নতুন বা ব্যবহৃত স্মার্টফোন কেনার সময় শুধু বাহ্যিক অবস্থা দেখে সিদ্ধান্ত নেওয়া উচিত নয়। দেখতে পরিচিত কোনো মডেলের মতো হলেও ফোনটির হার্ডওয়্যার, সফটওয়্যার বা যন্ত্রাংশে পার্থক্য থাকতে পারে। আবার মূল নির্মাতার তৈরি ফোনেও পরে পরিবর্তিত সফটওয়্যার, অপ্রামাণিক ডিসপ্লে, বদলানো ব্যাটারি বা আইএমইআইসংক্রান্ত অসামঞ্জস্য দেখা দিতে পারে। তাই ফোনের সত্যতা ও বর্তমান অবস্থা যাচাই করতে একাধিক তথ্য মিলিয়ে দেখা ভালো।
বাংলাদেশের ব্যবহারকারীদের জন্য আইএমইআই যাচাই বিশেষভাবে গুরুত্বপূর্ণ। বিটিআরসির ন্যাশনাল ইকুইপমেন্ট আইডেন্টিটি রেজিস্টার বা এনইআইআর ব্যবস্থার মাধ্যমে ফোনের আইএমইআই নিবন্ধনের অবস্থা এবং ডিভাইস-সংক্রান্ত গুরুত্বপূর্ণ তথ্য যাচাই করা যায়। কোনো ফোন হারানো, চুরি হওয়া বা আইএমইআইসংক্রান্ত সমস্যার সঙ্গে যুক্ত থাকলেও যাচাইয়ের ফলাফলে তা জানা যেতে পারে। তবে শুধু এনইআইআর ফলাফলের ওপর নির্ভর না করে ফোনের মডেল, সফটওয়্যার, যন্ত্রাংশ এবং ক্রয়সংক্রান্ত তথ্যও মিলিয়ে দেখা উচিত।
সবচেয়ে কার্যকর পদ্ধতি হলো ফোনটিকে কয়েকটি আলাদা স্তরে পরীক্ষা করা। আইএমইআই দিয়ে শুরু করে সফটওয়্যার সার্টিফিকেশন, হার্ডওয়্যার বৈশিষ্ট্য এবং বিক্রয়সংক্রান্ত কাগজপত্র পর্যন্ত মিলিয়ে দেখলে ভুল ফোন কেনার ঝুঁকি অনেকটাই কমানো যায়।
অরিজিনাল এবং নকল ফোন বলতে কী বোঝায়?
অরিজিনাল ফোন বলতে সাধারণভাবে এমন ফোনকে বোঝানো হয় যা সংশ্লিষ্ট নির্মাতার নির্ধারিত নকশা, হার্ডওয়্যার ও সফটওয়্যার অনুযায়ী তৈরি হয়েছে। অন্যদিকে নকল বা অনুকরণে তৈরি ফোন দেখতে পরিচিত কোনো মডেলের মতো হলেও এর প্রসেসর, ক্যামেরা, ডিসপ্লে, অপারেটিং সিস্টেম বা অন্যান্য যন্ত্রাংশ ভিন্ন হতে পারে। আবার মূল নির্মাতার তৈরি একটি ফোন পরে মেরামতের সময় অন্য যন্ত্রাংশ দিয়ে পরিবর্তিতও হতে পারে। তাই ফোনটি মূল নির্মাতার তৈরি কি না এবং সেটির বর্তমান যন্ত্রাংশ মূল অবস্থায় আছে কি না, দুটি বিষয় আলাদাভাবে যাচাই করা দরকার।
প্রথমে আইএমইআই নম্বর বের করুন
আইএমইআই হলো মোবাইল ডিভাইস শনাক্ত করার জন্য ব্যবহৃত একটি ১৫ সংখ্যার পরিচয় নম্বর। সাধারণভাবে ফোনের ডায়াল অপশনে *#06# লিখলে আইএমইআই দেখা যায়। এছাড়া ফোনের সেটিংসের ডিভাইস সম্পর্কিত অংশ, বক্স এবং কিছু ক্ষেত্রে ক্রয় রসিদেও এই নম্বর থাকে। ডুয়াল সিম ফোনে একাধিক আইএমইআই থাকতে পারে এবং বিটিআরসি প্রতিটি আইএমইআই আলাদাভাবে পরীক্ষা করার পরামর্শ দেয়।
ফোনের স্ক্রিনে পাওয়া আইএমইআই, বক্সের আইএমইআই এবং সেটিংসে থাকা নম্বর মিলিয়ে দেখুন। কোনো একটি স্থানে ভিন্ন নম্বর থাকলে ফোনটির ইতিহাস সম্পর্কে আরও বিস্তারিত যাচাই করা দরকার।
বিটিআরসির এনইআইআর থেকে ফোন যাচাই করুন
বাংলাদেশে ফোন কেনার আগে সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ পরীক্ষাগুলোর একটি হলো এনইআইআর যাচাই। মেসেজ অপশনে KYD লিখে একটি স্পেস দিয়ে ১৫ সংখ্যার আইএমইআই লিখে 16002 নম্বরে পাঠালে ফোনের বৈধতার তথ্য পাওয়া যায়। বিটিআরসির নির্ধারিত এনইআইআর ওয়েবসাইটেও আইএমইআই যাচাইয়ের ব্যবস্থা রয়েছে।
এনইআইআর ফলাফলে ফোনটি নিবন্ধিত ও বৈধ হিসেবে দেখালে এটি একটি ইতিবাচক তথ্য। তবে এটিকে ফোনের প্রতিটি যন্ত্রাংশ অরিজিনাল হওয়ার চূড়ান্ত প্রমাণ হিসেবে দেখা ঠিক নয়। বিটিআরসি নিজেই জানিয়েছে, আইএমইআইয়ের সঙ্গে ভুল মডেল বা ডিভাইস তথ্য দেখা গেলে ক্লোন করা আইএমইআইয়ের সম্ভাবনা থাকতে পারে।
শুধু আইএমইআই মিললেই সিদ্ধান্ত নেবেন না
অনেক ক্রেতা মনে করেন আইএমইআই বৈধ দেখালেই ফোন নিশ্চয়ই অরিজিনাল। বাস্তবে আইএমইআই একটি গুরুত্বপূর্ণ পরীক্ষা হলেও এটি পুরো যাচাই প্রক্রিয়ার একটি অংশ মাত্র। সন্দেহজনক ফোনে বৈধ কোনো ডিভাইসের আইএমইআই নকল করার ঝুঁকিও থাকতে পারে। এজন্য এনইআইআরে দেখানো মডেলের তথ্য ফোনের প্রকৃত মডেলের সঙ্গে মিলিয়ে দেখা বিশেষভাবে গুরুত্বপূর্ণ।
সবচেয়ে নিরাপদ নিয়ম হলো তিনটি বিষয় একসঙ্গে মিলানো: আইএমইআই পরিচয়, ফোনের সফটওয়্যার পরিচয় এবং বাস্তব হার্ডওয়্যার বৈশিষ্ট্য। তিন ক্ষেত্রেই তথ্য সামঞ্জস্যপূর্ণ হলে ফোনটি সম্পর্কে আস্থা অনেক বেশি পাওয়া যায়।
ফোনের মডেল ও স্পেসিফিকেশন মিলিয়ে দেখুন
সেটিংস থেকে ফোনের মডেল নম্বর, স্টোরেজ, র্যাম, অ্যান্ড্রয়েড সংস্করণ বা অন্যান্য ডিভাইস তথ্য দেখুন। এরপর নির্মাতার অফিসিয়াল তথ্যের সঙ্গে মিলিয়ে নিন। উদাহরণ হিসেবে কোনো নির্দিষ্ট মডেলের অফিসিয়াল সংস্করণে যদি নির্দিষ্ট প্রসেসর, ডিসপ্লে রেজল্যুশন বা ক্যামেরা থাকে কিন্তু হাতে থাকা ফোনে সম্পূর্ণ ভিন্ন তথ্য দেখা যায়, তাহলে সেটি সতর্কতার কারণ।
ফোনের সেটিংসে দেখানো র্যাম, স্টোরেজ, মডেল নম্বর এবং অন্যান্য তথ্য নির্মাতার প্রকাশিত স্পেসিফিকেশনের সঙ্গে মিলিয়ে দেখুন। কোনো গুরুত্বপূর্ণ তথ্যের মধ্যে অসামঞ্জস্য পাওয়া গেলে শুধু সেটিংসে দেখানো তথ্যের ওপর নির্ভর না করে ফোনটি আরও বিস্তারিতভাবে যাচাই করুন।
অ্যান্ড্রয়েড ফোনে প্লে প্রোটেক্ট সার্টিফিকেশন দেখুন
অ্যান্ড্রয়েড ফোনে গুগল প্লে স্টোর খুলে প্রোফাইল আইকন থেকে সেটিংস এবং এরপর এবাউট অংশে গেলে প্লে প্রোটেক্ট সার্টিফিকেশনের অবস্থা দেখা যায়। গুগলের তথ্য অনুযায়ী, প্লে প্রোটেক্ট সার্টিফায়েড ডিভাইস অ্যান্ড্রয়েডের সামঞ্জস্য পরীক্ষা অতিক্রম করে। কোনো ফোন সার্টিফায়েড নয় বলে দেখালে সেটিতে আনলক করা বুটলোডার, পরিবর্তিত অ্যান্ড্রয়েড ব্যবস্থা বা সার্টিফিকেশনসংক্রান্ত অন্য কোনো সমস্যা থাকতে পারে। এমন অবস্থায় ফোনটির মডেল ও সফটওয়্যার আরও বিস্তারিতভাবে যাচাই করা উচিত।
তবে সার্টিফিকেশন না থাকা মানেই ফোনের হার্ডওয়্যার শতভাগ নকল এমন সিদ্ধান্তও দেওয়া উচিত নয়। এটি বরং আরও যাচাই করার একটি শক্তিশালী কারণ।
আইফোন হলে সিরিয়াল ও যন্ত্রাংশের ইতিহাস দেখুন
আইফোন যাচাইয়ের সময় সেটিংস থেকে সাধারণ এবং এবাউট অংশে গিয়ে সিরিয়াল নম্বর ও ডিভাইসের তথ্য দেখুন। এরপর অ্যাপলের নিজস্ব কভারেজ যাচাই ব্যবস্থায় সিরিয়াল নম্বর ব্যবহার করে সংশ্লিষ্ট ডিভাইসের সার্ভিস ও কভারেজসংক্রান্ত তথ্য মিলিয়ে নিতে পারেন। তবে শুধু সিরিয়াল নম্বরের ফলাফলকে ফোনের সব যন্ত্রাংশ মূল অবস্থায় থাকার প্রমাণ হিসেবে বিবেচনা করবেন না।
আরও গুরুত্বপূর্ণ হলো যন্ত্রাংশ ও মেরামতের ইতিহাস পরীক্ষা করা। সমর্থিত আইফোনে সেটিংসের সাধারণ ও এবাউট অংশে যন্ত্রাংশ এবং মেরামতের ইতিহাস দেখা যেতে পারে। অ্যাপলের বর্তমান তথ্য অনুযায়ী, সেখানে কোনো যন্ত্রাংশকে আসল, আগে ব্যবহৃত, অজানা বা যাচাই না হওয়া হিসেবে দেখানো হতে পারে। মডেলভেদে ব্যাটারি, ডিসপ্লে, ক্যামেরা এবং লজিক বোর্ডের মতো গুরুত্বপূর্ণ যন্ত্রাংশ সম্পর্কে তথ্য পাওয়া যায়। ব্যবহৃত আইফোন কেনার আগে এই অংশটি পরীক্ষা করা বিশেষভাবে উপকারী।
ডিসপ্লে, ক্যামেরা ও বডির মান পরীক্ষা করুন
ফোনের ডিসপ্লে, ক্যামেরা এবং বাহ্যিক যন্ত্রাংশও হাতে পরীক্ষা করুন। ডিসপ্লেতে অস্বাভাবিক রঙ বা উজ্জ্বলতা, স্পর্শে বিলম্ব, ক্যামেরায় অস্বাভাবিক ঝাপসা ছবি, দুর্বল স্পিকার অথবা ঢিলা বাটনের মতো সমস্যা থাকলে ফোনটির অবস্থা আরও ভালোভাবে যাচাই করুন। বিশেষ করে মেরামত করা ফোনের ক্ষেত্রে ব্যবহৃত যন্ত্রাংশের মান ও কার্যকারিতা পরীক্ষা করা গুরুত্বপূর্ণ।
তবে শুধু বাহ্যিক মান দেখে সিদ্ধান্ত নেওয়া ঠিক নয়। খুব ভালোভাবে তৈরি নকল ফোন দেখতে আসলের কাছাকাছি হতে পারে, আবার পুরোনো অরিজিনাল ফোনে ব্যবহারের কারণে বাহ্যিক ক্ষতি থাকতে পারে।
অস্বাভাবিক কম দামকে সতর্ক সংকেত হিসেবে দেখুন
একই মডেলের বাজারদরের তুলনায় একটি ফোন যদি অস্বাভাবিক কম দামে দেওয়া হয়, তাহলে কারণটি পরিষ্কারভাবে জানুন। ফোনটি ব্যবহৃত, পুনর্নির্মিত, বিদেশি সংস্করণ, মেরামত করা অথবা যন্ত্রাংশ পরিবর্তিত হতে পারে। শুধু “বিশেষ অফার” বা “দ্রুত বিক্রি” ধরনের কথায় সিদ্ধান্ত নেওয়ার পরিবর্তে ডিভাইসটি সম্পূর্ণ পরীক্ষা করুন।
বক্স, রসিদ ও ওয়ারেন্টি তথ্য মিলিয়ে নিন
বক্সের মডেল নম্বর ও আইএমইআই ফোনের ভেতরের তথ্যের সঙ্গে মিলিয়ে নিন। সম্ভব হলে বৈধ ক্রয় রসিদ এবং ওয়ারেন্টির তথ্যও দেখুন। ব্যবহৃত ফোন কিনলে আগের মালিকের কাছ থেকে ফোনটি কোথা থেকে কেনা হয়েছিল এবং কোনো মেরামত করা হয়েছে কি না জেনে নেওয়া ভালো। শুধু সুন্দর নতুন বক্স থাকাকে অরিজিনাল হওয়ার প্রমাণ হিসেবে ধরে নেওয়া উচিত নয়।
কেনার আগে পাঁচ ধাপে ফোন যাচাই করুন
ফোন যাচাই করতে পাঁচটি ধাপ অনুসরণ করতে পারেন। প্রথমে *#06# ডায়াল করে আইএমইআই বের করুন এবং ফোন, বক্স ও সেটিংসে থাকা নম্বর মিলিয়ে নিন। দ্বিতীয়ত, এনইআইআর থেকে ফোনের প্রতিটি আইএমইআই যাচাই করুন। তৃতীয়ত, মডেল নম্বর ও স্পেসিফিকেশন নির্মাতার নিজস্ব তথ্যের সঙ্গে মিলিয়ে দেখুন। চতুর্থত, অ্যান্ড্রয়েড ফোনে প্লে প্রোটেক্ট সার্টিফিকেশন এবং আইফোনে সিরিয়াল নম্বর ও যন্ত্রাংশের ইতিহাস পরীক্ষা করুন। সবশেষে ক্যামেরা, ডিসপ্লে, চার্জিং, স্পিকার, মাইক্রোফোন, সিম এবং ওয়াই-ফাইসহ দৈনন্দিন ব্যবহারের গুরুত্বপূর্ণ সুবিধাগুলো পরীক্ষা করুন।
এই সমন্বিত পদ্ধতিই সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ। কোনো একটি পরীক্ষায় পাস করাকে চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত হিসেবে না দেখে সব তথ্য পরস্পরের সঙ্গে সামঞ্জস্যপূর্ণ কি না সেটাই দেখুন।
সাধারণ প্রশ্ন ও উত্তর
১. আইএমইআই নম্বর মিললে কি ফোন অবশ্যই অরিজিনাল?
না। আইএমইআই মিল থাকা গুরুত্বপূর্ণ হলেও এটিই একমাত্র প্রমাণ নয়। কোনো ফোনে অন্য বৈধ ডিভাইসের আইএমইআই ক্লোন করা থাকতে পারে। তাই এনইআইআর ফলাফল, মডেল তথ্য, সফটওয়্যার এবং হার্ডওয়্যার বৈশিষ্ট্য একসঙ্গে যাচাই করা উচিত।
২. বাংলাদেশে ফোনের আইএমইআই কীভাবে যাচাই করব?
মেসেজ অপশনে KYD লিখে একটি স্পেস দিয়ে ফোনের ১৫ সংখ্যার আইএমইআই লিখে 16002 নম্বরে পাঠাতে পারেন। এছাড়া বিটিআরসির অফিসিয়াল এনইআইআর ওয়েবসাইট থেকেও যাচাই করা যায়। বিটিআরসি অননুমোদিত সাইটে ব্যক্তিগত তথ্য না দেওয়ার পরামর্শ দিয়েছে।
৩. ডুয়াল সিম ফোনে কোন আইএমইআই পরীক্ষা করতে হবে?
ডুয়াল সিম বা একাধিক সিম সমর্থিত ফোনে একাধিক আইএমইআই থাকতে পারে। বিটিআরসির নির্দেশনা অনুযায়ী প্রতিটি সিম স্লটের আইএমইআই আলাদাভাবে পরীক্ষা করা উচিত। একটি আইএমইআই যাচাই করে অন্যটি বাদ দেওয়া ঠিক নয়।
৪. এনইআইআরে “নট রেজিস্টার্ড” দেখালে কি ফোন নকল?
সবসময় নয়। এনইআইআর ব্যবস্থার তথ্য অনুযায়ী কোনো নতুন বা বিশেষ পরিস্থিতির ফোন এখনো নিবন্ধিত না-ও থাকতে পারে। প্রয়োজনীয় বৈধ কাগজপত্র থাকলে এনইআইআর পোর্টালের মাধ্যমে নিবন্ধনের আবেদন করার সুযোগ রয়েছে। তবে কোনো ফোন কেনার আগে তার নিবন্ধনের অবস্থা পরিষ্কারভাবে যাচাই করে নেওয়া উচিত।
৫. নকল ফোনের সবচেয়ে সাধারণ লক্ষণ কী?
অস্বাভাবিক কম দাম, মডেল নম্বরের অসামঞ্জস্য, আইএমইআই তথ্যের গরমিল, নির্মাতার প্রকাশিত স্পেসিফিকেশনের সঙ্গে ফোনের তথ্য না মেলা এবং ডিসপ্লে বা ক্যামেরায় অস্বাভাবিক সমস্যা সতর্কতার কারণ হতে পারে। তবে একটি লক্ষণ দেখেই ফোনকে নকল বলা উচিত নয়। একাধিক তথ্য যাচাই করে সিদ্ধান্ত নেওয়া ভালো।
৬. অ্যান্ড্রয়েড ফোন অরিজিনাল কি না সফটওয়্যার দিয়ে বোঝা যায়?
প্লে প্রোটেক্ট সার্টিফিকেশন অ্যান্ড্রয়েড ফোন যাচাইয়ের একটি সহায়ক পরীক্ষা। গুগল প্লে স্টোরের সেটিংস থেকে ফোনটি সার্টিফায়েড কি না দেখা যায়। সার্টিফিকেশন থাকলে জানা যায় যে ডিভাইসটি অ্যান্ড্রয়েডের সামঞ্জস্য পরীক্ষার প্রয়োজনীয়তা পূরণ করেছে। তবে এই তথ্য দিয়ে ফোনের ডিসপ্লে, ব্যাটারি, ক্যামেরা বা অন্যান্য যন্ত্রাংশ মূল অবস্থায় আছে কি না নিশ্চিত হওয়া যায় না।
৭. ব্যবহৃত আইফোন কেনার আগে কী পরীক্ষা করা উচিত?
আইএমইআই ও সিরিয়াল নম্বরের পাশাপাশি ব্যাটারি, ডিসপ্লে, ক্যামেরা এবং যন্ত্রাংশের ইতিহাস পরীক্ষা করুন। সমর্থিত আইফোনে সেটিংসের এবাউট অংশে যন্ত্রাংশ ও মেরামতের ইতিহাস দেখা যায়। সেখানে আগে পরিবর্তন বা মেরামত করা গুরুত্বপূর্ণ যন্ত্রাংশ সম্পর্কে তথ্য পাওয়া যেতে পারে।
৮. ফোনের বক্স দেখে কি আসল নকল বোঝা যায়?
বক্স কিছু সহায়ক তথ্য দিতে পারে, কিন্তু এটিকে নির্ভরযোগ্য একক পরীক্ষা হিসেবে ব্যবহার করা উচিত নয়। বক্স আলাদাভাবে পরিবর্তন বা নকল করা সম্ভব। তাই বক্সের আইএমইআই ও মডেল নম্বর ফোনের সেটিংস এবং এনইআইআর তথ্যের সঙ্গে মিলিয়ে নিন।
৯. বিদেশ থেকে আনা ফোন কি নকল হিসেবে ধরা হয়?
না। বিদেশ থেকে আনা ফোন অরিজিনাল হতে পারে। মূল প্রশ্ন হলো ফোনটির উৎপত্তি, আইএমইআই এবং বাংলাদেশে প্রয়োজনীয় নিবন্ধনের অবস্থা। বিটিআরসির এনইআইআর ব্যবস্থায় বিদেশ থেকে বৈধভাবে আনা নির্দিষ্ট ফোন নিবন্ধনের ব্যবস্থাও রয়েছে।
১০. ফোন কেনার সময় সবচেয়ে নিরাপদ সিদ্ধান্ত কীভাবে নেব?
কোনো একটি তথ্যের ওপর নির্ভর করবেন না। আইএমইআই, এনইআইআর অবস্থা, মডেল নম্বর, অফিসিয়াল স্পেসিফিকেশন, সফটওয়্যার সার্টিফিকেশন, যন্ত্রাংশের অবস্থা এবং ব্যবহারিক পরীক্ষা একসঙ্গে করুন। সম্ভব হলে বিশ্বস্ত বিক্রেতা থেকে রসিদসহ ফোন কিনুন এবং টাকা দেওয়ার আগেই সব যাচাই সম্পন্ন করুন।
উপসংহার
অরিজিনাল ও নকল ফোনের পার্থক্য বোঝার জন্য কোনো একটি কোড বা পরীক্ষা যথেষ্ট নয়। প্রথমে আইএমইআই ও এনইআইআর অবস্থা যাচাই করুন, এরপর মডেল নম্বর, নির্মাতার প্রকাশিত স্পেসিফিকেশন, সফটওয়্যার সার্টিফিকেশন, যন্ত্রাংশের অবস্থা এবং ক্রয়সংক্রান্ত কাগজপত্র মিলিয়ে দেখুন। বিশেষ করে ব্যবহৃত বা বাজারদরের তুলনায় অস্বাভাবিক কম দামের ফোন কেনার আগে এসব যাচাই সম্পন্ন করা ভালো। একাধিক নির্ভরযোগ্য তথ্য মিলিয়ে সিদ্ধান্ত নিলে ভুল বা সমস্যাযুক্ত ফোন কেনার ঝুঁকি কমানো সম্ভব।