আপনার ফোনে যদি নিচের পরিবর্তন গুলো লক্ষ্য করেন, তবে সচেতন হওয়া জরুরি:
ব্যাটারি দ্রুত শেষ হওয়া: কোনো কারণ ছাড়াই যদি ফোনের ব্যাটারি স্বাভাবিকের চেয়ে অনেক দ্রুত শেষ হয়ে যায়, তবে বুঝে নিতে হবে ব্যাকগ্রাউন্ডে কোনো ম্যালওয়্যার বা স্পাইওয়্যার কাজ করছে।
ফোন অতিরিক্ত গরম হওয়া: গেম খেলা বা ভারী কাজ করা ছাড়াও যদি ফোন সবসময় গরম থাকে, তবে এটি হ্যাকিংয়ের লক্ষণ হতে পারে।
ডেটা খরচ বেড়ে যাওয়া: আপনার অজান্তেই যদি ফোনের ইন্টারনেট ডেটা দ্রুত শেষ হয়ে যায়, তবে বুঝবেন হ্যাকাররা আপনার তথ্য সার্ভারে পাঠানোর জন্য আপনার ডেটা ব্যবহার করছে।
অপরিচিত অ্যাপের উপস্থিতি: অ্যাপ মেনুতে এমন কোনো অ্যাপ দেখা যা আপনি নিজে ইনস্টল করেননি।
অস্বাভাবিক পপ-আপ মেসেজ: ফোনে বারবার বিরক্তিকর বিজ্ঞাপন বা অদ্ভুত সব পপ-আপ মেসেজ আসা।
অ্যাকাউন্টে অস্বাভাবিক কর্মকাণ্ড: আপনার সোশ্যাল মিডিয়া বা ইমেল অ্যাকাউন্টে এমন সব পোস্ট বা মেসেজ দেখা যা আপনি করেননি।
কল বা মেসেজে অসঙ্গতি: আপনার কন্টাক্ট লিস্টে থাকা ব্যক্তিরা যদি বলে যে আপনি তাদের অদ্ভুত লিঙ্ক বা মেসেজ পাঠিয়েছেন (যা আপনি পাঠাননি)।
ফোন হ্যাক হলে আপনার করণীয় (প্রতিকার)
যদি নিশ্চিত হন যে ফোনটি হ্যাক হয়েছে, তবে আতঙ্কিত না হয়ে দ্রুত নিচের পদক্ষেপগুলো নিন:
১. ইন্টারনেট সংযোগ বিচ্ছিন্ন করুন
সবার আগে ফোনের Wi-Fi এবং মোবাইল ডেটা বন্ধ করুন। এতে হ্যাকার আপনার ফোন থেকে নতুন কোনো তথ্য চুরি করতে পারবে না।
২. সন্দেহজনক অ্যাপ মুছে ফেলুন
সেটিংস থেকে ‘Apps’ লিস্টে যান। যেসব অ্যাপ আপনি চেনেন না বা অপ্রয়োজনীয় মনে হয়, সেগুলো সাথে সাথে Uninstall করে দিন।
৩. পাসওয়ার্ড পরিবর্তন করুন
আপনার গুরুত্বপূর্ণ অ্যাকাউন্টগুলোর (যেমন: জিমেইল, ফেসবুক, ব্যাংক অ্যাকাউন্ট) পাসওয়ার্ড অন্য কোনো নিরাপদ ডিভাইস থেকে পরিবর্তন করুন। অবশ্যই Two-Factor Authentication (2FA) চালু করবেন।
৪. অ্যান্টি-ভাইরাস স্ক্যান
একটি বিশ্বস্ত মোবাইল সিকিউরিটি বা অ্যান্টি-ভাইরাস অ্যাপ (যেমন: Avast, Bitdefender, বা Kaspersky) দিয়ে পুরো ফোন স্ক্যান করুন।
৫. ফ্যাক্টরি রিসেট (চূড়ান্ত ধাপ)
যদি অন্য কোনো উপায়ে সমস্যার সমাধান না হয়, তবে ফোনের সব ডেটা ব্যাকআপ নিয়ে ‘Factory Reset’ দিন। এতে ফোনটি একদম নতুনের মতো হয়ে যাবে এবং সব ক্ষতিকর সফটওয়্যার মুছে যাবে।
ভবিষ্যতে সুরক্ষিত থাকার টিপস
অপরিচিত কোনো লিঙ্ক বা ইমেল অ্যাটাচমেন্টে ক্লিক করবেন না।
সবসময় অফিসিয়াল অ্যাপ স্টোর (Google Play Store বা Apple App Store) থেকে অ্যাপ ডাউনলোড করুন।
পাবলিক Wi-Fi ব্যবহার করে লেনদেন বা লগইন করা থেকে বিরত থাকুন।
ফোনের সফটওয়্যার সবসময় আপ-টু-ডেট রাখুন।