অনলাইনে কেনাকাটা করার সময় প্রতারণা থেকে বাঁচার উপায়

বর্তমান ডিজিটাল যুগে কেনাকাটার ধরণ বদলে গেচে। এখন আমরা এক ক্লিকেই জামাকাপড় থেকে শুরু করে নিত্যপ্রয়োজনীয় সব পন্য ঘরে বসেই পেয়ে যাই। কিন্তু এই সুবিধার আড়ালে ওত পেতে থাকে একদল প্রতারক চক্র। প্রতিদিন শত শত মানুষ অনলাইনে অর্ডার দিয়ে ভুল পন্য পাওয়া বা টাকা দিয়ে পন্য না পাওয়ার মতো সমস্যার সম্মুখীন হচ্ছেন। তাই নিরাপদে কেনাকাটা, করতে হলে আপনাকে হতে হবে সচেতন। নিচে অনলাইনে প্রতারণা থেকে বাঁচার ৭টি কার্যকরী উপায় বিস্তারিত আলোচনা করা হলো।

১. বিশ্বস্ত ও নামী প্ল্যাটফর্ম নির্বাচন করুন

অনলাইনে কেনাকাটার ক্ষেত্রে প্রথম শর্ত হলো সঠিক ওয়েবসাইট বা পেজ বেছে নেওয়া। নামকরা ই-কমার্স সাইটগুলো সাধারণত তাদের গ্রাহকসেবার ব্যাপারে সচেতন থাকে। অপরিচিত কোনো ওয়েবসাইট থেকে কেনাকাটা করার আগে সেটির ডোমেইন নেম এবং ইউআরএল (URL) চেক করুন। অনেক সময় প্রতারকরা বড় ব্র্যান্ডের নামের বানান সামান্য পরিবর্তন করে নকল ওয়েবসাইট তৈরি করে।

২. অবিশ্বাস্য অফার ও অতিরিক্ত ছাড় থেকে সাবধান

কথায় আছে, “সস্তার তিন অবস্থা”। প্রতারকরা গ্রাহকদের আকৃষ্ট করতে বাজারমূল্যের চেয়ে অনেক কম দামে পণ্য অফার করে। ধরুন, বাজারে যে ফোনের দাম ৫০ হাজার টাকা, সেটি যদি কোনো পেজ ২০ হাজার টাকায় অফার করে, তবে সেখানে প্রতারণার সম্ভাবনা ৯৯%। এই ধরনের ‘ডিল’ বা ‘অফার’ দেখলে হুট করে অর্ডার না দিয়ে আগে যাচাই করুন।

৩. কাস্টমার রিভিউ ও রেটিং যাচাই

পণ্য অর্ডার করার আগে ওই পেজ বা ওয়েবসাইটের কাস্টমার রিভিউ সেকশনটি ভালো করে দেখুন। বিশেষ করে যারা ছবিসহ রিভিউ দিয়েছেন, তাদের মতামত গুরুত্ব দিন। অনেক সময় পেজ অ্যাডমিনরা ভুয়া রিভিউ তৈরি করে রাখে, তাই ব্যাড রিভিউ বা নেতিবাচক মন্তব্যগুলো পড়ার চেষ্টা করুন। যদি দেখেন অনেক মানুষ একই ধরণের অভিযোগ করছে, তবে সেখান থেকে পণ্য না কেনাই বুদ্ধিমানের কাজ।

৪. ক্যাশ অন ডেলিভারি ( Cash on Delivery) পদ্ধতি বেছে নিন

অপরিচিত বা নতুন কোনো শপ থেকে কেনাকাটার সময় সবসময় ‘ক্যাশ অন ডেলিভারি’ অপশনটি বেছে নিন। পণ্য হাতে পাওয়ার পর দেখে শুনে টাকা পরিশোধ করা সবচেয়ে নিরাপদ। বিশেষ করে বড় অংকের টাকা কখনোই অগ্রিম বা অ্যাডভান্স পেমেন্ট করবেন না। যদি কোনো বিক্রেতা আপনাকে জোর করে অগ্রিম টাকা পাঠাতে বলে, তবে সেটি এড়িয়ে চলাই ভালো।

৫. ফেসবুক পেজের স্বচ্ছতা পরীক্ষা করুন

ফেসবুকে কেনাকাটা করার আগে ওই পেজের ‘Page Transparency’ অপশনটি চেক করুন। পেজটি কত সালে তৈরি হয়েছে এবং এর আগে কয়বার নাম পরিবর্তন করা হয়েছে তা দেখুন। যে পেজগুলো ঘনঘন নাম বদলায়, সেগুলো সাধারণত প্রতারক হয়ে থাকে। এছাড়া পেজের ফলোয়ার সংখ্যা এবং পোস্টের এঙ্গেজমেন্ট (লাইক, কমেন্ট) দেখেও সত্যতা যাচাই করা যায়।

৬. ওয়েবসাইটের নিরাপত্তা নিশ্চিত করুন

কোনো ওয়েবসাইটে আপনার ক্রেডিট কার্ড বা ব্যক্তিগত তথ্য দেওয়ার আগে ব্রাউজারের অ্যাড্রেস বারে নজর দিন। যদি দেখেন সেখানে একটি তালা (Padlock) চিহ্ন আছে এবং লিংকটি https:// দিয়ে শুরু হয়েছে, তবে সেটি নিরাপদ। শুধুমাত্র http:// (s ছাড়া) যুক্ত সাইটে লেনদেন করা থেকে বিরত থাকুন, কারণ এগুলো হ্যাক হওয়ার সম্ভাবনা থাকে।

​৭. আনবক্সিং ভিডিও এবং রসিদ সংরক্ষণ

​পণ্যটি হাতে পাওয়ার পর সেটি খোলার সময় একটি ভিডিও করে রাখুন। যদি ভেতরে ভুল পণ্য বা ভাঙা কিছু থাকে, তবে এই ভিডিওটি আপনার স্ট্রং প্রমাণ হিসেবে কাজ করবে। এছাড়া অর্ডারের কনফার্মেশন মেসেজ, ট্রানজেকশন আইডি এবং ইনভয়েসের স্ক্রিনশট বা কপি সবসময় নিজের কাছে সেভ করে রাখুন।

​প্রতারিত হলে করণীয় কী

​যদি কোনো কারণে আপনি অনলাইনে প্রতারণার শিকার হন, তবে দমে যাবেন না। বাংলাদেশে এই সংক্রান্ত কঠোর আইন রয়েছে। আপনি দ্রুত নিকটস্থ থানায় যোগাযোগ করতে পারেন অথবা ‘জাতীয় ভোক্তা-অধিকার সংরক্ষণ অধিদপ্তর’ (DNCRP) এর হটলাইন নম্বর ১৬১২১-এ কল করে অভিযোগ জানাতে পারেন।

একটু সতর্কতা এবং ধৈর্য আপনার কষ্টার্জিত টাকা বাঁচাতে পারে। অনলাইনে কেনাকাটা করার সময় আবেগ দিয়ে নয়, বরং যুক্তি দিয়ে বিচার করুন। আপনি যত বেশি সচেতন হবেন, প্রতারক চক্র ততটাই ব্যর্থ হবে।

Leave a Comment