আমাদের দৈনন্দিন কাজ বা গেমিংয়ের জন্য কম্পিউটার এখন অপরিহার্য। কিন্তু কিচুদিন ব্যবহারের পর উইন্ডোজ কম্পিউটার বা ল্যাপটপ ধীর গতির হয়ে যাওয়া একটি সাধারণ সমস্যা। অনেক সময় ব্যাকগ্রাউন্ডে অপ্রয়োজনীয় ফাইল জমা হওয়া বা র্যামের ওপর অতিরিক্ত চাপের কারণে পিসি হ্যাং করতে শুরু করে।
১. সিসিলিনার ( CCleaner)
উইন্ডোজ ক্লিনআপের কথা বললে সবার আগে যে নামটি আসে তা হলো CCleaner। এটি কম্পিউটারের গতি বাড়ানোর জন্য বিশ্বের অন্যতম জনপ্রিয় সফটওয়্যার।
কেন ব্যবহার করবেন: আমাদের কম্পিউটারে প্রতিদিন হাজার হাজার টেম্পোরারি (Temporary) ফাইল এবং ব্রাউজার ক্যাশ জমা হয়। CCleaner খুব সহজেই এই আবর্জনাগুলো খুঁজে বের করে পরিষ্কার করে দেয়।
প্রধান বৈশিষ্ট্য: এতে রয়েছে একটি শক্তিশালী ‘রেজিস্ট্রি ক্লিনার’, যা উইন্ডোজের পুরনো এবং অকেজো রেজিস্ট্রি ফাইলগুলো মেরামত করে সিস্টেমকে সচল রাখে। এছাড়া এটি আপনার ব্রাউজিং হিস্ট্রি ও কুকিজ ডিলিট করে অনলাইন নিরাপত্তা বজায় রাখতেও সাহায্য করে।
২. অ্যাডভান্সড সিস্টেম কেয়ার (Advanced SystemCare)
আপনি যদি ওয়ান-ক্লিক সলিউশন পছন্দ করেন, তবে IObit Advanced SystemCare আপনার জন্য সেরা পছন্দ হতে পারে। এটি শুধুমাত্র একটি ক্লিনার নয়, বরং একটি কমপ্লিট অপ্টিমাইজেশন টুল।
কেন ব্যবহার করবেন: এর AI-চালিত স্ক্যানিং সিস্টেম পিসির দুর্বলতাগুলো খুঁজে বের করে এবং এক ক্লিকেই সেগুলো ঠিক করে দেয়। এটি আপনার ইন্টারনেটের গতি বাড়াতেও সাহায্য করে।
প্রধান বৈশিষ্ট্য: এর ‘টার্বো বুস্ট’ ফিচারটি গেমারদের জন্য অত্যন্ত কার্যকর। এটি গেম খেলার সময় ব্যাকগ্রাউন্ডের অপ্রয়োজনীয় প্রোগ্রামগুলো বন্ধ করে দিয়ে প্রসেসর ও র্যামের গতি বাড়িয়ে দেয়। এছাড়া এটি হার্ডড্রাইভ ডিফ্র্যাগমেন্ট করার মাধ্যমে ফাইলের অ্যাক্সেস স্পিড বাড়িয়ে দেয়।
৩. রেজার কর্টেক্স (Razer Cortex: Game Booster)
যারা মূলত ল্যাপটপ বা পিসিতে গেমিং করেন বা ভারী সফটওয়্যার (যেমন: ভিডিও এডিটিং) ব্যবহার করেন, তাদের জন্য Razer Cortex একটি চমৎকার সফটওয়্যার।
কেন ব্যবহার করবেন: অনেক সময় আমরা দেখি ভালো কনফিগারেশন থাকা সত্ত্বেও পিসি ল্যাগ করছে। রেজার কর্টেক্স আপনার সিস্টেমের প্রতিটি মেগাবাইট র্যামকে অপ্টিমাইজ করে আপনার চলমান কাজের জন্য বরাদ্দ করে।
প্রধান বৈশিষ্ট্য: এটি উইন্ডোজের এমন কিছু লুকানো প্রসেস বন্ধ করে দেয় যা সাধারণ ক্লিনাররা করতে পারে না। এটি ব্যবহারের ফলে ফ্রেম রেট (FPS) বাড়ে এবং অ্যাপ্লিকেশন ওপেন হওয়ার সময় অনেক কমে যায়।
সফটওয়্যার ব্যবহারের পাশাপাশি কিছু বাড়তি টিপস:
সফটওয়্যার ব্যবহারের পাশাপাশি পিসির গতি বজায় রাখতে নিচের বিষয়গুলো খেয়াল রাখুন:
স্টার্টআপ অ্যাপ নিয়ন্ত্রণ: টাস্ক ম্যানেজার থেকে অপ্রয়োজনীয় স্টার্টআপ অ্যাপগুলো বন্ধ রাখুন।
উইন্ডোজ আপডেট: নিয়মিত উইন্ডোজ আপডেট দিন, এতে সিকিউরিটি ও পারফরম্যান্স প্যাচ পাওয়া যায়।
হার্ডওয়্যার আপগ্রেড: যদি আপনার পিসি অনেক পুরনো হয়, তবে HDD এর বদলে একটি SSD ব্যবহার করলে গতির পার্থক্য আপনি নিজেই বুঝতে পারবেন।
উপরে উল্লেখিত ৩টি সফটওয়্যারই ফ্রি এবং পেইড উভয় ভার্সনে পাওয়া যায়। সাধারণ ব্যবহারের জন্য ফ্রি ভার্সনগুলোই যথেষ্ট। আপনার পিসিকে ভাইরাসমুক্ত রাখতে এবং দীর্ঘস্থায়ী পারফরম্যান্স পেতে এই টুলগুলো নিয়মিত ব্যবহার করতে পারেন।