বাংলাদেশে আইফোন কেনার সময় শুধু নতুন মডেল দেখলেই সিদ্ধান্ত নেওয়া ঠিক নয়। একই সময়ে বাজারে একাধিক প্রজন্মের আইফোন পাওয়া যায় এবং মডেল, স্টোরেজ, ওয়ারেন্টি ও বিক্রেতার ধরন অনুযায়ী দামে বড় পার্থক্য দেখা যায়। তাই আপনার জন্য সেরা আইফোন হচ্ছে সেটিই, যার ক্যামেরা, ব্যাটারি, ডিসপ্লে ও পারফরম্যান্স আপনার ব্যবহারের সঙ্গে মানানসই এবং যার জন্য অপ্রয়োজনীয় অতিরিক্ত টাকা খরচ করতে হচ্ছে না।
২০২৬ সালের বর্তমান বাজারে আইফোন ১৭ সিরিজ নতুন প্রজন্মের বিকল্পগুলোর মধ্যে রয়েছে। পাশাপাশি আইফোন ১৬, আইফোন ১৬ই, আইফোন ১৫ এবং আইফোন ১৪ বিভিন্ন বাজেট ও ব্যবহারের প্রয়োজন অনুযায়ী এখনো বিবেচনা করা যেতে পারে। এই গাইডে বাংলাদেশের বাজারমূল্য, ক্যামেরা, ব্যাটারি, ডিসপ্লে, স্টোরেজ, দীর্ঘমেয়াদি ব্যবহার এবং ওয়ারেন্টির মতো বাস্তব বিষয় বিবেচনা করে মডেলগুলো তুলনা করা হয়েছে।
বাংলাদেশে আইফোন এর বর্তমান দাম কত?
বাংলাদেশে আইফোনের দাম সময়ের সঙ্গে পরিবর্তিত হয়। এই আর্টিকেলের মূল্যতথ্য ২০২৬ সালের আগস্টে বাংলাদেশে অ্যাপল অনুমোদিত বিক্রেতার প্রকাশিত অনলাইন মূল্যতালিকা পর্যালোচনা করে নেওয়া হয়েছে। নির্বাচিত মডেলগুলোর তালিকাভুক্ত দাম প্রায় ৯৪,৯৯৯ টাকা থেকে ২,১৬,৯৯৯ টাকার মধ্যে দেখা গেছে। স্টোরেজ, ক্যাশ বা কিস্তির মূল্য, স্টক এবং চলমান অফারের কারণে একই মডেলের দাম পরিবর্তিত হতে পারে। তাই কেনার আগে সংশ্লিষ্ট অনুমোদিত বিক্রেতার সর্বশেষ মূল্য ও ওয়ারেন্টির তথ্য যাচাই করুন।
| মডেল | সাম্প্রতিক তালিকাভুক্ত দাম | কার জন্য ভালো |
|---|---|---|
| iPhone 14 128GB | প্রায় ৯৪,৯৯৯ টাকা | কম খরচে আইফোন ব্যবহার করতে চান |
| iPhone 16e 128GB | প্রায় ৯৯,৯৯৯ টাকা | নতুন প্রযুক্তি ও তুলনামূলক কম দাম চান |
| iPhone 15 128GB | প্রায় ১,১৪,৯৯৯ টাকা | ভারসাম্যপূর্ণ পুরোনো মডেল চান |
| iPhone 16 128GB | প্রায় ১,২১,৯৯৯ টাকা | পারফরম্যান্স ও ক্যামেরার ভারসাম্য চান |
| iPhone 17 | প্রায় ১,৪৭,৯৯৯ টাকা | অধিকাংশ নতুন ক্রেতার জন্য |
| iPhone Air | প্রায় ১,৬৪,৯৯৯ টাকা | পাতলা ও হালকা নকশা পছন্দ করেন |
| iPhone 17 Pro | প্রায় ১,৯৬,৯৯৯ টাকা | ক্যামেরা ও পেশাদার কাজের জন্য |
| iPhone 17 Pro Max | প্রায় ২,১৬,৯৯৯ টাকা | বড় ডিসপ্লে, ক্যামেরা ও দীর্ঘ ব্যাটারি চান |
উপরের মূল্যগুলো ২০২৬ সালের আগস্টে বাংলাদেশে অ্যাপল অনুমোদিত বিক্রেতার প্রকাশিত অনলাইন মূল্যতালিকার ভিত্তিতে উল্লেখ করা হয়েছে। এগুলো নির্দিষ্ট সময়ে দেখা তালিকাভুক্ত মূল্য, স্থায়ী খুচরা মূল্য নয়। স্টক, স্টোরেজ এবং অফারের কারণে দাম পরিবর্তিত হতে পারে, তাই কেনার আগে সর্বশেষ মূল্য যাচাই করুন।
২০২৬ সালে অধিকাংশ মানুষের জন্য কোন আইফোন ভালো?
বাজেট অনুমতি দিলে আইফোন ১৭ সাধারণ ব্যবহারকারীদের জন্য একটি ভারসাম্যপূর্ণ বিকল্প হতে পারে। এতে ৬.৩ ইঞ্চির সুপার রেটিনা এক্সডিআর ওএলইডি ডিসপ্লে, সর্বোচ্চ ১২০ হার্টজ প্রোমোশন, এ১৯ চিপ এবং ৪৮ মেগাপিক্সেলের ডুয়াল ফিউশন ক্যামেরা ব্যবস্থা রয়েছে। এসব বৈশিষ্ট্য দৈনন্দিন যোগাযোগ, ছবি ও ভিডিও ধারণ, গেম এবং অন্যান্য সাধারণ কাজের পাশাপাশি দীর্ঘমেয়াদি ব্যবহারের ক্ষেত্রেও মডেলটিকে বিবেচনার উপযোগী করে।
বিশেষ করে ১২০ হার্টজ প্রোমোশন থাকার কারণে আইফোন ১৭-এ স্ক্রলিং ও অ্যানিমেশন আগের ৬০ হার্টজ মডেলের তুলনায় আরও মসৃণ অনুভূত হতে পারে। তাই প্রো মডেলের অতিরিক্ত ক্যামেরা ও পারফরম্যান্স সুবিধার প্রয়োজন না থাকলে আইফোন ১৭ তুলনামূলকভাবে ভারসাম্যপূর্ণ বিকল্প হতে পারে।
কম বাজেটে আইফোন ১৬ই কি ভালো সিদ্ধান্ত?
যারা তুলনামূলক কম খরচে নতুন প্রজন্মের আইফোন চান, তাদের জন্য আইফোন ১৬ই বিবেচনা করা যেতে পারে। ২০২৬ সালের আগস্টে বাংলাদেশে অ্যাপল অনুমোদিত বিক্রেতার অনলাইন তালিকায় ১২৮ জিবি সংস্করণের দাম প্রায় ৯৯,৯৯৯ টাকা দেখা গেছে। যারা ভালো দৈনন্দিন পারফরম্যান্স চান কিন্তু একাধিক উন্নত ক্যামেরা বা প্রো মডেলের অতিরিক্ত সুবিধার প্রয়োজন অনুভব করেন না, তাদের জন্য এটি একটি সম্ভাব্য বিকল্প।
তবে শুধু দাম দেখে সিদ্ধান্ত নেবেন না। কাছাকাছি দামে আইফোন ১৫ বা অন্য কোনো মডেলে ভালো অফার পাওয়া গেলে ক্যামেরা, ডিসপ্লে, স্টোরেজ ও আপনার ব্যবহারের ধরন পাশাপাশি রেখে তুলনা করুন। দীর্ঘমেয়াদি ব্যবহারের ক্ষেত্রে কয়েক হাজার টাকা সাশ্রয়ের চেয়ে সঠিক মডেল নির্বাচন বেশি গুরুত্বপূর্ণ।
আইফোন ১৬ এখনো কেনার মতো কি না
সঠিক দামে পাওয়া গেলে আইফোন ১৬ এখনো বিবেচনা করার মতো একটি মডেল। এতে এ১৮ চিপ, ৪৮ মেগাপিক্সেলের ফিউশন প্রধান ক্যামেরা, ১২ মেগাপিক্সেলের আল্ট্রা ওয়াইড ক্যামেরা এবং ক্যামেরা কন্ট্রোল রয়েছে। পাশাপাশি ৪কে ডলবি ভিশন ভিডিও, ম্যাক্রো ফটোগ্রাফি এবং ২ গুণ অপটিক্যাল মানের টেলিফটো সুবিধা ছবি ও ভিডিও ধারণের ক্ষেত্রে ব্যবহারিক সুবিধা দিতে পারে।
তবে আইফোন ১৬ এবংআইফোন ১৭ এর মধ্যে দামের ব্যবধান কম হলে নতুন আইফোন ১৭ নেওয়া বেশি যৌক্তিক। কারণ ফোন সাধারণত কয়েক বছর ব্যবহার করা হয়। নতুন চিপ, উন্নত ডিসপ্লে এবং নতুন প্রজন্মের সুবিধার জন্য অতিরিক্ত খরচ তখন দীর্ঘমেয়াদে মূল্য দিতে পারে।
আইফোন এয়ার কাদের জন্য উপযুক্ত?
আইফোন এয়ার মূলত এমন ব্যবহারকারীদের জন্য, যাদের কাছে ফোনের নকশা, পাতলা গঠন ও কম ওজন বিশেষ গুরুত্ব পায়। অ্যাপলের প্রকাশিত প্রযুক্তিগত তথ্য অনুযায়ী এর পুরুত্ব মাত্র ৫.৬৪ মিলিমিটার এবং ওজন ১৬৫ গ্রাম। এতে ৬.৫ ইঞ্চির ১২০ হার্টজ প্রোমোশন ডিসপ্লে এবং এ১৯ প্রো চিপ রয়েছে। ফলে পাতলা হওয়া মানেই দুর্বল পারফরম্যান্স নয়।
তবে ক্যামেরা যদি আপনার প্রধান অগ্রাধিকার হয়, তাহলে একই বাজেট অঞ্চলে অন্য মডেলও দেখা উচিত। আইফোন এয়ারে ৪৮ মেগাপিক্সেলের প্রধান ফিউশন ক্যামেরা থাকলেও আইফোন ১৭ অতিরিক্ত ৪৮ মেগাপিক্সেলের আল্ট্রা ওয়াইড ক্যামেরা রয়েছে। তাই Air কেনার মূল কারণ হওয়া উচিত এর হালকা ও অত্যন্ত পাতলা নকশা।
আইফোন ১৭ প্রো এবং প্রো মাক্স কারা কিনবেন?
আইফোন ১৭ প্রো ও আইফোন ১৭ প্রো মাক্স এমন ব্যবহারকারীদের জন্য বেশি যৌক্তিক, যারা ফোনের ক্যামেরা এবং সর্বোচ্চ পারফরম্যান্স সত্যিই কাজে লাগাবেন। উভয় মডেলে এ১৯ প্রো চিপ এবং ৪৮ মেগাপিক্সেলের প্রো ফিউশন ক্যামেরা ব্যবস্থা রয়েছে। প্রধান, আল্ট্রা ওয়াইড ও টেলিফটো ক্যামেরার সমন্বয় ছবি ও ভিডিও তৈরিতে সাধারণ মডেলের তুলনায় বেশি নমনীয়তা দেয়।
ব্যাটারি পারফরম্যান্সের ক্ষেত্রেও দুটি মডেলের মধ্যে পার্থক্য রয়েছে। অ্যাপলের প্রকাশিত পরীক্ষার তথ্য অনুযায়ী, আইফোন ১৭ প্রো ম্যাক্স সর্বোচ্চ ৩৯ ঘণ্টা এবং আইফোন ১৭ প্রো সর্বোচ্চ ৩৩ ঘণ্টা ভিডিও প্লেব্যাক সমর্থন করে। বাস্তব ব্যাটারি ব্যাকআপ ব্যবহার, নেটওয়ার্ক, সেটিংস এবং অন্যান্য পরিস্থিতির ওপর নির্ভর করে পরিবর্তিত হতে পারে। বড় ৬.৯ ইঞ্চি ডিসপ্লে ও দীর্ঘ ব্যাটারি অগ্রাধিকার হলে প্রো ম্যাক্স এবং তুলনামূলক ছোট ৬.৩ ইঞ্চি আকার চাইলে প্রো বিবেচনা করা যেতে পারে।
আইফোন ১৪ বা আইফোন ১৫ কিনে টাকা সাশ্রয় করা কি ঠিক হবে?
বাজেট সীমিত হলে পুরোনো মডেল একেবারে বাদ দেওয়ার প্রয়োজন নেই। বিশেষ করে ভালো অফারে আইফোন ১৫ পাওয়া গেলে এটি এখনো দৈনন্দিন ছবি, ভিডিও, সামাজিক যোগাযোগ, পড়াশোনা এবং সাধারণ কাজের জন্য সক্ষম। তবে নতুন ফোন কয়েক বছর ব্যবহার করার পরিকল্পনা থাকলে বর্তমান ও পুরোনো প্রজন্মের দামের ব্যবধান হিসাব করা জরুরি।
উদাহরণ হিসেবে, সাম্প্রতিক অনুমোদিত বিক্রেতার তালিকায় আইফোন ১৪ এবং আইফোন ১৬ই-এর দামের ব্যবধান তুলনামূলক কম দেখা গেছে। এমন পরিস্থিতিতে শুধু কম দাম বিবেচনা না করে দুটি মডেলের চিপ, ক্যামেরা, সফটওয়্যার সমর্থন, স্টোরেজ এবং অন্যান্য সুবিধা পাশাপাশি তুলনা করা উচিত। অর্থাৎ শুধু মডেলের বয়স নয়, অতিরিক্ত খরচের বিনিময়ে কী কী সুবিধা পাওয়া যাচ্ছে সেটিও সিদ্ধান্তের গুরুত্বপূর্ণ অংশ।
১২৮ জিবি নাকি ২৫৬ জিবি স্টোরেজ নেবেন?
যারা মূলত যোগাযোগ, সামাজিক মাধ্যম, অনলাইন ভিডিও এবং সাধারণ ছবি তোলার জন্য ফোন ব্যবহার করেন, তাদের জন্য ১২৮ জিবি অনেক ক্ষেত্রে যথেষ্ট হতে পারে। কিন্তু নিয়মিত ৪কে ভিডিও ধারণ, প্রচুর ছবি সংরক্ষণ, বড় গেম রাখা বা দীর্ঘদিন একই ফোন ব্যবহার করার পরিকল্পনা থাকলে ২৫৬ জিবি বেশি স্বস্তিদায়ক।
বিশেষভাবে খেয়াল রাখুন, আইফোন ১৭ এর ধারণক্ষমতা ২৫৬ জিবি থেকে শুরু হয়। ফলে নতুন মডেল কেনার সময় শুধু ফোনের মোট দাম নয়, আপনি কত স্টোরেজ পাচ্ছেন সেটিও আগের মডেলের সঙ্গে তুলনা করা উচিত।
অফিসিয়াল নাকি আনঅফিসিয়াল আইফোন কিনবেন?
বাংলাদেশে আইফোনের দামের পার্থক্যের একটি কারণ হলো বিক্রয় চ্যানেল ও ওয়ারেন্টির ধরন। অ্যাপল অনুমোদিত বিক্রয় চ্যানেল থেকে কেনার ক্ষেত্রে পণ্যের মডেল, প্রযোজ্য ওয়ারেন্টি এবং বিক্রয়-পরবর্তী সহায়তার শর্ত সম্পর্কে তুলনামূলকভাবে স্পষ্ট তথ্য পাওয়া যায়। কেনার আগে অ্যাপলের অফিসিয়াল ওয়েবসাইট থেকে সংশ্লিষ্ট বিক্রেতা বা সার্ভিস প্রদানকারীর অনুমোদনের তথ্য যাচাই করা যেতে পারে।
অন্য কোনো বিক্রয় চ্যানেল থেকে কম দামে ফোন কেনার ক্ষেত্রে মডেল নম্বর, ডিভাইসের অ্যাক্টিভেশন অবস্থা, প্রযোজ্য ওয়ারেন্টি, সিমের ধরন এবং বিক্রেতার লিখিত রিটার্ন নীতি ভালোভাবে যাচাই করুন। বিভিন্ন অঞ্চলের আইফোনে সিম সমর্থনের পার্থক্য থাকতে পারে, তাই কেনার আগে আপনার ব্যবহৃত মোবাইল অপারেটরের সঙ্গে সংশ্লিষ্ট মডেলের সামঞ্জস্য নিশ্চিত করুন।
আইফোন কেনার আগে যে বিষয়গুলো পরীক্ষা করবেন
প্রথমে আপনার সর্বোচ্চ বাজেট নির্ধারণ করে সেই সীমার মধ্যে দুই বা তিনটি মডেল তুলনা করুন। ক্যামেরা, ডিসপ্লে, ব্যাটারি, স্টোরেজ এবং ওয়ারেন্টির মধ্যে কোনগুলো আপনার ব্যবহারে বেশি গুরুত্বপূর্ণ তা নির্ধারণ করুন। কেনার সময় মডেল ও স্টোরেজ নিশ্চিত করার পাশাপাশি সিরিয়াল নম্বর, অ্যাক্টিভেশন ও ওয়ারেন্টির অবস্থা এবং বিক্রেতার চালান যাচাই ও সংরক্ষণ করুন। ব্যবহৃত বা আগে সক্রিয় করা ফোন হলে ব্যাটারির অবস্থা এবং যন্ত্রাংশ পরিবর্তনের তথ্যও পরীক্ষা করুন।
বাজেট অনুযায়ী কোন আইফোন বেছে নেওয়া যুক্তিযুক্ত?
প্রায় এক লাখ টাকার বাজেটে আইফোন ১৬ই দিয়ে তুলনা শুরু করা যায়। ১.২ লাখ টাকার আশেপাশে আইফোন ১৬ আকর্ষণীয় হতে পারে। বাজেট প্রায় ১.৫ লাখ হলেআইফোন ১৭ অধিকাংশ ক্রেতার জন্য শক্তিশালী সামগ্রিক প্যাকেজ। পাতলা ও হালকা ফোনকে সর্বোচ্চ গুরুত্ব দিলে আইফোন এয়ার বিবেচনা করা যায়। আর ক্যামেরা, বড় ডিসপ্লে ও উচ্চ পারফরম্যান্স পেশাগত বা নিয়মিত ভারী কাজে ব্যবহার করলে আইফোন ১৭ প্রো অথবা প্রো মাক্স যৌক্তিক।
শুধু সবচেয়ে দামি মডেলকে সবার জন্য সেরা ধরে নেওয়া ঠিক নয়। একজন সাধারণ ব্যবহারকারীর যদি প্রো মডেলের অতিরিক্ত ক্যামেরা বা উচ্চ পারফরম্যান্সের সুবিধা নিয়মিত প্রয়োজন না হয়, তাহলে সাধারণ মডেলেই তার প্রয়োজন পূরণ হতে পারে। মডেল নির্বাচন করার সময় তাই দাম, স্টোরেজ এবং বাস্তবে ব্যবহার করা হবে এমন সুবিধাগুলো একসঙ্গে বিবেচনা করা বেশি কার্যকর।
বাংলাদেশে আইফোন নিয়ে ১০টি সাধারণ প্রশ্ন ও উত্তর
১. ২০২৬ সালে বাংলাদেশে আইফোন এর দাম কত থেকে শুরু?
২০২৬ সালের আগস্টে বাংলাদেশে অ্যাপল অনুমোদিত বিক্রেতার অনলাইন তালিকায় এখানে তুলনা করা নির্বাচিত আইফোন মডেলের দাম প্রায় ৯৪,৯৯৯ টাকা থেকে শুরু হতে দেখা গেছে। তবে এটি স্থায়ী বাজারমূল্য নয়। মডেল, স্টোরেজ, পেমেন্ট পদ্ধতি, স্টক এবং অফারের কারণে দাম পরিবর্তিত হতে পারে। তাই কেনার দিন সর্বশেষ মূল্য যাচাই করুন।
২. ২০২৬ সালে সবচেয়ে ভালো আইফোন কোনটি?
সবার জন্য একই উত্তর প্রযোজ্য নয়। অধিকাংশ সাধারণ ব্যবহারকারীর জন্য আইফোন ১৭ একটি ভারসাম্যপূর্ণ বিকল্প, কারণ এতে এ১৯ চিপ, ১২০ হার্টজ প্রোমোশন ডিসপ্লে এবং উন্নত ডুয়াল ক্যামেরা রয়েছে। সর্বোচ্চ ক্যামেরা ও ব্যাটারি চাইলে আইফোন ১৭ প্রো মাক্স বেশি উপযোগী।
৩. কম বাজেটে কোন আইফোন কেনা ভালো?
প্রায় এক লাখ টাকার মধ্যে নতুন ফোন খুঁজলে আইফোন ১৬ই বিবেচনা করা যায়। পুরোনো আইফোন ১৪ কাছাকাছি দামে থাকতে পারে। তবে দুটির দামের পার্থক্য কম হলে নতুন প্রজন্ম, ভবিষ্যৎ ব্যবহার এবং পারফরম্যান্স বিবেচনা করে সিদ্ধান্ত নেওয়া উচিত।
৪. আইফোন ১৬ নাকি আইফোন ১৭ কিনব?
দামের ব্যবধান গ্রহণযোগ্য হলে আইফোন ১৭ দীর্ঘমেয়াদি ব্যবহারের জন্য এগিয়ে থাকবে। এর এ১৯ চিপ এবং সর্বোচ্চ ১২০ হার্টজ প্রোমোশন ডিসপ্লে গুরুত্বপূর্ণ উন্নতি। তবে ভালো ছাড়ে আইফোন ১৬ পাওয়া গেলে এ১৮ চিপ ও উন্নত ক্যামেরার কারণে সেটিও শক্তিশালী বিকল্প।
৫. আইফোন এয়ার কাদের জন্য ভালো বিকল্প?
আপনি যদি অত্যন্ত পাতলা, হালকা এবং প্রিমিয়াম ফোন চান, তাহলে আইফোন এয়ার আকর্ষণীয়। এটি মাত্র প্রায় ৫.৬ মিলিমিটার পুরু এবং এতে এ১৯ প্রো চিপ রয়েছে। কিন্তু একাধিক পিছনের ক্যামেরাকে অগ্রাধিকার দিলে আইফোন ১৭ বা Pro মডেলের সঙ্গে তুলনা করে নেওয়া উচিত।
৬. আইফোন ১৭ প্রো মাক্স কি সাধারণ ব্যবহারকারীর প্রয়োজন?
সাধারণ যোগাযোগ, সামাজিক মাধ্যম, ছবি তোলা এবং দৈনন্দিন ব্যবহারের জন্য আইফোন ১৭ প্রো ম্যাক্সের সব অতিরিক্ত সুবিধা সবার প্রয়োজন নাও হতে পারে। এর বড় ডিসপ্লে, দীর্ঘ ব্যাটারি এবং উন্নত ক্যামেরা ব্যবস্থা বিশেষভাবে উপযোগী তাদের জন্য, যারা এসব সুবিধা নিয়মিত ব্যবহার করবেন। সাধারণ ব্যবহারের ক্ষেত্রে আইফোন ১৭ এর বৈশিষ্ট্য ও দাম পাশাপাশি তুলনা করে সিদ্ধান্ত নেওয়া যেতে পারে।
৭. ১২৮ জিবি স্টোরেজ কি যথেষ্ট?
সাধারণ ব্যবহারে ১২৮ জিবি যথেষ্ট হতে পারে। কিন্তু প্রচুর ছবি, ৪কে ভিডিও, বড় গেম বা অফলাইন ফাইল রাখলে স্টোরেজ দ্রুত পূর্ণ হতে পারে। ফোন চার থেকে পাঁচ বছর ব্যবহারের পরিকল্পনা থাকলে ২৫৬ জিবি নির্বাচন ভবিষ্যতে স্টোরেজ ব্যবস্থাপনা সহজ করতে পারে।
৮. অফিসিয়াল আইফোন কেনার সুবিধা কী?
অনুমোদিত বিক্রয় চ্যানেল থেকে কিনলে পণ্যের সত্যতা, ওয়ারেন্টির শর্ত এবং বিক্রয়-পরবর্তী সহায়তা সম্পর্কে তুলনামূলক স্পষ্ট তথ্য পাওয়া যায়। বাংলাদেশের অ্যাপল অনুমোদিত বিক্রেতা বা সার্ভিস প্রদানকারী যাচাই করে কেনা বিশেষভাবে গুরুত্বপূর্ণ, কারণ শুধু দোকানের মৌখিক ওয়ারেন্টির ওপর নির্ভর করা উচিত নয়।
৯. আইফোন কেনার সময় ব্যাটারিকে কতটা গুরুত্ব দেওয়া উচিত?
অনেক ব্যবহারকারীর জন্য ব্যাটারি ক্যামেরার মতোই গুরুত্বপূর্ণ। দীর্ঘ সময় মোবাইল ডাটা, ভিডিও, নেভিগেশন বা ক্যামেরা ব্যবহার করলে বেশি ব্যাটারি ব্যাকআপ সুবিধাজনক হতে পারে। অ্যাপলের প্রকাশিত পরীক্ষার তথ্য অনুযায়ী, আইফোন ১৭ প্রো ম্যাক্স সর্বোচ্চ ৩৯ ঘণ্টা ভিডিও প্লেব্যাক সমর্থন করে। তবে বাস্তব ব্যাটারি ব্যাকআপ ব্যবহার, নেটওয়ার্ক, সেটিংস এবং অন্যান্য পরিস্থিতির ওপর নির্ভর করে কম বা বেশি হতে পারে।
১০. নতুন আইফোন কেনার আগে সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ পরীক্ষা কী?
মূল্য তুলনার পাশাপাশি মডেল নম্বর, স্টোরেজ, সিম সমর্থন, ওয়ারেন্টির ধরন, ফোন আগে সক্রিয় হয়েছে কি না এবং বিক্রেতার রিটার্ন নীতি যাচাই করুন। কেনার রসিদ বা চালান অবশ্যই সংরক্ষণ করুন। কয়েক হাজার টাকা কম দামের চেয়ে নির্ভরযোগ্য উৎস থেকে সঠিক মডেল কেনা দীর্ঘমেয়াদে বেশি গুরুত্বপূর্ণ।
- তথ্যসূত্র ও মূল্য যাচাই: এই গাইডের ডিভাইস স্পেসিফিকেশন অ্যাপলের প্রকাশিত তথ্য এবং মূল্যসংক্রান্ত তথ্য ২০২৬ সালের আগস্টে বাংলাদেশে অ্যাপল অনুমোদিত বিক্রেতার প্রকাশিত তালিকার ভিত্তিতে যাচাই করা হয়েছে। বাজারমূল্য ও অফার পরিবর্তিত হতে পারে, তাই কেনার আগে সর্বশেষ তথ্য সংশ্লিষ্ট বিক্রেতা ও অ্যাপলের অফিসিয়াল উৎস থেকে যাচাই করুন।
শেষ কথা
বাংলাদেশে কোন আইফোনটি আপনার জন্য উপযুক্ত হবে তা মূলত বাজেট, ব্যবহার এবং প্রয়োজনীয় সুবিধার ওপর নির্ভর করে। তুলনামূলক কম খরচে নতুন প্রজন্মের মডেল চাইলে আইফোন ১৬ই, সামগ্রিক বৈশিষ্ট্যের ভারসাম্য চাইলে আইফোন ১৭ এবং উন্নত ক্যামেরা ও উচ্চ পারফরম্যান্সের প্রয়োজন হলে আইফোন ১৭ প্রো বা প্রো ম্যাক্স বিবেচনা করা যেতে পারে। পাতলা ও হালকা নকশাকে অগ্রাধিকার দিলে আইফোন এয়ারও একটি বিকল্প। পুরোনো মডেল কেনার ক্ষেত্রে নতুন মডেলের সঙ্গে দামের ব্যবধান এবং সুবিধার পার্থক্য তুলনা করুন। চূড়ান্ত সিদ্ধান্তের আগে বর্তমান মূল্য, স্টোরেজ, মডেল নম্বর, ওয়ারেন্টি এবং সিম সমর্থন যাচাই করা গুরুত্বপূর্ণ।