বর্তমান ডিজিটাল যুগে ইন্টারনেট ছাড়া জীবন যেন অচল। স্মার্টফোন, ভিডিও কল, অনলাইন ক্লাস, স্ট্রিমিং, গেমিং কিংবা মোবাইল ব্যাংকিং—সবকিছুর জন্য প্রয়োজন দ্রুতগতির ইন্টারনেট সংযোগ। সেই প্রয়োজন পূরণে ৪জি নেটওয়ার্ক এখন সবচেয়ে জনপ্রিয় ও কার্যকর। রবি বাংলাদেশের অন্যতম মোবাইল অপারেটর হিসেবে তার গ্রাহকদের জন্য ৪জি সেবা চালু করেছে অনেক আগেই। কিন্তু এখনো অনেক ব্যবহারকারী জানেন না, কীভাবে নিজের রবি সিমটিকে ৪জি-তে রূপান্তর করবেন। এই আর্টিকেলে আমরা বিস্তারিতভাবে জানবো রবি সিম ৪জি করার নিয়ম, সিম পরিবর্তন প্রসেস, ৪জি চেক করার উপায় এবং কীভাবে আপনি এই সেবার সর্বোচ্চ সুবিধা পাবেন।
রবি সিম ৪জি কিনা তা চেক করার উপায়
আপনার বর্তমান রবি সিমটি ৪জি সাপোর্ট করে কি না, তা জানার জন্য মোবাইল থেকেই সহজে যাচাই করা সম্ভব। এজন্য রবি প্রদান করছে একটি নির্দিষ্ট কোড। আপনার মোবাইল ফোনের ডায়াল অপশনে গিয়ে টাইপ করুন *123*44# এবং কল করুন। কিছুক্ষণের মধ্যেই একটি এসএমএস পেয়ে যাবেন, যেখানে জানিয়ে দেওয়া হবে আপনার সিমটি ৪জি উপযোগী কি না।
আরেকটি বিষয় হচ্ছে, শুধু সিম ৪জি হলেই চলবে না—আপনার মোবাইল ফোনটিও ৪জি সাপোর্ট করতে হবে। সেটিংসে গিয়ে “Mobile Network” বা “Preferred Network Type”-এ গিয়ে “4G” বা “LTE” অপশনটি রয়েছে কি না, তা দেখে নিতে হবে। পাশাপাশি আপনাকে এমন এলাকায় অবস্থান করতে হবে যেখানে রবি ৪জি নেটওয়ার্ক উপলব্ধ আছে।
৩জি সিমকে ৪জি-তে রূপান্তর করার নিয়ম
আপনার সিম যদি ৪জি না হয়, তাহলে সেটিকে খুব সহজেই ৪জি-তে আপগ্রেড করা সম্ভব। এজন্য প্রথমে আপনার নিকটস্থ রবি কাস্টমার কেয়ার বা রবি সেন্টার বা অনুমোদিত রিটেইলার দোকানে যেতে হবে। সেখানে গিয়ে আপনার জাতীয় পরিচয়পত্র (NID), পুরাতন রবি সিম এবং আপনার নিজের উপস্থিতি দেখিয়ে একটি ফ্রি ৪জি সিম সংগ্রহ করতে পারবেন।
রবি বর্তমানে ৩জি থেকে ৪জি সিমে হেল্পলাইনের মাধ্যমেও পরিবর্তনের সুযোগ দিচ্ছে। এজন্য আপনি ১২৩ নম্বরে কল করে বিস্তারিত জানতে পারেন। কিছু ক্ষেত্রে তারা হোম ডেলিভারি সেবাও দেয় নির্দিষ্ট এলাকার জন্য। এই প্রক্রিয়ায় আপনার পুরাতন সিম নম্বরটি একই থাকবে, শুধু সিম কার্ডটি পরিবর্তন হবে ৪জি সমর্থিত সিমে।
সিম পরিবর্তনের সময় আপনার পুরাতন সিমটি বন্ধ করে নতুন সিমটি মোবাইলে প্রবেশ করাতে হবে। নতুন সিম ইনসার্ট করার পর অটোভাবে নেটওয়ার্ক ধরবে। এরপর মোবাইলের নেটওয়ার্ক সেটিংসে গিয়ে ৪জি বা LTE অপশন সিলেক্ট করে নিলেই আপনি ৪জি স্পিডে ইন্টারনেট ব্যবহার শুরু করতে পারবেন।
রবি ৪জি ব্যবহারের সুবিধা ও কিছু গুরুত্বপূর্ণ তথ্য
রবি ৪জি নেটওয়ার্ক ব্যবহার করলে আপনি পাবেন অতিরিক্ত গতি ও স্থিতিশীলতা। ভিডিও স্ট্রিমিং, লাইভ ক্লাস, অনলাইন গেমিং কিংবা বড় ফাইল ডাউনলোড—সবকিছুই হবে আগের চেয়ে অনেক দ্রুত। রবি বর্তমানে দেশের প্রায় সব বড় শহর, জেলা সদর ও উপজেলায় ৪জি কাভারেজ সম্প্রসারণ করেছে। ফলে আপনি যেখানেই থাকুন, ৪জি ব্যবহারের সুযোগ পাবেন সহজেই।
রবি ৪জি ব্যবহার করতে হলে আপনাকে অবশ্যই একটি ৪জি সাপোর্টেড মোবাইল ফোন এবং সক্রিয় ৪জি সিম ব্যবহার করতে হবে। আপনি যদি নতুন রবি সিম কিনে থাকেন, তবে সেটি সাধারণত ৪জি থাকে। তবে পূর্বে নেওয়া পুরাতন সিম হলে যাচাই করে নিতে হবে।
অনেকেই প্রশ্ন করেন, রবি ৪জি চালু করলে ইন্টারনেট প্যাক পরিবর্তন করতে হবে কি না? উত্তর হলো—না। আপনি আপনার পূর্বের যেকোনো ইন্টারনেট প্যাকেই ৪জি স্পিড উপভোগ করতে পারবেন, যদি আপনার সিম ও মোবাইল ৪জি উপযোগী হয় এবং আপনি ৪জি কাভারেজ এলাকায় অবস্থান করেন।
রবি মাঝে মাঝে ৪জি সিমে আপগ্রেড করলে বিশেষ অফার বা বোনাস ডেটা দিয়ে থাকে। যেমন—৪জি সিম একটিভ করলেই প্রথমবার ৭ দিনের জন্য ৫০০ এমবি ফ্রি ডেটা ইত্যাদি। এ ধরনের অফারের জন্য রবি অফিশিয়াল ওয়েবসাইট অথবা অ্যাপ ব্যবহার করে খোঁজ রাখতে পারেন।
রবি ৪জি সেবা গ্রহণের মাধ্যমে আপনি পেতে পারেন উন্নততর নেটওয়ার্ক অভিজ্ঞতা ও দ্রুতগতির ইন্টারনেট সুবিধা। যারা এখনো ৩জি সিম ব্যবহার করছেন, তাদের উচিত দ্রুত ৪জি-তে রূপান্তর হওয়া, কারণ বর্তমান সময়ে অনলাইন কার্যক্রমে গতি একটি বড় ভূমিকা রাখে। এই আর্টিকেলে আমরা বিস্তারিত জানালাম কীভাবে রবি সিম ৪জি করা যায়, সিম চেকিং কোড, রূপান্তর প্রক্রিয়া এবং গুরুত্বপূর্ণ কিছু তথ্য। এখন আপনার পালা—আপনার রবি সিমটি যাচাই করুন এবং প্রয়োজন হলে ৪জি-তে আপগ্রেড করে উপভোগ করুন দ্রুতগতির সংযোগ।