ড্রাইভিং লাইসেন্স করতে কত টাকা ও কি কি লাগে

বাংলাদেশে যানবাহন চালানোর জন্য ড্রাইভিং লাইসেন্স একটি বাধ্যতামূলক আইনি নথি। যারা মোটরসাইকেল, প্রাইভেট কার, বাস কিংবা ট্রাক চালাতে চান তাদের জন্য লাইসেন্স করা অপরিহার্য। ড্রাইভিং লাইসেন্স কেবল আইনগত অনুমতি নয়, বরং এটি চালকের দক্ষতা ও সঠিক ট্রাফিক নিয়ম মেনে চলার প্রমাণ। তবে অনেকেই জানতে চান—ড্রাইভিং লাইসেন্স করতে কত টাকা লাগে এবং কী কী কাগজপত্র প্রয়োজন হয়? আজকের এই আর্টিকেলে আমরা বিস্তারিত জানব ড্রাইভিং লাইসেন্সের খরচ, প্রয়োজনীয় কাগজপত্র এবং করণীয় ধাপসমূহ।

ড্রাইভিং লাইসেন্স করতে কত টাকা লাগে?

ড্রাইভিং লাইসেন্সের খরচ নির্ভর করে আপনি কোন ধরণের লাইসেন্স করছেন তার উপর। বাংলাদেশ সড়ক পরিবহন কর্তৃপক্ষ (BRTA) বিভিন্ন ক্যাটাগরির জন্য ভিন্ন ভিন্ন ফি নির্ধারণ করেছে। নিচে সাধারণ খরচের একটি ধারণা দেওয়া হলো:

  • লার্নার লাইসেন্স ফি (Learner’s License): প্রায় 345 টাকা থেকে 500 টাকা পর্যন্ত।

  • প্রাইভেট কার বা মোটরসাইকেল লাইসেন্স ফি: সাধারণত 3,060 টাকা থেকে 3,500 টাকা পর্যন্ত খরচ হয়।

  • পাবলিক/পেশাদার লাইসেন্স (যেমন বাস বা ট্রাক): প্রায় 5,000 টাকা থেকে 7,000 টাকা পর্যন্ত লাগে।

  • লাইসেন্স নবায়ন ফি: 2,500 টাকা থেকে শুরু করে গাড়ির ধরন ও মেয়াদের উপর নির্ভর করে পরিবর্তিত হয়।

এছাড়া মেডিকেল টেস্ট ফি, ছবি তোলার খরচ, এবং কিছু ক্ষেত্রে প্রশিক্ষণ ফি যোগ হলে খরচ কিছুটা বাড়তে পারে।

ড্রাইভিং লাইসেন্স করতে কি কি লাগে?

ড্রাইভিং লাইসেন্স করতে হলে আবেদনকারীর কিছু গুরুত্বপূর্ণ কাগজপত্র ও শর্ত পূরণ করতে হয়। এগুলো ছাড়া আবেদন গ্রহণ করা হয় না। প্রয়োজনীয় কাগজপত্র ও শর্তগুলো হলো:

  • ন্যাশনাল আইডি কার্ড (NID): আবেদনের জন্য অবশ্যই বৈধ জাতীয় পরিচয়পত্র থাকতে হবে।

  • শিক্ষাগত যোগ্যতা: ন্যূনতম অষ্টম শ্রেণি পাস হতে হবে।

  • লার্নার লাইসেন্স: মূল লাইসেন্সের আগে লার্নার লাইসেন্স নিতে হয়।

  • ছবি ও মেডিকেল সার্টিফিকেট: সাম্প্রতিক পাসপোর্ট সাইজ ছবি এবং অনুমোদিত ডাক্তারের মেডিকেল সার্টিফিকেট প্রয়োজন।

  • ফি জমার রসিদ: BRTA কর্তৃক নির্ধারিত ফি জমা দিতে হবে।

এছাড়াও, প্রফেশনাল লাইসেন্সের ক্ষেত্রে কাজের ধরন অনুযায়ী কিছু অতিরিক্ত কাগজপত্র জমা দিতে হতে পারে।

ড্রাইভিং লাইসেন্স করার ধাপসমূহ

ড্রাইভিং লাইসেন্স পাওয়ার জন্য নির্দিষ্ট প্রক্রিয়া মেনে চলতে হয়। ধাপগুলো হলো:

  1. লার্নার লাইসেন্সের জন্য আবেদন: প্রথমে BRTA অফিসে গিয়ে বা অনলাইনে লার্নার লাইসেন্সের জন্য আবেদন করতে হয়।

  2. লার্নার লাইসেন্স পরীক্ষণ: নির্ধারিত সময়ে লিখিত ও মৌখিক পরীক্ষা দিতে হয়।

  3. ড্রাইভিং টেস্ট: নির্দিষ্ট সময় পর ড্রাইভিং টেস্ট দিতে হয় যেখানে গাড়ি চালানোর দক্ষতা যাচাই করা হয়।

  4. ফি জমা ও আবেদন সম্পূর্ণকরণ: সব ধাপ সম্পন্ন হলে চূড়ান্ত লাইসেন্সের জন্য নির্ধারিত ফি জমা দিতে হয়।

  5. লাইসেন্স সংগ্রহ: সফলভাবে টেস্ট ও অন্যান্য প্রক্রিয়া শেষ করার পর BRTA থেকে মূল ড্রাইভিং লাইসেন্স সংগ্রহ করা যায়।

ড্রাইভিং লাইসেন্স করতে কত টাকা লাগে এবং কী কী প্রয়োজন তা মূলত নির্ভর করে আপনি কোন ধরণের লাইসেন্স করছেন তার উপর। প্রাইভেট বা মোটরসাইকেল লাইসেন্সের খরচ তুলনামূলকভাবে কম হলেও পেশাদার লাইসেন্সের জন্য কিছুটা বেশি টাকা গুনতে হয়। প্রয়োজনীয় কাগজপত্র যেমন জাতীয় পরিচয়পত্র, ছবি, মেডিকেল সার্টিফিকেট ও শিক্ষাগত যোগ্যতা থাকলেই আপনি সহজে আবেদন করতে পারবেন। তাই যারা এখনো লাইসেন্স করেননি, তারা দ্রুত প্রক্রিয়া সম্পন্ন করে বৈধভাবে গাড়ি চালানোর সুযোগ গ্রহণ করুন।

Leave a Comment