এফডিআর-এর সুদ থেকে যে পরিমাণ ট্যাক্স কাটে

ব্যাংকে এফডিআর বা মেয়াদি আমানত করলে নির্ধারিত সময় অন্তর অথবা মেয়াদ শেষে সুদ বা মুনাফা পাওয়া যায়। এই অর্থ হিসাবে জমা বা পরিশোধের সময় ব্যাংক প্রযোজ্য আইন অনুযায়ী উৎসে আয়কর কেটে সরকারি কোষাগারে জমা দেয়। তাই ঘোষিত সুদের হার দিয়ে মোট আয় হিসাব করা গেলেও হাতে পাওয়া প্রকৃত অঙ্ক জানতে উৎসে করের পরিমাণও হিসাব করতে হয়।

বাংলাদেশে আমানতের সুদ বা মুনাফার উৎসে করের নিয়মে সাম্প্রতিক সময়ে গুরুত্বপূর্ণ পরিবর্তন এসেছে। পুরোনো অনেক তথ্যসূত্রে ব্যক্তির ক্ষেত্রে টিআইএন থাকলে ১০% এবং না থাকলে ১৫% কর কাটার তথ্য এখনো দেখা যায়। তবে বর্তমানে আয়কর আইন, ২০২৩-এর ধারা ১০২ অনুযায়ী ট্রাস্ট, ব্যক্তিসংঘ ও কোম্পানি ছাড়া অন্যান্য প্রাপকের ক্ষেত্রে আমানতের সুদ বা মুনাফায় উৎসে করের হার ১০%। ট্রাস্ট, ব্যক্তিসংঘ ও কোম্পানির ক্ষেত্রে এই হার ২০%। এই নিবন্ধটি সেপ্টেম্বর ২০২৬ পর্যন্ত কার্যকর বিধান বিবেচনায় হালনাগাদ করা হয়েছে।

এখানে মূল আলোচনা বাংলাদেশে নিবাসী সাধারণ ব্যক্তির এফডিআর নিয়ে। অনিবাসী ব্যক্তি, কর অব্যাহতিপ্রাপ্ত প্রাপক অথবা হ্রাসকৃত করহার প্রযোজ্য এমন ক্ষেত্রে ভিন্ন বিধান থাকতে পারে। আপনার ক্ষেত্রে বিশেষ কোনো বিধান প্রযোজ্য হলে ব্যাংকের উৎসে কর সনদ এবং সংশ্লিষ্ট করবিধি মিলিয়ে দেখা উচিত।

Table of Contents

এফডিআরের সুদে বর্তমানে কত শতাংশ কর কাটে

বর্তমান নিয়মে এফডিআরসহ আমানতের বিপরীতে সুদ বা মুনাফা দেওয়া হলে ধারা ১০২ অনুযায়ী উৎসে কর কাটা হয়। ট্রাস্ট, ব্যক্তিসংঘ ও কোম্পানি ছাড়া অন্যান্য প্রাপকের ক্ষেত্রে হার ১০%, আর ট্রাস্ট, ব্যক্তিসংঘ ও কোম্পানির ক্ষেত্রে হার ২০%। এই কর এফডিআরের মূল জমার ওপর নয়; অর্জিত সুদ বা মুনাফার ওপর হিসাব করা হয়।

প্রাপকের ধরন উৎসে করের হার ১,০০,০০০ টাকা সুদ হলে কর কর কাটার পর সুদ
ট্রাস্ট, ব্যক্তিসংঘ ও কোম্পানি ছাড়া অন্যান্য প্রাপক ১০% ১০,০০০ টাকা ৯০,০০০ টাকা
ট্রাস্ট, ব্যক্তিসংঘ বা কোম্পানি ২০% ২০,০০০ টাকা ৮০,০০০ টাকা

টিআইএন থাকলে ১০% আর না থাকলে ১৫%, এই তথ্য এখন কেন বিভ্রান্তিকর

আগের বিধানের কারণে পুরোনো ওয়েবসাইট, সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমের পোস্ট বা নথিতে ব্যাংক আমানতের সুদের ক্ষেত্রে ১০% ও ১৫% হারের তথ্য এখনো পাওয়া যায়। তবে ১ জুলাই ২০২৫ থেকে কার্যকর সংশোধনের পর ধারা ১০২-এর বর্তমান সারণিতে ট্রাস্ট, ব্যক্তিসংঘ ও কোম্পানি ছাড়া অন্যান্য প্রাপকের জন্য ১০% হার নির্ধারিত রয়েছে। শুধু টিআইএন না থাকার কারণে সাধারণ ব্যক্তির জন্য ১৫% হারের আলাদা ধাপ বর্তমান সারণিতে নেই।

তবে টিআইএন এবং আয়কর রিটার্নের প্রয়োজনীয়তা আলাদা বিষয়। নির্দিষ্ট লেনদেন বা সেবার ক্ষেত্রে রিটার্ন দাখিলের প্রমাণ প্রয়োজন হতে পারে। তাই এফডিআরের উৎসে করের হারকে টিআইএন বা রিটার্নের সামগ্রিক বাধ্যবাধকতার সঙ্গে এক করে দেখা উচিত নয়।

এফডিআরের ট্যাক্স কীভাবে হিসাব করবেন

এফডিআরের উৎসে কর হিসাবের সাধারণ সূত্র হলো: মোট অর্জিত সুদ বা মুনাফা × প্রযোজ্য উৎসে করের হার। উদাহরণ হিসেবে, ১০ লাখ টাকার এফডিআরে বছরে ১০% হারে ১ লাখ টাকা সুদ হলে একজন সাধারণ নিবাসী ব্যক্তির ক্ষেত্রে ১০% হারে উৎসে কর হবে ১০,০০০ টাকা। শুধু এই উৎসে কর বিবেচনা করলে কর কাটার পর সুদের পরিমাণ থাকবে ৯০,০০০ টাকা।

একইভাবে ৫ লাখ টাকার এফডিআরে বছরে ৮% হারে মোট সুদ ৪০,০০০ টাকা হলে ১০% হারে উৎসে কর হবে ৪,০০০ টাকা। ফলে উৎসে কর কাটার পর সুদ থাকবে ৩৬,০০০ টাকা। ব্যাংকের অন্য কোনো বৈধ কর্তন বা চার্জ থাকলে হাতে পাওয়া অঙ্ক কিছুটা ভিন্ন হতে পারে।

কখন ব্যাংক এই কর কেটে নেয়

ধারা ১০২ অনুযায়ী সুদ বা মুনাফা হিসাবে জমা করার সময় অথবা তা পরিশোধের সময়—যেটি আগে ঘটে—উৎসে কর কর্তন করা হয়। তাই মাসিক, ত্রৈমাসিক, ছয় মাস অন্তর বা মেয়াদপূর্তিতে সুদ দেওয়ার ধরন অনুযায়ী কর কাটার সময়ও ভিন্ন হতে পারে। মেয়াদ শেষে পুরো সুদ একবারে পরিশোধ করা হলে প্রযোজ্য কর সুদ বা মুনাফার অংশ থেকেই হিসাব করা হয়।

উৎসে কাটা কর কি চূড়ান্ত আয়কর

অর্থ আইন, ২০২৬ দ্বারা আয়কর আইন, ২০২৩-এর ধারা ১৬৩ প্রতিস্থাপিত হয়েছে। বর্তমান বিধান অনুযায়ী অংশ ৭-এর অধীনে কর্তিত, সংগৃহীত বা পরিশোধিত কর নিরূপিত করের তুলনায় বেশি হলে অতিরিক্ত অংশ ফেরতযোগ্য হতে পারে। করদাতা অতিরিক্ত অর্থ ফেরত চাওয়ার পাশাপাশি পূর্ববর্তী করদাবির সঙ্গে সমন্বয় অথবা পরবর্তী করবর্ষে জের টানার সুযোগও পেতে পারেন। তাই রিটার্ন দাখিলকারী সাধারণ করদাতার ক্ষেত্রে এফডিআর থেকে কাটা ১০% উৎসে করকে সব পরিস্থিতিতে স্বয়ংক্রিয়ভাবে চূড়ান্ত কর ধরে নেওয়া ঠিক নয়।

রিটার্নে এফডিআরের সুদ বা মুনাফা প্রযোজ্য আয়খাতে দেখিয়ে ব্যাংক কর্তৃক কাটা উৎসে করের তথ্যও যথাযথভাবে দাবি করতে হবে। তবে ধারা ১৬৬(২) অনুযায়ী রিটার্ন দাখিল থেকে অব্যাহতিপ্রাপ্ত ব্যক্তির ক্ষেত্রে অংশ ৭-এর অধীনে কর্তিত বা সংগৃহীত উৎসে কর চূড়ান্ত করদায় হিসেবে গণ্য হওয়ার বিধান রয়েছে। ব্যক্তির আয়, করদাতার অবস্থান এবং অন্যান্য প্রযোজ্য বিধানের কারণে চূড়ান্ত করদায় ভিন্ন হতে পারে।

এফডিআর, সঞ্চয়ী হিসাব ও ডিপিএসের কর এক জিনিস কি না

ধারা ১০২ শুধু প্রচলিত এফডিআর নয়; বিভিন্ন ধরনের আমানতের বিপরীতে দেওয়া সুদ বা মুনাফাকেও অন্তর্ভুক্ত করে। তবে কোনো প্রাপক বা আয়ের ক্ষেত্রে কর অব্যাহতি অথবা হ্রাসকৃত করহার প্রযোজ্য হলে জাতীয় রাজস্ব বোর্ডের প্রযোজ্য সনদ বা বিশেষ বিধান অনুসারে উৎসে করের হার ভিন্ন হতে পারে। তাই শুধু “ডিপিএস”, “সঞ্চয়ী হিসাব” বা “মেয়াদি আমানত” নাম দেখে করের সিদ্ধান্ত না নিয়ে সংশ্লিষ্ট স্কিমের বর্তমান আইনি অবস্থা ও ব্যাংকের উৎসে কর ব্যবস্থাপনা যাচাই করা উচিত।

ইসলামী ব্যাংকের মেয়াদি আমানতের মুনাফায় কী হয়

ধারা ১০২-এর ভাষায় “সুদ” ও “মুনাফা” উভয় ধরনের অর্থ অন্তর্ভুক্ত রয়েছে। তাই ইসলামী ব্যাংকের মেয়াদি আমানত থেকে পাওয়া মুনাফাও সাধারণভাবে এ ধারার আওতায় পড়ে। ট্রাস্ট, ব্যক্তিসংঘ ও কোম্পানি ছাড়া অন্যান্য প্রাপকের ক্ষেত্রে উৎসে করের হার ১০%, যদি কোনো কর অব্যাহতি বা হ্রাসকৃত করহারের বিধান প্রযোজ্য না থাকে।

ব্যাংক হিসাব বিবরণীতে কী কী মিলিয়ে দেখবেন

এফডিআর নবায়ন বা মেয়াদপূর্তির সময় তিনটি অঙ্ক আলাদা করে দেখুন: মূলধন, মোট সুদ বা মুনাফা, এবং উৎসে কাটা আয়কর। ব্যাংকের সনদে কাটা করের পরিমাণ, তারিখ ও সংশ্লিষ্ট আমানতের তথ্য মিলিয়ে রাখলে আয়কর রিটার্নে উৎসে কর দাবি করা সহজ হয়। একাধিক ব্যাংকে এফডিআর থাকলে প্রতিটি প্রতিষ্ঠানের সনদ আলাদা করে সংরক্ষণ করা ভালো।

সহজভাবে যাচাই করতে ঘোষিত সুদ বা মুনাফা নিজে হিসাব করে প্রযোজ্য উৎসে কর বাদ দিন এবং ব্যাংকের দেওয়া অঙ্কের সঙ্গে মিলিয়ে দেখুন। অমিল থাকলে সংশ্লিষ্ট শাখা বা ব্যাংকের কর্মকর্তার কাছে কর্তনের বিস্তারিত হিসাব ও উৎসে কর সনদ চাইতে পারেন। এতে উৎসে করের হার এবং অন্য কোনো কর্তন যুক্ত হয়েছে কি না স্পষ্টভাবে বোঝা যাবে।

যে ভুলগুলো এড়িয়ে চলবেন

  • এফডিআরের মূলধনের ওপর ১০% কর ধরে হিসাব করবেন না; উৎসে কর সুদ বা মুনাফার ওপর প্রযোজ্য।
  • পুরোনো ১০% বনাম ১৫% হারের তথ্যকে বর্তমান নিয়ম ধরে ব্যবহার করবেন না।
  • ব্যাংকের মোট কর্তনকে পুরোটা আয়কর ধরে নেবেন না; অন্য বৈধ চার্জ থাকতে পারে।
  • রিটার্নে উৎসে কর দাবি করলে ব্যাংকের উৎসে কর সনদ সংরক্ষণ করুন।
  • একাধিক এফডিআর থেকে সুদ বা মুনাফা পেলে প্রযোজ্য সব তথ্য রিটার্নে সঠিকভাবে দেখান।

প্রশ্ন ও উত্তর

১. একজন সাধারণ ব্যক্তির এফডিআর সুদ থেকে বর্তমানে কত শতাংশ ট্যাক্স কাটে?

আয়কর আইন, ২০২৩-এর বর্তমান ধারা ১০২ অনুযায়ী ট্রাস্ট, ব্যক্তিসংঘ ও কোম্পানি ছাড়া অন্যান্য প্রাপকের আমানতের সুদ বা মুনাফায় ১০% হারে উৎসে কর কাটার বিধান রয়েছে। এই কর সুদ বা মুনাফার ওপর প্রযোজ্য, মূল জমার ওপর নয়।

২. টিআইএন না থাকলে কি এখনো ১৫% কর কাটে?

বর্তমান ধারা ১০২-এর সারণিতে শুধু টিআইএন না থাকার কারণে সাধারণ ব্যক্তির জন্য ১৫% হারের আলাদা ধাপ নেই। তাই ১৫% হারের কোনো পুরোনো তথ্য পাওয়া গেলে তার প্রকাশের তারিখ ও বর্তমান আইনি ভিত্তি যাচাই করা উচিত।

৩. ১০ লাখ টাকার এফডিআরে ১ লাখ টাকা সুদ হলে কত কর কাটবে?

একজন সাধারণ নিবাসী ব্যক্তির ক্ষেত্রে ১ লাখ টাকা সুদের ১০% অর্থাৎ ১০,০০০ টাকা উৎসে কর কাটবে। শুধু এই কর বিবেচনা করলে কর-পরবর্তী সুদ থাকবে ৯০,০০০ টাকা।

৪. কোম্পানির এফডিআর সুদে কত কর কাটা হয়?

ট্রাস্ট, ব্যক্তিসংঘ ও কোম্পানির আমানতের সুদ বা মুনাফার ক্ষেত্রে ২০% হারে উৎসে কর কর্তনের বিধান রয়েছে। ফলে ১ লাখ টাকা সুদ হলে উৎসে কর হতে পারে ২০,০০০ টাকা।

৫. ব্যাংক কি এফডিআরের মূল টাকা থেকেও কর কাটে?

ধারা ১০২ অনুযায়ী করের ভিত্তি হলো আমানতের বিপরীতে পাওয়া সুদ বা মুনাফা। এফডিআরের মূলধনকে সুদ ধরে ১০% উৎসে কর কাটার কথা নয়।

৬. সুদ মাসে মাসে দিলে কি করও মাসে মাসে কাটতে পারে?

হ্যাঁ। সুদ বা মুনাফা হিসাবে জমা বা পরিশোধের মধ্যে যেটি আগে ঘটে, তখনই উৎসে কর কাটার বিধান থাকায় মাসিক সুদভিত্তিক স্কিমে প্রতিটি জমার সময় কর কাটা হতে পারে।

৭. ব্যাংক কাটা ১০% কর কি আয়কর রিটার্নে দেখাতে হবে?

রিটার্ন দাখিলকারী করদাতার ক্ষেত্রে এফডিআরের সুদ বা মুনাফা এবং এর বিপরীতে ব্যাংক কর্তৃক কাটা উৎসে কর যথাযথভাবে দেখানো গুরুত্বপূর্ণ। ব্যাংকের উৎসে কর সনদ সংরক্ষণ করলে রিটার্নে দাবিকৃত করের প্রমাণ দেখানো সহজ হয়।

৮. অতিরিক্ত উৎসে কর কাটা হলে কি ফেরত পাওয়া যায়?

হ্যাঁ। বর্তমান ধারা ১৬৩ অনুযায়ী অংশ ৭-এর অধীনে কর্তিত, সংগৃহীত বা পরিশোধিত কর নিরূপিত করের তুলনায় বেশি হলে অতিরিক্ত অংশ ফেরত চাওয়া, পূর্ববর্তী করদাবির সঙ্গে সমন্বয় অথবা পরবর্তী করবর্ষে জের টানার সুযোগ রয়েছে। এ জন্য রিটার্নে উৎসে করের তথ্য সঠিকভাবে দাবি করা এবং প্রয়োজনীয় প্রমাণ সংরক্ষণ করা উচিত।

৯. ডিপিএসের মুনাফাতেও কি একই নিয়ম?

সব ডিপিএসের ক্ষেত্রে একই সিদ্ধান্ত দেওয়া ঠিক নয়। কোনো প্রাপক বা আয়ের ক্ষেত্রে কর অব্যাহতি অথবা হ্রাসকৃত করহার প্রযোজ্য হলে সংশ্লিষ্ট সনদ বা বিশেষ বিধান অনুসারে উৎসে করের হার ভিন্ন হতে পারে। তাই সংশ্লিষ্ট ব্যাংকের ডিপিএসের শর্ত এবং বর্তমান করবিধি যাচাই করা উচিত।

১০. ব্যাংক ১০%-এর বেশি কেটে নিলে কী করা উচিত?

প্রথমে মোট সুদ বা মুনাফা, উৎসে কাটা কর এবং অন্য কোনো কর্তন আলাদা করে হিসাব করুন। এরপর ব্যাংকের উৎসে কর সনদ নিয়ে সংশ্লিষ্ট শাখার কাছে কর্তনের আইনি ভিত্তি ও হিসাব জানতে চান। প্রযোজ্য হারের সঙ্গে অমিল পাওয়া গেলে লিখিতভাবে সংশোধনের অনুরোধ করা যেতে পারে।

উপসংহার

সেপ্টেম্বর ২০২৬ পর্যন্ত কার্যকর বিধান অনুযায়ী ট্রাস্ট, ব্যক্তিসংঘ ও কোম্পানি ছাড়া অন্যান্য প্রাপকের এফডিআরসহ আমানতের সুদ বা মুনাফায় ১০% হারে উৎসে কর কাটার বিধান রয়েছে। ট্রাস্ট, ব্যক্তিসংঘ ও কোম্পানির ক্ষেত্রে হার ২০%। এই কর মূলধনের ওপর নয়, অর্জিত সুদ বা মুনাফার ওপর হিসাব করা হয়। তাই পুরোনো ১৫% হারের তথ্যের পরিবর্তে বর্তমান ধারা ১০২ অনুসরণ করা এবং ব্যাংকের উৎসে কর সনদ সংরক্ষণ করা গুরুত্বপূর্ণ। রিটার্ন দাখিলকারী করদাতার ক্ষেত্রে কাটা উৎসে কর সব পরিস্থিতিতে চূড়ান্ত ধরে না নিয়ে বর্তমান ধারা ১৬৩ অনুযায়ী প্রযোজ্য সমন্বয় বা ফেরতের বিধানও বিবেচনায় রাখতে হবে।

তথ্যসূত্র

জাতীয় রাজস্ব বোর্ডের আয়কর পরিপত্র ২০২৫-২০২৬-এ ধারা ১০২ সংশোধনের ব্যাখ্যা; বাংলাদেশ আইন অনুযায়ী আয়কর আইন, ২০২৩-এর বর্তমান ধারা ১০২; এবং অর্থ আইন, ২০২৬-এ প্রতিস্থাপিত ধারা ১৬৩-এর উৎসে কাটা অতিরিক্ত কর ফেরত ও সমন্বয় সংক্রান্ত বিধান।

Leave a Comment