জন্ম নিবন্ধন দিয়ে কি ব্যাংক একাউন্ট খোলার নিয়ম

বাংলাদেশে ব্যাংক একাউন্ট খোলার জন্য জাতীয় পরিচয়পত্র (NID) অন্যতম প্রধান কাগজপত্র হিসেবে বিবেচিত হয়। তবে বয়সে যারা এখনও ১৮ বছরের কম বা যাদের এখনো জাতীয় পরিচয়পত্র হয়নি, তাদের জন্য জন্ম নিবন্ধন একটি বৈধ পরিচয়পত্র হিসেবে গ্রহণযোগ্য। বিশেষ করে অপ্রাপ্তবয়স্কদের নামে সঞ্চয় একাউন্ট (Savings Account) বা স্কুল ব্যাংকিং একাউন্ট খোলার ক্ষেত্রে জন্ম নিবন্ধন ব্যবহার করা যায়।

বাংলাদেশ ব্যাংক ইতিমধ্যেই নির্দেশনা দিয়েছে, ১৮ বছরের কম বয়সী শিক্ষার্থী কিংবা শিশুদের একাউন্ট খোলার সময় জন্ম নিবন্ধনকে প্রাথমিক পরিচয়পত্র হিসেবে গ্রহণ করতে হবে। তবে অভিভাবকের জাতীয় পরিচয়পত্র (NID) এবং ছবি অবশ্যই দিতে হবে। অর্থাৎ, জন্ম নিবন্ধন একাই যথেষ্ট নয়—এটি অভিভাবকের তথ্যের সাথে সংযুক্ত হয়ে কার্যকর হয়।

জন্ম নিবন্ধন দিয়ে ব্যাংক একাউন্ট খোলার জন্য যা যা প্রয়োজন

ব্যাংক একাউন্ট খোলার জন্য কিছু কাগজপত্র ও শর্ত পূরণ করতে হয়। জন্ম নিবন্ধন দিয়ে একাউন্ট খোলার সময় সাধারণত নিম্নলিখিত কাগজপত্র জমা দিতে হয়ঃ

  1. শিশুর জন্ম নিবন্ধন সনদপত্র (নতুন ডিজিটাল জন্ম নিবন্ধন সিস্টেম থেকে প্রাপ্ত হলে আরও ভালো)

  2. অভিভাবকের জাতীয় পরিচয়পত্র (NID)

  3. অভিভাবকের পাসপোর্ট সাইজের ছবি

  4. শিশুর সাম্প্রতিক ছবি

  5. ফরম পূরণ ও স্বাক্ষর – ব্যাংকের নির্দিষ্ট ফরম পূরণ করতে হবে

  6. প্রাথমিক জমা – ব্যাংকের নিয়ম অনুযায়ী ন্যূনতম টাকার পরিমাণ জমা দিতে হয়

উল্লেখযোগ্য বিষয় হলো, শিশু বা শিক্ষার্থীর নামে খোলা একাউন্ট সাধারণত মাইনর একাউন্ট (Minor Account) নামে পরিচিত হয়। এখানে লেনদেনের দায়িত্ব এবং তত্ত্বাবধান করবেন অভিভাবক। শিশু প্রাপ্তবয়স্ক (১৮ বছর পূর্ণ) হলে সে নিজেই একাউন্ট পরিচালনার অধিকার পাবে।

জন্ম নিবন্ধন দিয়ে ব্যাংক একাউন্ট খোলার নিয়ম ধাপে ধাপে

জন্ম নিবন্ধন ব্যবহার করে ব্যাংক একাউন্ট খোলার নিয়ম বেশ সহজ। ধাপে ধাপে প্রক্রিয়াটি নিচে তুলে ধরা হলোঃ

  1. পছন্দের ব্যাংক নির্বাচন করুন
    – বাংলাদেশে প্রায় সব বাণিজ্যিক ব্যাংকেই জন্ম নিবন্ধনের মাধ্যমে একাউন্ট খোলার সুবিধা আছে, যেমন সোনালী ব্যাংক, অগ্রণী ব্যাংক, ইসলামী ব্যাংক, ডাচ্-বাংলা ব্যাংক, ব্র্যাক ব্যাংক ইত্যাদি।

  2. শাখায় যোগাযোগ করুন
    – নিকটস্থ ব্যাংক শাখায় গিয়ে বলুন আপনি জন্ম নিবন্ধন দিয়ে একটি অপ্রাপ্তবয়স্ক বা মাইনর একাউন্ট খুলতে চান।

  3. আবেদন ফরম পূরণ
    – ব্যাংক কর্তৃপক্ষ আপনাকে একটি ফরম দেবে। সেখানে শিশুর নাম, জন্মতারিখ, অভিভাবকের তথ্য, ঠিকানা ইত্যাদি লিখতে হবে।

  4. প্রয়োজনীয় কাগজপত্র জমা দিন
    – শিশুর জন্ম নিবন্ধন সনদ, অভিভাবকের জাতীয় পরিচয়পত্র, ছবি এবং শিশুর ছবি জমা দিতে হবে।

  5. প্রাথমিক টাকা জমা দিন
    – ব্যাংক নির্ধারিত ন্যূনতম টাকা একাউন্টে জমা দিতে হবে (সাধারণত ১০০ টাকা থেকে ৫০০ টাকার মধ্যে)।

  6. একাউন্ট চালু হবে
    – ব্যাংক যাচাই শেষে আপনার নামে একাউন্ট চালু করবে এবং একটি একাউন্ট নাম্বার প্রদান করবে।

এই নিয়মে জন্ম নিবন্ধন ব্যবহার করে সহজেই একাউন্ট খোলা সম্ভব। বিশেষ করে শিক্ষার্থীদের জন্য স্কুল ব্যাংকিং একাউন্ট অত্যন্ত উপকারী, কারণ এতে সঞ্চয়ের অভ্যাস তৈরি হয় এবং ছোট থেকেই আর্থিক শৃঙ্খলা শেখা যায়।

জন্ম নিবন্ধন দিয়ে ব্যাংক একাউন্ট খোলা এখন আর কঠিন কোনো বিষয় নয়। শিশু বা অপ্রাপ্তবয়স্কদের জন্য বাংলাদেশ ব্যাংক এটি বাধ্যতামূলক করেছে যাতে ছোট থেকেই সঞ্চয়ের অভ্যাস তৈরি হয়। তবে একাউন্ট খোলার সময় অবশ্যই অভিভাবকের জাতীয় পরিচয়পত্র জমা দিতে হবে। জন্ম নিবন্ধন শুধু প্রাথমিক পরিচয় হিসেবে কাজ করে। তাই যদি আপনি আপনার সন্তানের জন্য একটি নিরাপদ ভবিষ্যৎ গড়তে চান, তাহলে আজই নিকটস্থ ব্যাংকে গিয়ে জন্ম নিবন্ধনের মাধ্যমে একটি একাউন্ট খুলে নিতে পারেন।

Leave a Comment