বাংলাদেশে পাসপোর্ট করতে কি কি লাগে?

বাংলাদেশে মেশিন রিডেবল পাসপোর্ট (MRP) অথবা ই-পাসপোর্ট করার জন্য কিছু নির্দিষ্ট কাগজপত্র ও প্রমাণপত্রের প্রয়োজন হয়। সর্বপ্রথম আবেদনকারীকে অনলাইনে পাসপোর্ট আবেদন ফরম পূরণ করতে হয়। এর পাশাপাশি জাতীয় পরিচয়পত্র বা জন্মনিবন্ধন সনদ অন্যতম বাধ্যতামূলক কাগজপত্র। প্রাপ্তবয়স্কদের ক্ষেত্রে জাতীয় পরিচয়পত্র এবং অপ্রাপ্তবয়স্কদের ক্ষেত্রে জন্মনিবন্ধন আবশ্যক।

এছাড়া স্থায়ী ও বর্তমান ঠিকানা প্রদর্শনের জন্য বিদ্যুতের বিল, গ্যাস বিল বা ইউনিয়ন পরিষদ/সিটি কর্পোরেশনের সনদ প্রয়োজন হতে পারে। যারা চাকরিজীবী তাদের ক্ষেত্রে অফিসিয়াল আইডি কার্ড বা নিয়োগপত্রের ফটোকপি অনেক সময় চাওয়া হয়। বিদেশে কর্মরত বা শিক্ষার উদ্দেশ্যে যাত্রার জন্য শিক্ষাগত যোগ্যতার সার্টিফিকেট কিংবা কর্মসংস্থান সম্পর্কিত নথিপত্রও প্রয়োজন হতে পারে।

বাংলাদেশে পাসপোর্ট করতে কত টাকা লাগে?

পাসপোর্ট করতে খরচ নির্ভর করে কোন ধরণের পাসপোর্ট (৫ বছর বা ১০ বছর মেয়াদী) এবং কোন ধরণের ডেলিভারি (নরমাল বা এক্সপ্রেস) নেওয়া হচ্ছে তার উপর। সাধারণত ৫ বছরের নরমাল ডেলিভারির ফি তুলনামূলক কম, আর ১০ বছরের এক্সপ্রেস ডেলিভারির ফি সবচেয়ে বেশি হয়।

২০২৫ সালে ফি কাঠামো নিম্নরূপ হতে পারে (সংশ্লিষ্ট অফিস অনুযায়ী কিছুটা তারতম্য হতে পারে):

  • ৫ বছর মেয়াদী নরমাল পাসপোর্ট: প্রায় ৩,৪৫০ টাকা

  • ৫ বছর মেয়াদী এক্সপ্রেস পাসপোর্ট: প্রায় ৬,৯০০ টাকা

  • ১০ বছর মেয়াদী নরমাল পাসপোর্ট: প্রায় ৫,৭৫০ টাকা

  • ১০ বছর মেয়াদী এক্সপ্রেস পাসপোর্ট: প্রায় ১১,৫০০ টাকা

এছাড়া জরুরি প্রয়োজনে সুপার এক্সপ্রেস সার্ভিসের মাধ্যমে আরও দ্রুত পাসপোর্ট পাওয়া যায়, যার জন্য ফি আরও বেশি হয়।

বাংলাদেশে পাসপোর্ট আবেদন ও করণীয় ধাপ

বাংলাদেশে পাসপোর্ট করার প্রক্রিয়া অনলাইনে শুরু হয়। আবেদনকারীকে প্রথমে https://www.epassport.gov.bd/ ওয়েবসাইটে গিয়ে অ্যাকাউন্ট খুলতে হবে এবং নির্দিষ্ট তথ্য দিয়ে আবেদন ফরম পূরণ করতে হবে। এরপর প্রিন্ট কপি নিয়ে নির্দিষ্ট আঞ্চলিক পাসপোর্ট অফিসে জমা দিতে হবে।

সেখানে ছবি তোলা, আঙুলের ছাপ (Biometric) এবং স্বাক্ষর সংগ্রহ করা হবে। আবেদন জমা দেওয়ার সময় সব প্রয়োজনীয় কাগজপত্র যেমন জাতীয় পরিচয়পত্র, জন্মনিবন্ধন, ঠিকানার প্রমাণপত্র, টাকার রশিদ সঙ্গে নিয়ে যেতে হয়। অফিস যাচাই-বাছাই শেষে নির্ধারিত সময়ে পাসপোর্ট প্রদান করে।

বর্তমানে ই-পাসপোর্টের কারণে প্রক্রিয়াটি আগের তুলনায় অনেক সহজ হয়েছে এবং আবেদনকারী অনলাইনে আবেদন স্ট্যাটাস ট্র্যাক করতে পারেন।

বাংলাদেশে পাসপোর্ট করতে হলে প্রয়োজনীয় কাগজপত্র, নির্ধারিত ফি এবং সঠিক প্রক্রিয়া জানা অত্যন্ত জরুরি। অনলাইনে আবেদন থেকে শুরু করে বায়োমেট্রিক সম্পন্ন করা পর্যন্ত প্রতিটি ধাপ সতর্কতার সাথে করতে হবে। সঠিক তথ্য দিলে নির্ধারিত সময়ে সহজেই পাসপোর্ট পাওয়া সম্ভব।

Leave a Comment