সিম পরিবর্তন করতে কত টাকা লাগে? সিম পুনরায় চালু করার নিয়ম

বর্তমানে বাংলাদেশে মোবাইল ফোন ব্যবহারকারীর সংখ্যা কোটি কোটি। তবে নানা কারণে সিম হারিয়ে যাওয়া, নষ্ট হয়ে যাওয়া বা দীর্ঘদিন ব্যবহার না করার ফলে নিষ্ক্রিয় হয়ে যাওয়া একটি সাধারণ বিষয়। এই পরিস্থিতিতে অনেকেই জানতে চান — “সিম পরিবর্তন করতে কত টাকা লাগে?” বা “পুরাতন সিম পুনরায় চালু করার নিয়ম কী?”। এই আর্টিকেলে বিস্তারিত আলোচনা করা হলো সিম পরিবর্তন এবং পুনরায় চালুর খরচ ও পদ্ধতি নিয়ে।

সিম পরিবর্তন করতে কত টাকা লাগে?

সিম পরিবর্তন বলতে বোঝায় পুরাতন সিম কার্ডটির পরিবর্তে নতুন সিম গ্রহণ করা, যেটি সাধারণত তখনই প্রয়োজন হয় যখন:

  • সিম কার্ডটি হারিয়ে যায়

  • কার্ডটি নষ্ট হয়ে যায় বা ফোনে কাজ করে না

  • মাইক্রো/ন্যানো সিমে রূপান্তরের প্রয়োজন হয়

বিভিন্ন অপারেটরের জন্য সাধারণ সিম পরিবর্তন ফি (২০২৫ সালের হালনাগাদ):

  • গ্রামীণফোন (GP): প্রায় ২০০ টাকা (সিম রিপ্লেসমেন্ট ফি)

  • রবি (Robi): ২০০ টাকা

  • বাংলালিংক (Banglalink): ২০০ টাকা

  • এয়ারটেল (Airtel): ২০০ টাকা

সার্ভিসের অন্তর্ভুক্ত থাকে:

  • নতুন সিম

  • পুরাতন নম্বর অপরিবর্তিত রাখা

  • ৪G অথবা eSIM এ আপগ্রেড (যদি প্রয়োজন হয়)

প্রয়োজনীয় ডকুমেন্টস:

  • জাতীয় পরিচয়পত্র (NID)

  • পূর্বের সিমের রেজিস্টার্ড নাম্বার

  • এক বা একাধিক শেষ কল নম্বর (ভেরিফিকেশনের জন্য)

সিম পুনরায় চালু করার নিয়ম

অনেক সময় সিম দীর্ঘদিন ব্যবহার না করায় নিষ্ক্রিয় হয়ে পড়ে। কিন্তু সেই নাম্বারেই গুরুত্বপূর্ণ কাজ, যেমন ব্যাংক OTP, ফেসবুক/ইমেইল ভেরিফিকেশন, ইত্যাদি যুক্ত থাকে। এমন অবস্থায় সিম পুনরায় চালু করার প্রয়োজন হয়।

সিম নিষ্ক্রিয় হওয়ার কারণ:

  • 90-180 দিন পর্যন্ত ব্যবহার না করা

  • ব্যালেন্স শেষ হয়ে যাওয়া ও কোনো কার্যক্রম না করা

  • টেলিকম কোম্পানির নিয়ম অনুযায়ী অটো ডিএক্টিভেশন

সিম চালু করার প্রক্রিয়া:

  1. নিকটস্থ কাস্টমার কেয়ার সেন্টারে যান
    আপনি যে অপারেটরের সিমটি পুনরায় চালু করতে চান, তাদের কাস্টমার কেয়ারে সরাসরি যোগাযোগ করুন (GP Center, Robi Sheba, Banglalink Center, ইত্যাদি)।

  2. জাতীয় পরিচয়পত্র নিয়ে যান
    আপনাকে অবশ্যই রেজিস্টার্ড মালিক হতে হবে বা মালিকের অনুমতি থাকতে হবে। এনআইডি ও সিম নম্বর সঙ্গে নিতে হবে।

  3. ভেরিফিকেশন প্রক্রিয়া সম্পন্ন করুন
    তারা কিছু নিরাপত্তামূলক প্রশ্ন করবে — যেমন শেষ কল নম্বর, শেষ রিচার্জের তারিখ ইত্যাদি।

  4. সিম রিএক্টিভেশন ফি প্রদান করুন

    • সাধারণত ১০০ থেকে ২০০ টাকা চার্জ নিয়ে পুনরায় চালু করা হয়

    • কোনো কোনো সময় অফার বা প্রোমোশন অনুযায়ী বিনামূল্যেও চালু করা হয়

  5. নতুন সিমে পুরাতন নম্বর দেওয়া হবে
    আপনার পুরাতন মোবাইল নম্বরটি পুনরায় নতুন সিমে অ্যাক্টিভেট করে দেওয়া হবে।

কিছু গুরুত্বপূর্ণ পরামর্শ

  • আপনার সিম যদি অনেকদিন নিষ্ক্রিয় থাকে, নম্বরটি কোম্পানি রিসাইকেল করে অন্য ব্যবহারকারীর কাছে দিতে পারে। তাই দ্রুত ব্যবস্থা নিন।

  • সিম রিপ্লেস করার সময় অবশ্যই আপনার পরিচয় যাচাই হবে, তাই ভুল তথ্য বা অন্য কারও এনআইডি ব্যবহার করে সিম নেওয়া কঠিন।

  • eSIM-এর জন্য আলাদা প্রক্রিয়া রয়েছে, যেখানে ফোনে ইলেকট্রনিকভাবে সিম ইনস্টল হয় — এটি অনেক সময় অনলাইনেই করা যায়।

সিম পরিবর্তন কিংবা পুনরায় চালু করা এখন আর জটিল কোনো বিষয় নয়। প্রয়োজনীয় ডকুমেন্টস এবং প্রমাণ থাকলেই সহজে ও অল্প খরচে আপনি আগের নাম্বারটি ফিরে পেতে পারেন। মোবাইল নম্বর আমাদের ডিজিটাল পরিচয়ের একটি গুরুত্বপূর্ণ অংশ — তাই সিম সংক্রান্ত সব তথ্য ও নিয়ম সম্পর্কে সচেতন থাকা জরুরি।

Leave a Comment