স্মার্টফোন আমাদের সার্বক্ষণিক সঙ্গী। কিন্তু অতিরিক্ত ব্যবহারের ফলে ফোন গরম হয়ে যাওয়া বা ওভারহিটিং বর্তমান সময়ের সবচেয়ে সাধারণ সমস্যাগুলোর একটি। অনেক সময় দেখা যায় সাধারণ ফেসবুকিং করতে গিয়েও ফোনটি আগুনের মতো গরম হয়ে উঠচে।
স্মার্টফোন কেন অতিরিক্ত গরম হয়?
স্মার্টফোনের ভেতরে পিসি বা ল্যাপটপের মতো কোনো ফ্যান থাকে না যা ভেতরের গরম বাতাস বাইরে বের করে দিতে পারে। ফোনের হার্ডওয়্যার মূলত রেডিয়েশন পদ্ধতিতে তাপ ছড়ায়। যখন প্রসেসর অনেক বেশি ডেটা প্রসেস করে, তখন এটি প্রচুর ইলেকট্রন আদান-প্রদান করে যা ঘর্ষণের মাধ্যমে তাপ তৈরি করে। এছাড়া ব্যাটারি ডিসচার্জ হওয়ার সময়ও তাপ উৎপন্ন হয়।
ফোন অতিরিক্ত গরম হওয়া কমানোর ৫টি ধাপ :
১. সিস্টেম এবং অ্যাপ ম্যানেজমেন্ট
আপনার ফোনের প্রসেসর যত কম কাজ করবে, ফোন তত কম গরম হবে।
ব্যাকগ্রাউন্ড প্রসেস: অনেক সময় আমরা খেয়াল করি না যে ডজনখানেক অ্যাপ ব্যাকগ্রাউন্ডে চলছে। এগুলো প্রসেসরের পাওয়ার ব্যবহার করতে থাকে। নিয়মিত ‘রিসেন্ট অ্যাপস’ থেকে সব অ্যাপ ক্লোজ করে দিন।
অপ্রয়োজনীয় নোটিফিকেশন: অপ্রয়োজনীয় অ্যাপের নোটিফিকেশন বন্ধ রাখুন। প্রতিবার নোটিফিকেশন আসার সময় প্রসেসর এবং ডিসপ্লে সক্রিয় হয়, যা ধীরে ধীরে ফোনকে গরম করে।
২. চার্জিং অভ্যাস পরিবর্তন করুন
ফোন গরম হওয়ার সবচেয়ে বড় কারণ হলো ভুল পদ্ধতিতে চার্জ দেওয়া।
চার্জিংয়ের সময় গেম না খেলা: অনেকে চার্জে লাগিয়ে ভারী গেম খেলেন বা মুভি দেখেন। এতে ব্যাটারি একই সাথে চার্জ গ্রহণ করে এবং প্রসেসরকে শক্তি সরবরাহ করে, ফলে ফোন অতিরিক্ত গরম হয়ে যায় যা ব্যাটারির দীর্ঘমেয়াদী ক্ষতি করে।
কেস বা কাভার খুলে রাখা: চার্জ দেওয়ার সময় ফোনের ব্যাক কাভার খুলে রাখা উচিত। এতে প্রসেসর ও ব্যাটারি থেকে নির্গত তাপ সহজে বাইরে বের হতে পারে।
৩. নেটওয়ার্ক ও কানেক্টিভিটি নিয়ন্ত্রণ
দুর্বল নেটওয়ার্ক সিগন্যাল ফোন গরম হওয়ার একটি অন্যতম লুকানো কারণ।
সিগন্যাল সার্চিং: যখন নেটওয়ার্ক সিগন্যাল দুর্বল থাকে, তখন ফোন বারবার টাওয়ারের সাথে সংযোগ স্থাপনের চেষ্টা করে। এতে মোডেমের ওপর চাপ পড়ে এবং ফোন গরম হয়। দুর্বল সিগন্যালে থাকা অবস্থায় ভারী ইন্টারনেট ব্যবহার থেকে বিরত থাকুন।
অব্যবহৃত ফিচার: জিপিএস (লোকেশন), ব্লুটুথ এবং ওয়াইফাই কাজ শেষ হওয়ার পর বন্ধ করে দিন। বিশেষ করে জিপিএস ফোনকে খুব দ্রুত গরম করে ফেলে।
৪. হার্ডওয়্যার ও সফটওয়্যারের যত্ন
- অরিজিনাল এক্সেসরিজ: সস্তা চার্জার বা কেবল ব্যবহার করলে ভোল্টেজের উঠানামা হয়, যা ব্যাটারিকে গরম করে। সর্বদা ব্র্যান্ডের অরিজিনাল চার্জার ব্যবহারের চেষ্টা করুন।
- সফটওয়্যার আপডেট: নিয়মিত সিস্টেম আপডেট দিলে ফোনের বাগ (Bug) ফিক্স হয় এবং ব্যাটারি অপ্টিমাইজেশন উন্নত হয়। এতে ফোনের প্রসেসিং ক্ষমতা বাড়ে এবং তাপমাত্রা নিয়ন্ত্রণে থাকে।
৫. পরিবেশগত সতর্কতা
স্মার্টফোন সরাসরি সূর্যের আলোতে দীর্ঘক্ষণ রাখবেন না। বিশেষ করে রোদেলা দিনে গাড়ির ড্যাশবোর্ড বা জানালার পাশে ফোন রাখা খুব বিপজ্জনক। বাইরের তাপমাত্রা যদি বেশি হয়, তবে ফোন ব্যবহার সীমিত রাখুন।
ফোন খুব বেশি গরম হয়ে গেলে তাৎক্ষণিক করণীয়:
১. দ্রুত ফোনের সব কানেক্টিভিটি (Wi-Fi, Mobile Data) বন্ধ করে দিন।
২. ফোনের ব্যাক কাভার বা কেসিং খুলে ফেলুন।
৩. কিছুক্ষণ ‘এয়ারপ্লেন মোড’ চালু করে রাখুন।
৪. সরাসরি ফ্যানের বাতাসের নিচে ফোনটি রাখুন। (কখনই ফ্রিজে ফোন রাখবেন না, এতে ভেতরে জলীয় বাষ্প জমে ফোন নষ্ট হতে পারে)।
স্মার্টফোন গরম হওয়া একটি সাধারণ বিষয় হলেও অতিরিক্ত গরম হওয়া ফোন ও ব্যবহারকারী উভয়ের জন্যই ঝুঁকিপূর্ণ। আপনার ব্যবহারের ধরণে সামান্য কিছু পরিবর্তন আনলেই এই সমস্যা থেকে মুক্তি পাওয়া সম্ভব। ফোনকে সচল এবং দীর্ঘস্থায়ী রাখতে নিয়মিত এর যত্ন নিন।