স্মার্টফোন এখন আমাদের দৈনন্দিন জীবনের অবিচ্ছেদ্য অংশ। আপনার প্রয়োজন ও বাজেট অনুযায়ী সঠিক ফোনটি বেছে নিতে এই বিষয়গুলো আপনাকে সাহায্য করবে।
১. প্রসেসর (Processor) এবং Ram
প্রসেসর: ফোনের মস্তিষ্ক হলো প্রসেসর।এটি যত শক্তিশালী হবে, আপনার ফোন তত দ্রুত কাজ করবে, অ্যাপস মসৃণ ভাবে চলবে এবং গেমিং অভিজ্ঞতা ভালো হবে। স্ন্যাপড্রাগন, এক্সিনস বা এ-সিরিজ বায়োনিক চিপসেটগুলো (অ্যাপল) জনপ্রিয়।
Ram: একসঙ্গে একাধিক কাজ (Multi- tasking) করার জন্য ram দরকার। সাধারণ ব্যবহারের জন্য৪জিবি ram থেকে ৬জিবি ram যথেষ্ট,কিন্ত গেমিং বা ভারী কাজের জন্য ৮জিবি বা তার বেশি ram উপযুক্ত।
২. ব্যাটারি (Battery) ও চার্জিং গতি (Charging Speed)
ব্যাটারির ক্ষমতা (mAh): দীর্ঘ সময় ফোন ব্যবহারের জন্য বড় ব্যাটারি জরুরি। আজকাল ৪৫০০ mAh থেকে ৬০০০ mAh ব্যাটারির ফোন বেশ জনপ্রিয়। আপনার ব্যবহারের ধরনের ওপর নির্ভর করে ব্যাটারির আকার নির্বাচন করুন।
ফাস্ট চার্জিং: ফোন দ্রুত চার্জ হওয়ার সুবিধা থাকলে আপনার মূল্যবান সময় বাঁচবে। তাই ফোন কেনার সময় এর চার্জিং গতি এবং অ্যাডাপ্টারটি বাক্সে দেওয়া আছে কিনা তা দেখে নিন।
৩. ক্যামেরা (Camera)
শুধুমাএ মেগাপিক্সেল (mp) ওপর নির্ভর না করে, ক্যামেরার সেন্সরের গুনমান, অ্যাপারচার (f নম্নর) এবং অপটিক্যাল ইমেজ স্টেবিলাইজেশন (Ois) আছে কি না তা দেখুন।
দিনের আলো ও কম আলোতে কেমন ছবি ওঠে, ফ্রন্ট ক্যামেরা বা সেলফি ক্যামেরার মান কেমন—এগুলো যাচাই করে নিন। প্রয়োজনে ফোনের রিভিউ বা নমুনা ছবি দেখে নিতে পারেন।
৪. ডিসপ্লে (Display)
প্যানেলের প্রকারভেদ: AMOLED/OLED ডিসপ্লেগুলো সাধারণত LCD ডিসপ্লের চেয়ে উজ্জ্বল, আরও ভালো কনট্রাস্ট এবং গাঢ় কালো রং প্রদর্শন করে।
রেজোলিউশন: কমপক্ষে ফুল এইচডি (Full HD / 1080p) রেজোলিউশনের ডিসপ্লে নিন যাতে ছবি ও ভিডিও পরিষ্কার দেখা যায়।
রিফ্রেশ রেট: মসৃণ স্ক্রোলিং এবং অ্যানিমেশনের জন্য ৯০ Hz বা ১২০ Hz রিফ্রেশ রেটের ডিসপ্লে বর্তমানে আদর্শ।
৫. স্টোরেজ (Storage) এবং অপারেটিং সিস্টেম (OS)
ইন্টার নাল স্টোরেজ (ROM): আপনার অ্যাপ,ছবি, ভিডিও এবং ফাইল রাখার জন্য পর্যাপ্ত স্টোরেজ দরকার।কমপক্ষে ১২৮ জিবি স্টোরেজ নেওয়া ভালো। যদি মাইক্রোএসডি কার্ড স্লট থাকে, তাহলে স্টোরেজ বাড়ানোর সুযোগ থাকে।
অপারেটিং সিস্টেম (OS): ফোনটি অ্যান্ড্রয়েডের কোন সংস্করণে চলছে এবং প্রস্তুতকারক প্রতিষ্ঠানটি কত বছর ধরে সফটওয়্যার ও সিকিউরিটি আপডেট দেবে, তা নিশ্চিত হয়ে নিন। নিয়মিত আপডেট আপনার ফোনের নিরাপত্তা ও কর্মক্ষমতা বজায় রাখতে সাহায্য করে।
এই ৫টি দিক বিবেচনা করে আপনি আপনার জন্য সবচেয়ে উপযোগী স্মার্টফোনটি বেছে নিতে পারবেন।