য বিলম্ব ফি পরিশোধের পর নিয়ম অনুযায়ী হিসাব পুনরায় সচল করা যায়।

৮. প্রয়োজন হলে পেনশন তহবিল থেকে টাকা তোলা যাবে কি?

পেনশনযোগ্য বয়সের আগে ইচ্ছামতো পুরো জমা তুলে নেওয়ার সুযোগ নেই। তবে নিয়ম অনুযায়ী নিজের জমাকৃত অর্থের সর্বোচ্চ ৫০ শতাংশ পর্যন্ত ঋণ হিসেবে নেওয়ার ব্যবস্থা আছে, যা নির্ধারিত ফিসহ সর্বোচ্চ ২৪ কিস্তিতে পরিশোধ করতে হয়। তাই এই তহবিলকে স্বল্পমেয়াদি সঞ্চয় নয়, দীর্ঘমেয়াদি অবসর পরিকল্পনা হিসেবে দেখা উচিত।

৯. নমিনি কেন গুরুত্বপূর্ণ?

চাঁদাদাতার মৃত্যু হলে জমাকৃত অর্থ বা প্রযোজ্য পেনশন সুবিধা পাওয়ার ক্ষেত্রে নমিনির তথ্য গুরুত্বপূর্ণ। তাই নমিনির পরিচয়পত্র বা জন্ম নিবন্ধন নম্বর, জন্মতারিখ, সম্পর্ক এবং প্রাপ্যতার অংশ সঠিকভাবে উল্লেখ করা উচিত। আবেদন জমা দেওয়ার আগে এসব তথ্য মূল পরিচয়পত্রের সঙ্গে মিলিয়ে নেওয়া ভালো।

১০. নিবন্ধনে সমস্যা হলে কোথায় যোগাযোগ করবেন?

জাতীয় পেনশন কর্তৃপক্ষের হেল্পডেস্ক নম্বর ১৬১৩১ এবং +৮৮ ০৯৬১০ ৯০০৮০০। সরকারি সাইটে বাংলাদেশ সময় সকাল ৯টা থেকে বিকাল ৫টা পর্যন্ত সেবার সময় উল্লেখ রয়েছে। অনলাইনে সমস্যা হলে সোনালী বা অগ্রণী ব্যাংকের শাখা এবং ইউনিয়ন ডিজিটাল সেন্টার থেকেও নিবন্ধন সহায়তা নেওয়া যায়।

উপসংহার

সর্বজনীন পেনশনে অনলাইনে নিবন্ধনের ব্যবস্থা থাকলেও দীর্ঘমেয়াদি সুবিধার জন্য শুরুতেই নিজের জন্য প্রযোজ্য স্কিম ও চাঁদার স্তর সঠিকভাবে নির্বাচন করা গুরুত্বপূর্ণ। ব্যক্তিগত তথ্য, ব্যাংক বা মোবাইল আর্থিক সেবার হিসাব এবং নমিনির তথ্য যাচাই করে জমা দিন এবং পেনশনার আইডি ও চাঁদা পরিশোধের প্রমাণ সংরক্ষণ করুন। স্কিমের যোগ্যতা, চাঁদার হার ও অন্যান্য বিধান সময়ের সঙ্গে পরিবর্তিত হতে পারে, তাই নিবন্ধনের দিন জাতীয় পেনশন কর্তৃপক্ষের সরকারি ওয়েবসাইটে বর্তমান তথ্য যাচাই করে নেওয়া উচিত।

Leave a Comment