কম্পিউটার বা ল্যাপটপের গতি বাড়ানোর সহজ কিছু টিপস

একটি কম্পিউটার যখন নতুন কেনা হয়, তখন সেটি খুব দ্রুত কাজ করে। কিন্তু সময়ের সাথে সাথে বিভিন্ন ফাইল, সফটওয়্যার এবং সেটিংসের জটিলতায় পিসি বা ল্যাপটপ ধীরগতির হয়ে যায়। অনেক সময় আমরা মনে করও ডিভাইসটি পুরানো হয়ে গেচে, তাই হয়তো নতুন কেনা দরকার। কিন্তু আসলে কিচু সহজ টিপস ফলো করলেই আপনার পুরানো কম্পিউটার বা ল্যাপটপকে নতুনের মতো দ্রুতগতির করে তোলা সম্ভব।

১. স্টার্টআপ অ্যাপস বন্ধ রাখা ( Disable Startup Apps)

কম্পিউটার চালু হওয়ার সাথে সাথে কিছু সফটওয়্যার অটোমেটিক ব্যাকগ্রাউন্ডে চলতে শুরু করে। যেমন- স্কাইপ, কর্টানা বা বিভিন্ন আপডেট ম্যানেজার। এগুলো প্রসেসরের গতি কমিয়ে দেয়।
​কিভাবে করবেন: কিবোর্ড থেকে Ctrl + Shift + Esc চেপে টাস্ক ম্যানেজার ওপেন করুন। ‘Startup’ ট্যাবে গিয়ে দেখুন কোন অ্যাপগুলো ‘Enabled’ আছে। অপ্রয়োজনীয় অ্যাপগুলোর ওপর রাইট ক্লিক করে ‘Disable’ করে দিন।

২. অপ্রয়োজনীয় টেম্পোরারি ফাইল পরিষ্কার করা ( Clean temp files)

​উইন্ডোজ ব্যবহারের সময় সিস্টেমের ভেতর প্রচুর অস্থায়ী বা টেম্পোরারি ফাইল জমা হয়। এগুলো হার্ডডিস্কের জায়গা দখল করে সিস্টেমকে ধীর করে ফেলে।
​কিভাবে করবেন: Windows + R প্রেস করে রান কমান্ড চালু করুন। এরপর বক্সে %temp% লিখে এন্টার দিন। সব ফাইল সিলেক্ট করে ডিলিট করে দিন। একইভাবে temp এবং prefetch লিখেও ফাইলগুলো পরিষ্কার করুন।

​৩. রিসাইকেল বিন এবং ড্রাইভ ক্লিনিং (Disk Cleanup)

​অনেক সময় আমরা ফাইল ডিলিট করলেও তা রিসাইকেল বিনে জমা হয়ে থাকে, যা সিস্টেমের মেমোরি ব্যবহার করে।
​কিভাবে করবেন: নিয়মিত রিসাইকেল বিন খালি করুন। এছাড়া ‘Disk Cleanup’ টুলটি ব্যবহার করে সি-ড্রাইভে (C: Drive) থাকা অপ্রয়োজনীয় সিস্টেম ফাইলগুলো নিয়মিত ডিলিট করুন।

​৪. অ্যানিমেশন ও ভিজ্যুয়াল ইফেক্ট কমানো

​উইন্ডোজের উইন্ডো ওপেন বা ক্লোজ হওয়ার সময় যে অ্যানিমেশন দেখা যায়, তা ল্যাপটপের ব্যাটারি এবং প্রসেসর উভয়ই খরচ করে।
​কিভাবে করবেন: ‘This PC’-তে রাইট ক্লিক করে Properties > Advanced System Settings > Performance Settings-এ যান। সেখান থেকে ‘Adjust for best performance’ অপশনটি সিলেক্ট করুন। এতে ইন্টারফেস কিছুটা সাধারণ মনে হলেও গতি অনেক বেড়ে যাবে।

​৫. ব্রাউজার এক্সটেনশন এবং ক্যাশ ম্যানেজমেন্ট

​আমরা বেশিরভাগ সময় ব্রাউজারে ব্যয় করি। ব্রাউজারে যদি অনেক বেশি এক্সটেনশন বা প্লাগ-ইন থাকে, তবে তা র‍্যামের ওপর চাপ ফেলে।
​কিভাবে করবেন: গুগল ক্রোম বা মাইক্রোসফট এজ ব্রাউজারের অপ্রয়োজনীয় এক্সটেনশনগুলো রিমুভ করুন এবং নিয়মিত ব্রাউজিং হিস্টোরি ও ক্যাশ ক্লিয়ার করুন।

​৬. অপ্রয়োজনীয় সফটওয়্যার আনইনস্টল করা

​আপনার পিসিতে এমন অনেক সফটওয়্যার থাকতে পারে যা আপনি আর ব্যবহার করেন না। এগুলো হার্ডডিস্কের জায়গা এবং ব্যাকগ্রাউন্ড প্রসেস নষ্ট করে।
​কিভাবে করবেন: Control Panel থেকে ‘Programs and Features’-এ গিয়ে অব্যবহৃত সব সফটওয়্যার আনইনস্টল করে দিন।

​৭. ম্যালওয়্যার এবং ভাইরাস স্ক্যান

​অনেক সময় ক্ষতিকারক ভাইরাস বা ম্যালওয়্যারের কারণে কম্পিউটার অস্বাভাবিক ধীর হয়ে যায়।
​কিভাবে করবেন: উইন্ডোজের নিজস্ব ‘Windows Security’ বা ভালো কোনো অ্যান্টিভাইরাস দিয়ে নিয়মিত ফুল সিস্টেম স্ক্যান করুন।

​৮. হার্ডডিস্ক ডিফ্র্যাগমেন্ট করা (HDD ব্যবহারকারীদের জন্য)

​আপনি যদি মেকানিক্যাল হার্ডডিস্ক (HDD) ব্যবহার করেন, তবে ফাইলগুলো ডিস্কের বিভিন্ন জায়গায় ছড়িয়ে থাকে। ডিফ্র্যাগমেন্ট করলে সেগুলো গুছিয়ে আসে এবং পিসি দ্রুত ফাইল খুঁজে পায়। (দ্রষ্টব্য: আপনার যদি SSD থাকে, তবে এটি করার প্রয়োজন নেই)।

​৯. ভার্চুয়াল মেমোরি বৃদ্ধি করা

​র‍্যামের পরিমাণ কম থাকলে উইন্ডোজ ভার্চুয়াল মেমোরি ব্যবহার করে কাজ চালানোর চেষ্টা করে। এটি ম্যানুয়ালি বাড়িয়ে দিলে পারফরম্যান্স কিছুটা উন্নত হয়।
​কিভাবে করবেন: Advanced System Settings-এর Performance ট্যাব থেকে ভার্চুয়াল মেমোরির পরিমাণ বাড়িয়ে দিতে পারেন।

​১০. হার্ডওয়্যার আপগ্রেড (SSD ও RAM)

​সফটওয়্যার ক্লিনিংয়ের পরও যদি গতি আশানুরূপ না হয়, তবে হার্ডওয়্যার পরিবর্তনের চিন্তা করতে পারেন।
​SSD ইনস্টল: সাধারণ HDD-র বদলে একটি SATA বা NVMe SSD লাগালে আপনার ল্যাপটপের গতি ৫ থেকে ১০ গুণ বেড়ে যাবে। এটি বর্তমানে পিসি ফাস্ট করার সবচেয়ে কার্যকরী উপায়।

​RAM বাড়ানো: অন্তত ৮ জিবি র‍্যাম থাকলে আধুনিক সফটওয়্যারগুলো অনায়াসেই চালানো সম্ভব।

কম্পিউটার বা ল্যাপটপের গতি মূলত নির্ভর করে আপনি সিস্টেমটিকে কতটা পরিচ্ছন্ন রাখছেন তার ওপর। নিয়মিত টেম্প ফাইল ডিলিট করা, স্টার্টআপ অ্যাপ নিয়ন্ত্রণ করা এবং অন্তত সপ্তাহে একবার পিসি রিস্টার্ট দেওয়ার অভ্যাস আপনার ডিভাইসটিকে দীর্ঘ সময় সচল ও দ্রুত রাখবে। যদি বাজেট থাকে, তবে একটি SSD লাগিয়ে নেওয়া হবে আপনার সেরা বিনিয়োগ।

Leave a Comment