ব্যাংকে নির্দিষ্ট সময়ের জন্য টাকা রেখে তুলনামূলক বেশি সুদ পেতে চাইলে এফডিআর বাংলাদেশের অনেক সঞ্চয়কারীর পরিচিত পছন্দ। কিন্তু “কোন ব্যাংকে এফডিআর এর সুদ সবচেয়ে বেশি” প্রশ্নের উত্তর শুধু একটি ব্যাংকের নাম বললেই সম্পূর্ণ হয় না। একই ব্যাংকে তিন মাস, ছয় মাস, এক বছর বা তার বেশি মেয়াদে হার আলাদা হতে পারে। টাকার অঙ্ক, গ্রাহকের ধরন ও বিশেষ মেয়াদি পণ্যের কারণেও ঘোষিত হার বদলে যায়।
সেপ্টেম্বর ২০২৬ পর্যন্ত প্রকাশিত তথ্য মিলিয়ে দেখা যায়, বাংলাদেশ ব্যাংকের সর্বশেষ বিস্তৃত ব্যাংকভিত্তিক তুলনায় জুলাই ২০২৬ মাসে এসবিএসি ব্যাংকের মেয়াদি আমানতের ঘোষিত হার নির্দিষ্ট মেয়াদে সর্বোচ্চ ১২.৫০ শতাংশ পর্যন্ত ছিল। তবে এসবিএসি ব্যাংকের বর্তমানে প্রকাশিত নিজস্ব এফডিআর পাতায় সর্বোচ্চ ১১.৭৫ শতাংশ পর্যন্ত হার দেখানো হচ্ছে। তাই ১২.৫০ শতাংশকে জুলাই ২০২৬-এর ঘোষিত হারের সর্বোচ্চ সীমা হিসেবে দেখা উচিত, বর্তমান সব গ্রাহকের জন্য নিশ্চিত হার হিসেবে নয়। এফডিআর খোলার আগে সংশ্লিষ্ট ব্যাংকের সর্বশেষ হারের তালিকা, কর কাটার পর প্রকৃত আয় এবং আগাম ভাঙানোর শর্ত যাচাই করা প্রয়োজন।
- তথ্যসংক্রান্ত নোট: এই নিবন্ধটি সাধারণ তথ্যভিত্তিক তুলনার জন্য তৈরি। ব্যাংকের সুদের হার যেকোনো সময় পরিবর্তিত হতে পারে, তাই আমানত খোলার দিনের কার্যকর হার সংশ্লিষ্ট ব্যাংক থেকে নিশ্চিত করুন।
২০২৬ সালে কোন ব্যাংকে এফডিআর এর সুদ সবচেয়ে বেশি?
বাংলাদেশ ব্যাংকের জুলাই ২০২৬-এর ব্যাংকভিত্তিক ঘোষিত সুদের হার অনুযায়ী এসবিএসি ব্যাংকের মেয়াদি আমানতে তিন মাস থেকে ছয় মাসের কম মেয়াদে সর্বোচ্চ ১২.৫০ শতাংশ, ছয় মাস থেকে এক বছরের কম মেয়াদে সর্বোচ্চ ১২.২৫ শতাংশ এবং এক বছর থেকে দুই বছরের কমসহ কয়েকটি মেয়াদে সর্বোচ্চ ১২.৫০ শতাংশ পর্যন্ত হার দেখা যায়। তবে এসবিএসি ব্যাংকের বর্তমানে প্রকাশিত নিজস্ব এফডিআর পাতায় সর্বোচ্চ ১১.৭৫ শতাংশ পর্যন্ত হার দেখানো হচ্ছে। ফলে ১২.৫০ শতাংশকে জুলাই ২০২৬-এর ঘোষিত সর্বোচ্চ সীমা হিসেবে উল্লেখ করাই বেশি নির্ভুল। টাকা রাখার সময় আপনার আমানতের অঙ্ক ও মেয়াদের জন্য কার্যকর হার ব্যাংক থেকে নিশ্চিত করুন।
নির্বাচিত ব্যাংকের যাচাই করা এফডিআর হার ও তথ্যের তারিখ
ব্যাংকগুলোর হার তুলনা করার সময় তথ্যের তারিখ ও আমানতের ধরন একসঙ্গে দেখা জরুরি। বাংলাদেশ ব্যাংকের ব্যাংকভিত্তিক তথ্য একটি নির্দিষ্ট মাসের ঘোষিত হারের তুলনা দেয়, আর সংশ্লিষ্ট ব্যাংকের নিজস্ব পাতায় পরবর্তী সময়ের নতুন হার প্রকাশিত হতে পারে। নিচের সারণিতে তাই হারের পাশাপাশি তথ্যের সময় এবং পণ্যের ধরনও উল্লেখ করা হয়েছে।
| ব্যাংক | যাচাই করা হার | মেয়াদ বা ধরন | তথ্যের সময় |
|---|---|---|---|
| এসবিএসি ব্যাংক | সর্বোচ্চ ১২.৫০% | নির্দিষ্ট এফডিআর মেয়াদে | বাংলাদেশ ব্যাংক, জুলাই ২০২৬ |
| এবি ব্যাংক | ১২.০০% | ৩ মাস, ৬ মাস, ১ বছর ও ২ বছর | নিজস্ব প্রকাশিত হার ও জুলাই ২০২৬ তুলনা |
| সিটিজেন্স ব্যাংক | ১১.০০% পর্যন্ত সাধারণ এফডিআর; ৪০০ দিনে ১১.২৫% | ১ বছর বা তার বেশি এবং বিশেষ দিনভিত্তিক এফডিআর | ১ জুলাই ২০২৬ থেকে কার্যকর |
| ইউসিবি | ১০.২৫% পর্যন্ত | ১ থেকে ৩ বছরের নির্দিষ্ট আয়ভিত্তিক এফডিআর | বর্তমান প্রকাশিত পণ্যতথ্য |
| উত্তরা ব্যাংক | সাধারণ এফডিআরে সর্বোচ্চ ৯.০০% | ১ থেকে ৫ বছর | ৯ আগস্ট ২০২৬ |
| ব্যাংক এশিয়া | সাধারণ ব্যক্তিগত এফডিআরে সর্বোচ্চ ৮.৫০% | ৬ মাস | ৬ সেপ্টেম্বর ২০২৬ |
সাধারণ এফডিআর, বিশেষ মেয়াদি আমানত এবং নির্দিষ্ট গ্রাহকের জন্য তৈরি আমানত পণ্যের হার সরাসরি একইভাবে তুলনা করা ঠিক নয়। মেয়াদ, ন্যূনতম আমানত, সুদ দেওয়ার সময়, আগাম ভাঙানোর নিয়ম এবং গ্রাহকের ধরন আলাদা হলে একই শতাংশের হার থেকেও প্রকৃত প্রাপ্তি ভিন্ন হতে পারে। তাই সারণিটিকে সরাসরি ব্যাংকের মান নির্ধারণের তালিকা হিসেবে না দেখে প্রকাশিত হারের তুলনা হিসেবে ব্যবহার করুন।
শুধু সর্বোচ্চ সুদের হার দেখে ব্যাংক বাছাই করা কেন ঠিক নয়
উচ্চ সুদের হার গুরুত্বপূর্ণ হলেও ব্যাংক নির্বাচন করার সময় প্রতিষ্ঠানের আর্থিক অবস্থা, নিয়ন্ত্রক তথ্য, আমানতের শর্ত এবং আপনার অর্থ কত দিন আটকে থাকবে সেগুলোও বিবেচনা করা উচিত। আমানত সুরক্ষা আইন, ২০২৬ অনুযায়ী সুরক্ষিত আমানতের সর্বোচ্চ সীমা এক লাখ টাকা থেকে বাড়িয়ে প্রতি আমানতকারী প্রতি প্রতিষ্ঠানে দুই লাখ টাকা করা হয়েছে। তাই বড় অঙ্কের আমানতের ক্ষেত্রে শুধু সুদের হার নয়, অর্থ রাখার ঝুঁকি ও প্রয়োজনের সময় টাকা পাওয়ার বিষয়টিও গুরুত্ব দিয়ে দেখা উচিত।
কর ও আবগারি শুল্ক বাদ দিলে প্রকৃত আয় কত?
এফডিআরের ঘোষিত সুদের হার থেকে পাওয়া মোট সুদই আপনার হাতে থাকা চূড়ান্ত আয় নয়। আয়কর আইন, ২০২৩-এর ১০২ ধারা অনুযায়ী সাধারণ ব্যক্তির আমানতের সুদ বা মুনাফা থেকে সাধারণভাবে ১০ শতাংশ উৎসে কর কাটা হয়। উদাহরণ হিসেবে, এক লাখ টাকা এক বছরের জন্য ১২.৫০ শতাংশ হারে রাখা হলে মোট সুদ হবে ১২,৫০০ টাকা। সেই সুদের ওপর ১০ শতাংশ উৎসে কর হিসেবে ১,২৫০ টাকা কাটা হলে করের পর সুদ থাকবে প্রায় ১১,২৫০ টাকা, অন্য কোনো প্রযোজ্য শুল্ক বা চার্জের আগে।
এ ছাড়া ব্যাংক হিসাবের ক্ষেত্রে প্রযোজ্য আবগারি শুল্কও বিবেচনায় রাখতে হবে। জাতীয় রাজস্ব বোর্ডের ২০২৬ সালের সংশ্লিষ্ট প্রজ্ঞাপনে ব্যাংক হিসাবের আবগারি শুল্কমুক্ত সীমা তিন লাখ টাকা থেকে বাড়িয়ে চার লাখ টাকা করা হয়েছে এবং নতুন সীমা ১ জুলাই ২০২৬ থেকে কার্যকর হয়েছে। এর বেশি স্থিতির ক্ষেত্রে প্রযোজ্য স্তর অনুযায়ী আবগারি শুল্ক থাকতে পারে। তাই এফডিআর করার আগে মেয়াদ শেষে মূলধন, সুদ, উৎসে কর এবং অন্যান্য প্রযোজ্য কর্তনের পর মোট কত টাকা পাওয়া যাবে তা ব্যাংক থেকে জেনে নেওয়া ভালো।
কোন মেয়াদের এফডিআর বেছে নিলে সুবিধা বেশি?
মেয়াদ নির্বাচন করুন আপনার টাকার প্রয়োজন অনুযায়ী। সামনে ছয় মাসের মধ্যে বড় খরচ থাকলে এক বা দুই বছরের এফডিআরে বেশি হার পেলেও সেটি সুবিধাজনক নাও হতে পারে। ব্যবহারিকভাবে মোট সঞ্চয়কে তিন মাস, ছয় মাস ও এক বছরের মতো কয়েকটি মেয়াদে ভাগ করা যায়। এতে নির্দিষ্ট বিরতিতে একটি আমানত পরিপক্ব হয় এবং জরুরি প্রয়োজনে সব এফডিআর একসঙ্গে ভাঙতে হয় না। নতুন হার বাড়লে পরিপক্ব অংশ নতুন হারে রাখার সুযোগও থাকে।
এফডিআর করার আগে কী কী লিখিতভাবে নিশ্চিত করবেন?
আপনার টাকার অঙ্ক ও মেয়াদের সঠিক বার্ষিক হার, মেয়াদ শেষে মোট প্রাপ্য টাকা, আগাম ভাঙালে প্রযোজ্য হার, স্বয়ংক্রিয় নবায়নের নিয়ম, উৎসে কর, আবগারি শুল্ক এবং অন্য কোনো চার্জ আছে কি না নিশ্চিত করুন। নমিনি, এফডিআরের বিপরীতে ঋণের সুযোগ এবং পরিপক্বতার টাকা কোন হিসাবে যাবে সেটিও পরিষ্কার রাখুন। মৌখিক কথার চেয়ে রসিদ, রেট শিট বা লিখিত শর্ত সংরক্ষণ করা ভালো।
সর্বোচ্চ হার খুঁজতে একটি বাস্তব সিদ্ধান্ত পদ্ধতি
ব্যাংকের নিজস্ব প্রকাশিত হারের তালিকা এবং বাংলাদেশ ব্যাংকের ব্যাংকভিত্তিক তথ্য পাশাপাশি দেখলে বোঝা যায়, ঘোষিত সর্বোচ্চ হার ও একজন নির্দিষ্ট গ্রাহকের জন্য কার্যকর হার সব সময় এক নয়। বাংলাদেশ ব্যাংকের জুলাই ২০২৬-এর তুলনায় এসবিএসি ব্যাংকের মেয়াদি আমানতের ঘোষিত পরিসর সর্বোচ্চ ১২.৫০ শতাংশ পর্যন্ত ছিল, যদিও ব্যাংকটির বর্তমানে প্রকাশিত নিজস্ব এফডিআর পাতায় সর্বোচ্চ ১১.৭৫ শতাংশ দেখানো হচ্ছে। এবি ব্যাংকের প্রকাশিত পাতায় তিন মাস, ছয় মাস, এক বছর ও দুই বছরের জন্য ১২ শতাংশ দেখানো আছে, তবে ওই পাতার কার্যকর তারিখ ২৪ অক্টোবর ২০২৪। তাই টাকা জমা দেওয়ার দিন সংশ্লিষ্ট ব্যাংকের বর্তমান হার ও শর্ত নিশ্চিত করাই সবচেয়ে নির্ভরযোগ্য পদ্ধতি।
এফডিআর নিয়ে ১০টি গুরুত্বপূর্ণ প্রশ্ন ও উত্তর
১. সর্বশেষ ব্যাংকভিত্তিক তুলনায় কোন ব্যাংকের এফডিআর হার সবচেয়ে বেশি ছিল?
বাংলাদেশ ব্যাংকের জুলাই ২০২৬-এর ব্যাংকভিত্তিক ঘোষিত সুদের হার অনুযায়ী এসবিএসি ব্যাংকের মেয়াদি আমানতের সর্বোচ্চ সীমা ১২.৫০ শতাংশ পর্যন্ত দেখা যায়। তবে এসবিএসি ব্যাংকের বর্তমানে প্রকাশিত নিজস্ব এফডিআর পাতায় সর্বোচ্চ ১১.৭৫ শতাংশ দেখানো হচ্ছে। তাই ১২.৫০ শতাংশকে জুলাই ২০২৬-এর তুলনামূলক তথ্যের সর্বোচ্চ সীমা হিসেবে দেখা উচিত। নতুন এফডিআর করার আগে সংশ্লিষ্ট ব্যাংকের বর্তমান কার্যকর হার নিশ্চিত করুন।
২. এবি ব্যাংকের এফডিআর সুদের হার কত?
এবি ব্যাংকের বর্তমানে প্রকাশিত এফডিআর পাতায় তিন মাস, ছয় মাস, এক বছর ও দুই বছরের মেয়াদি আমানতের জন্য ১২ শতাংশ হার দেখানো আছে। তবে ওই পাতায় হারের কার্যকর তারিখ হিসেবে ২৪ অক্টোবর ২০২৪ উল্লেখ রয়েছে। তাই এটি ব্যাংকের ওয়েবসাইটে বর্তমানে প্রদর্শিত তথ্য হলেও নতুন এফডিআর করার আগে শাখা বা ব্যাংকের অনুমোদিত সেবা মাধ্যম থেকে বর্তমান কার্যকর হার নিশ্চিত করা উচিত।
৩. এক লাখ টাকা ১২.৫০ শতাংশ হারে এক বছর রাখলে কত সুদ পাওয়া যাবে?
সরল বার্ষিক হিসাবে সুদ হবে ১২,৫০০ টাকা। সাধারণ ব্যক্তির ক্ষেত্রে ১০ শতাংশ উৎসে কর কাটলে সুদ থাকে প্রায় ১১,২৫০ টাকা। সে হিসাবে মূলধনসহ প্রায় ১,১১,২৫০ টাকা হতে পারে, অন্য প্রযোজ্য চার্জের আগে। ব্যাংকের হিসাব পদ্ধতি অনুযায়ী চূড়ান্ত অঙ্ক সামান্য ভিন্ন হতে পারে।
৪. এফডিআর খোলার পর সুদের হার কি মেয়াদ পর্যন্ত একই থাকে?
সাধারণভাবে নির্দিষ্ট হারে খোলা মেয়াদি আমানত সেই মেয়াদের চুক্তি অনুযায়ী চলে। কিন্তু মেয়াদ শেষে স্বয়ংক্রিয় নবায়ন হলে তখনকার প্রচলিত হার প্রযোজ্য হতে পারে। তাই পুরোনো হার দেখে পরবর্তী মেয়াদের আয় ধরে না নিয়ে নবায়নের তারিখে নতুন হার পরীক্ষা করুন।
৫. মেয়াদ শেষ হওয়ার আগে এফডিআর ভাঙলে কি পুরো সুদ পাওয়া যায়?
অনেক ক্ষেত্রে পুরো চুক্তিকৃত সুদ পাওয়া যায় না। ব্যাংকভেদে সম্পন্ন সময়ের জন্য কম হার অথবা নির্দিষ্ট পরিস্থিতিতে কোনো সুদ না দেওয়ার শর্ত থাকতে পারে। জরুরি কাজে লাগতে পারে এমন সব টাকা দীর্ঘ মেয়াদে আটকে না রেখে আগাম ভাঙানোর নিয়ম আগে জেনে নিন।
৬. বেশি টাকা রাখলে কি সব ব্যাংক বেশি সুদ দেয়?
না। কিছু ব্যাংক যেকোনো অঙ্কে একই হার দেয়, আবার কিছু ব্যাংক আমানতের অঙ্ক অনুযায়ী আলাদা স্তর ব্যবহার করে। বিশেষ বড় আমানত বা নির্দিষ্ট দিনভিত্তিক পণ্যে অন্য হারও থাকতে পারে। তাই বিজ্ঞাপিত সর্বোচ্চ শতাংশ আপনার অঙ্কে প্রযোজ্য কি না নিশ্চিত করা দরকার।
৭. এফডিআরের সুদের ওপর কত কর কাটা হয়?
বর্তমান আয়কর আইনের ১০২ ধারা অনুযায়ী সাধারণ ব্যক্তির আমানতের সুদ বা মুনাফার ওপর ১০ শতাংশ উৎসে কর প্রযোজ্য। ট্রাস্ট, ব্যক্তিসংঘ বা কোম্পানির ক্ষেত্রে হার আলাদা। ব্যক্তিগত কর পরিস্থিতি বা বিশেষ অব্যাহতি থাকলে চূড়ান্ত হিসাব ভিন্ন হতে পারে।
৮. ব্যাংকের আমানত কত টাকা পর্যন্ত সুরক্ষিত?
আমানত সুরক্ষা আইন, ২০২৬ অনুযায়ী সুরক্ষিত আমানতের সর্বোচ্চ সীমা এক লাখ টাকা থেকে বাড়িয়ে প্রতি আমানতকারী প্রতি প্রতিষ্ঠানে দুই লাখ টাকা করা হয়েছে। অর্থাৎ বড় অঙ্কের পুরো আমানত দুই লাখ টাকার সীমার মধ্যে সুরক্ষিত বলে ধরে নেওয়া যাবে না। উল্লেখযোগ্য অঙ্কের টাকা রাখার ক্ষেত্রে ব্যাংকের আর্থিক অবস্থা, আমানতের শর্ত এবং নিজের অর্থের প্রয়োজনও বিবেচনা করা উচিত।
৯. তিন মাসের এফডিআর নাকি এক বছরের এফডিআর ভালো?
এটি অর্থের প্রয়োজনের সময় ও দুই মেয়াদের হারের পার্থক্যের ওপর নির্ভর করে। দ্রুত টাকা লাগতে পারে হলে ছোট মেয়াদ বেশি ব্যবহারযোগ্য। দীর্ঘ সময় টাকা লাগবে না নিশ্চিত হলে বেশি হারের দীর্ঘ মেয়াদ কার্যকর হতে পারে। কয়েকটি ভিন্ন মেয়াদে টাকা ভাগ করাও একটি ভারসাম্যপূর্ণ পদ্ধতি।
১০. এফডিআর করার আগে সর্বশেষ সুদের হার কোথা থেকে যাচাই করা উচিত?
প্রথমে ব্যাংকের সরকারি ওয়েবসাইটের আমানত রেট শিট দেখুন। এরপর শাখা বা অনুমোদিত সেবা নম্বর থেকে আপনার অঙ্ক ও মেয়াদের হার নিশ্চিত করুন। তুলনার জন্য বাংলাদেশ ব্যাংকের ব্যাংকভিত্তিক ঘোষিত হার দেখুন। এফডিআর খোলার দিন চূড়ান্ত হার যাচাই করাই সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ।
উপসংহার
বাংলাদেশ ব্যাংকের জুলাই ২০২৬-এর ব্যাংকভিত্তিক ঘোষিত হারের তুলনায় এসবিএসি ব্যাংকের মেয়াদি আমানতের সর্বোচ্চ সীমা ১২.৫০ শতাংশ পর্যন্ত দেখা গেছে। তবে ব্যাংকটির বর্তমানে প্রকাশিত নিজস্ব এফডিআর পাতায় সর্বোচ্চ ১১.৭৫ শতাংশ দেখানো হচ্ছে। এবি ব্যাংকের প্রকাশিত পাতায় কয়েকটি মেয়াদে ১২ শতাংশ হার রয়েছে, যদিও ওই পাতার কার্যকর তারিখ ২৪ অক্টোবর ২০২৪।
তাই শুধু একটি সর্বোচ্চ শতাংশ দেখে সিদ্ধান্ত না নিয়ে আমানতের মেয়াদ, করের পর প্রকৃত আয়, আগাম ভাঙানোর নিয়ম এবং আমানত সুরক্ষার বিষয়গুলো একসঙ্গে বিবেচনা করুন। টাকা জমা দেওয়ার দিন সংশ্লিষ্ট ব্যাংকের কার্যকর হার নিশ্চিত করাই সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ।
1 thought on “কোন ব্যাংকে এফডিআর এর সুদ সবচেয়ে বেশি?”